শৈলকুপায় হিন্দু গ্রামে হামলা নারীসহ আহত ১৫

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ০২:২২ এএম

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে হিন্দু অধ্যুষিত একটি গ্রামে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এতে আহত হয়েছে উভয়পক্ষের নারীসহ অন্তত ১৫ জন। গত রবিবার রাতে ৮ নম্বর ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়নের কামারিয়া গ্রামে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন কামারিয়া গ্রামের কমল মন্ডল (৫৫), ভরত মন্ডল (৪৮), দীপক মন্ডল (৩০), সজল মন্ডল (৩২) ও দিলীপ মন্ডল (৪২)। গ্রামবাসী জানায়, গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হিন্দু অধ্যুষিত কামারিয়া গ্রামের বিজয়ী ইউপি সদস্য (মেম্বার) রতন কুন্ু ও পরাজিত সদস্য লক্ষীকান্তের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। কয়েক দিন আগে লক্ষীকান্তের সমর্থক সুশান্ত মন্ডল পাশের রত্নহাট গ্রাম থেকে কয়েকজন যুবককে নিয়ে কামারিয়া গ্রামে চায়ের দোকানে মহড়া দেয়। গ্রামবাসী খবর দিলে পুলিশ এসে তাদের তাড়িয়ে দেয়। এরই জেরে রাতে তারা ওই গ্রামে হামলা চালিয়ে ৬টি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করে। মারধরে আহত হয় নারীসহ অন্তত ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

হামলার শিকার কামারিয়া গ্রামের সুনীল বলেন, ‘কে বা কারা পেছন থেকে এসে আমার মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যায়। তবে কে আঘাত করল আমি দেখতে পাইনি।’

ধলহরাচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রতন কুন্ডুঅভিযোগ করে বলেন, ‘পাশর্^বর্তী বগুড়া ইউনিয়নের মেম্বার ফরিদ মুন্সীর নেতৃত্বে লোকজন এসে আমাদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট করে পালিয়ে যায়।’

তবে বগুড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফরিদ মুন্সী অভিযোগ অস্বীকার করে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার নেতৃত্বে কামারিয়া গ্রামে কোনো হামলা হয়নি। ওরা নিজেরা নিজেদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত না।’

কামারিয়া গ্রামের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন শৈলকুপা থানার ওসি আমিনুল ইসলাম। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত