প্রথম অধ্যায় : আকাইদ
(গত সংখ্যার পর)
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
সুমাইয়া ও সামিয়া দুই বান্ধবী। নুহাশপল্লীতে বেড়াতে যাবে বলে দুজনেই দিনতারিখ ঠিক করে। সুমাইয়া নির্দিষ্ট তারিখে প্রস্তুতি নিয়ে সামিয়ার অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু সামিয়া তার বাবার কাছ থেকে টিফিন, কাগজ ও কলমের অজুহাত দিয়ে বেশ কিছু টাকা নিয়ে আদিবার সঙ্গে মার্কেটে ঘুরতে চলে যায়। পরদিন সামিয়ার সঙ্গে সুমাইয়ার দেখা হয়। সুমাইয়া বিষয়টি উত্থাপন করলে উভয়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং উভয়ই মনঃক্ষুণœ হয়।
ক. মুনাফিকের চিহ্ন কয়টি?
খ. তাকদিরে বিশ্বাস বলতে কী বোঝায়?
গ. সামিয়ার আচরণে কী প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. সুমাইয়ার কার্যক্রমের ফলাফল পাঠ্যপুস্তকের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর
ক. মুনাফিকের চিহ্ন তিনটি।
খ. তাকদির অর্থ ভাগ্য। এটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হয়। ভালো-মন্দ যা কিছু তা সবই তার হুকুমে হয়, এই বিশ্বাস করাই তাকদিরে বিশ্বাস।
গ. সামিয়ার আচরণে নিফাকি প্রকাশ পেয়েছে। নিফাক হলো নৈতিকতা ও মানবিকতার আদর্শের বিপরীত কাজ। যারা নিফাকি করে তাদের মুনাফিক বলে। এ সম্বন্ধে রাসুলের হাদিস
“মুনাফিকের নিদর্শন তিনটি। যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, ওয়াদা করলে তা ভঙ্গ করে এবং যখন তার কাছে কোনো কিছু গচ্ছিত রাখা হয়, তখন তার খিয়ানত করে” (সহিহ্ বুখারি ও সহিহ্ মুসলিম)।
উদ্দীপকের সামিয়া তার বান্ধবীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার জন্য দিনক্ষণ ঠিক করে ওয়াদাবদ্ধ হয়। কিন্তু ওইদিন সে সুমাইয়ার সঙ্গে বেড়াতে না গিয়ে আদিবার সঙ্গে মার্কেটে যায়। তার এ ধরনের কাজে ওয়াদাভঙ্গ হয় এবং এতে নিফাকি প্রকাশ পায়।
ঘ. সুমাইয়ার কার্যক্রমের ফলাফল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার কার্যক্রমে মুমিনের বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে। কেননা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকে লক্ষ করলে দেখা যায় সুমাইয়ার সঙ্গে সামিয়ার এই ওয়াদা হয় যে, তারা একটি নির্দিষ্ট সময়ে নুহাশপল্লীতে বেড়াতে যাবে। সুমাইয়া কথা অনুযায়ী সামিয়ার অপেক্ষায় তার ওয়াদা রক্ষা করেছে।
এর ফলে সে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করবে। সে তার সততা ও সত্যবাদিতার প্রতিদান স্বরূপ মানুষের শ্রদ্ধা, স্নেহ, ভালোবাসা লাভ করবে। সে উভয় জগতেই সাফল্য লাভ করবে। সে আল্লাহ ও রাসুলের প্রিয়পাত্র হিসেবে আখিরাতে চিরশান্তির স্থান জান্নাত লাভ করবে। সে চিরকালব্যাপী সেখানে বসবাস করবে এবং জান্নাতের অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করতে পারবে। এ ব্যাপারে আল্লাহ বলেন “নিশ্চয়ই যারা ইমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের আপ্যায়নের জন্য রয়েছে ফিরদাউস জান্নাত। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।’’ (সুরা আল কাহাফ : ১০৭-১০৮)
