এশিয়া সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি তাইওয়ান সফর করতেও পারেন। বাইডেন প্রশাসনের আপত্তি সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাট ওই নেত্রী তাইওয়ান সফর করবেন এমন বার্তা দিয়েছেন তাইওয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। পেলোসির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাইওয়ান সফরের বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। আবার বিশ্ব গণমাধ্যমে পেলোসির তাইওয়ান সফর নিয়ে যেসব বক্তব্য আসছে, এর বিরোধিতাও করেননি তিনি। ফলে গোটা পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তারা নিয়মিতই পেলোসির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছেন। পেলোসি স্বাধীনভাবে যদি তাইওয়ান সফর করেন, এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন প্রশাসনের কিছু করার থাকবে না। যদিও পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, পেলোসিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র চীনের ওপর স্নায়ুবিক চাপ তৈরি করতে চাইছে। এই চাপে চীন নতিস্বীকার করে কি না তাই এখন দেখার বিষয়।
অবশ্য কূটনীতির মাঠের বাইরে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। চীনের হুমকি ও সামরিক মহড়ার ফলে সংঘাতের আশঙ্কা দানা বাঁধছে। এতে করে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটন-পেইচিংয়ের সম্পর্কে নতুন মোড় নিচ্ছে। ইউক্রেন সংকট সামাল দিতে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অনেক দেশ যখন হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে নতুন সংঘাত আরও বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে, এমন আশঙ্কাও দানা বাঁধছে। এমন সংকটের স্ফুলিঙ্গ হতে পারে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর।
আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এক চীন নীতি’ মেনে ওয়াশিংটন এতকাল তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক দূরত্ব বজায় রেখে এসেছে। কিন্তু চীনের বেড়ে চলা আগ্রাসী মনোভাবের মুখে এবার বাইডেন প্রশাসন প্রকাশ্যে তাইওয়ানের পাশে দাঁড়াতে এত বড় ঝুঁকি নেয় কি না, আপাতত সে বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। পেলোসি এরই মধ্যে তার এশিয়া সফরের শুরুতে সিঙ্গাপুরে এসে পৌঁছেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের এক প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এখনো পর্যন্ত পেলোসির সফর তালিকায় শুধু সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নাম রয়েছে। তবে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর নিয়ে চরম হুমকি দিয়েছে পেইচিং।
এদিকে তাইওয়ানের কাছে বিশাল সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। গত শনিবার চীনের মূল ভূখণ্ড ও তাইওয়ানের মাঝে শক্তি প্রদর্শন করেছে চীনা নৌবাহিনী। বিমানবাহিনীও গত রবিবার তাইওয়ানের কাছে নজরদারি চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রও গত সপ্তাহে দক্ষিণ চীন সাগরে ‘ইউএসএস রোনান্ড রেগান’ নামের একটি রণতরী পাঠিয়েছে। তবে ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপকে পূর্ব-পরিকল্পিত হিসেবে বর্ণনা করছে।
এমন প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের ওপর চীনের সামরিক হামলার আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার হামলার পর চীন এমন চরম পদক্ষেপ নিতে আরও ‘সাহস’ পেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং গত সপ্তাহে পেলোসির সম্ভাব্য তাইওয়ান সফর সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে সতর্ক করে দেওয়ার পর উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
টেলিফোনে শি বাইডেনকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ওয়াশিংটন প্রশাসন এই মুহূর্তে নতুন যুদ্ধের ঝুঁকি নিতে কতটা প্রস্তুত, সে বিষয়ে সংশয় দেখা যাচ্ছে। চীন তাইওয়ানের ওপর সরাসরি হামলা চালালে ওয়াশিংটন সামরিক হস্তক্ষেপ করবে কি না, সে বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনেরও কোনো স্পষ্ট অবস্থান নেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন পরিস্থিতি শান্ত করতে গত শুক্রবার বলেছিলেন, তাইওয়ানের প্রশ্নে চীনের সঙ্গে মতপার্থক্য সত্ত্বেও গত প্রায় চার দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে।
