সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারেননি সড়কমন্ত্রী : ফখরুল

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২২, ০২:২৩ এএম

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘একজন সড়কমন্ত্রী হিসেবে ওবায়দুল কাদের সারা দেশের সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পারেননি। আজকে গোটা সড়ক ব্যবস্থাকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। প্রতিদিনই সড়কে ঝরছে মানুষের প্রাণ।’

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে লোডশেডিং ও জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ অভিযোগ করেন।

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসের ১১ শিক্ষার্থীর নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গত শুক্রবার ১১ জন্য ছাত্র মাইক্রোবাসে করে যাচ্ছিলেন। রেলগেট ক্রসিং করার সময় ট্রেন এসে মেরে দিয়ে তাদের সবাইকে হত্যা করেছে। এ রকম অসংখ্য নজির প্রতিদিন আমরা দেখতে পাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধ আওয়ামী লীগ যদি আবারও ক্ষমতায় আসে কিংবা অন্যায়ভাবে থাকতে পারে, তাহলে এ দেশের যে স্বপ্ন সেই স্বপ্ন ধ্বংস হয়ে যাবে। আমরা যারা এ দেশের মানুষ, যারা আজকে ৫০ বছর পরে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি, আমরা আশা করেছিলাম গণতান্ত্রিক দেশ পাব। আমরা আশা করেছিলাম যে এখানে একটা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। কিন্তু সবকিছুকে এই আওয়ামী লীগ তাদের চুরি, তাদের ডাকাতি, তাদের লোভ, সেই লোভের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই কর্তৃত্ববাদী শাসন গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দিয়েছে। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা একদম রসাতলে চলে গেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে সরকার দেশকে যেখানে নিয়ে গেছে, সেখান থেকে আমাদের তুলে আনতে হবে। কারণ বিএনপি হচ্ছে সেই দল যে দল জনগণের দল, যারা জনগণকে স্বপ্ন দেখায়। নিঃসন্দেহে জনগণের আন্দোলনে জয়লাভ করে যদি আমরা সরকার গঠন করতে পারি, তাহলে অবশ্যই এসব সমস্যার সমাধান করব এবং এ দেশকে সত্যিকার অর্থেই একটা জনগণের রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।’

দলের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আজ শপথ নিতে হবে যে আমরা সবাই এই ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাব। এর জন্য এক দফা, এক দাবি নিয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে হবে। বাংলা সাহিত্যে একটা খনার  বচন আছে, “রাজার দোষে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়”। এই যে আমরা কষ্ট পাচ্ছি, এর জন্য দায়ী হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার, এর দায়ী হচ্ছে এই সরকার।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সমুদ্র থেকে বা আমাদের দেশের মাটি থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য আমরা একটা সারজার্চ দিই, পয়সা দিই। তা দিয়ে একটা ফান্ড  তৈরি করা হয়েছিল। সেটার প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা এই সরকার গ্যাস কেনার জন্য নিয়ে গেছে। এটা আরেক বাটপারি, আরেকটা ডাকাতি। একদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নাম করে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে দেশের বাইরে। আরেক দিকে জ্বালানি হিসেবে এলএনজি-এলপিজি গ্যাস আমদানি করছে। কারা আমদানি করেছে? তারা আপনারা চেনেন। এরা সব আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা। এভাবে তারা দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের নামে একটা ভাঁওতাবাজি জনগণের সামনে, বিশে^র সামনে তুলে ধরছে। আবার তারা কী বলে? উন্নয়নের রোল মডেল, উন্নয়নের মিথ। বিশ্বকে ভুল বোঝাতে থাকে যে মেগা প্রজেক্ট হচ্ছে। চতুর্দিকে টানেল, চ্যানেল, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এসব দেখাচ্ছে, এতে দেশের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা অর্থনীতিবিদরা তুলে ধরছেন।’

দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনুর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, সেলিমুজ্জামান সেলিম, মীর নেওয়াজ আলী, সাইফুল আলম নিরব, মহানগর দক্ষিণের হাবিবুর রশীদ হাবিব, ইশরাক হোসেন, নবী উল্লাহ নবী, ইউনুস মৃধাসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত