হিটে ব্যর্থ ইমরানুর, সেরা লঙ্কান স্প্রিন্টার

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২২, ১১:৫৫ পিএম

দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম স্প্রিন্টার হিসেবে মর্যাদার আন্ডার-১০ ক্লাবে নাম তুলেছেন শ্রীলঙ্কান গতিমানব আবেকুন উপুন প্রিয়দর্শনা। গত জুলাইয়ে সুইজারল্যান্ডে ৯.৯৬ সেকেন্ডে দৌড়ে চমকে দেন সবাইকে। ২০১৯ এসএ গেমসের দ্রুততম মানব ফের চমকে দিলেন কাল। এবার অবশ্য দশের নিচে দৌড়াননি। তবে ১০.০৬ সেকেন্ডে স্প্রিন্ট তাকে বসিয়েছে হিটে ৭০ জন স্প্রিন্টারের সবার ওপরে। এমনকি এবারের ফেভারিট কেনিয়ান ওমানিয়ালা ফার্দিনান্দ, গেলবার ১০০ মিটারে সেরা দক্ষিণ আফ্রিকার আকানি সিম্বাইন, ক্যামেরুন তারকা ইমানুয়েল এসামে, এ বছর ৯.৯০ সেকেন্ডে দৌড়ানো বেঞ্জামিন আজামাতিও পারেননি হিটে তাকে পেছনে ফেলতে। একজন দক্ষিণ এশিয়ানকে নিয়ে যখন হইচই পড়ে গেছে বার্মিংহামের আলেকজান্ডার স্টেডিয়ামে, তখন ওই অঞ্চলের অন্যরা সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। পারেননি বলেই ইমরানুর রহমানকে নিয়ে অন্যরকম কিছুর আশাটা শেষ হয়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী ইমরানুর নিজের সেরাটাও দিতে পারেননি কাল। সাত নম্বর হিটে দৌড়েছেন ১০.৪৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের আগে অনুশীলনে ১০.২৭ সেকেন্ড দৌড়েছিলেন তিনি। তবে তার জাতীয় রেকর্ড ছিল ১০.৪৭ সেকেন্ড। গতকাল নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তবে পারেননি হিটের বাধা টপকাতে। হিটে তৃতীয় ও সম্মিলিত তালিকায় ৩৩তম হয়েছেন তিনি। তার চেয়ে টাইমিংয়ে এগিয়ে ছিলেন পাকিস্তানের শাজার আব্বাস। ১০.৩৮ সেকেন্ডে ফিনিশলাইন ছুঁয়ে জায়গা করে নিয়েছেন সেমিফাইনালে। ১০.৩৯ সেকেন্ড টাইমিং করে সবশেষ প্রতিযোগী হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছেন অস্ট্রেলিয়ার জেইক ডোরান। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চল থেকে মালদ্বীপের হাসান সাইদের তুলনায় অবশ্য ইমরানুরের টাইমিং ভালো। সাইদ ১০.৭৫ সেকেন্ডে দৌড়ে হন ৪৯তম।

তুলনাটা কেবলই আগামী বছর এসএ গেমসে চোখ রেখে। মর্যাদার ১০০ মিটারে উপুন যে পর্যায়ে দৌড়াচ্ছেন, তাতে আজ পদকের অন্যতম দাবিদার তিনি। ২০১৫ সাল থেকে ইতালিতে ট্রেনিংয়ে থাকা ২৭ বছরের লঙ্কান অ্যাথলেট এ বছর আছেন ফর্মের তুঙ্গে। প্রতিবারই হচ্ছে টাইমিংয়ের উন্নতি। এসএ গেমসের গণ্ডি ছাড়িয়ে তিনি দেখতে শুরু করেছেন আরও বড় আসরে সাফল্যের স্বপ্ন। এই পারফরম্যান্স ধরে রাখলে এসএ গেমসের তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর তেমন কেউ নেই। ইমরানুরের অবশ্য সুযোগ আছে পাকিস্তানের আব্বাসকে পেছনে ফেলার। সেটাও আজও হতে পারত। হয়নি বলেই আরেকটি হতাশার দিন কাটাতে হয়েছে এখনো পদক তালিকায় নাম তুলতে না পারা বাংলাদেশের। ইমরানুর অবশ্য এটাকে বড় অভিজ্ঞতা হিসেবে নিয়েছেন, ‘খেলায় সবসময় আপনি নির্ভুল থাকতে পারবেন না। এটা আমার জন্য বড় অভিজ্ঞতা, যেটা কাজে লাগিয়ে সামনে ভালো করতে চাই। সব মিলিয়ে যদি বলতে চাই, আমি সন্তুষ্ট নই।’ উপুনের প্রসঙ্গ টানতে ইমরানুর জোর গলায় দিচ্ছেন এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি, ‘এসএ গেমস এখনো এক বছর বাকি। এর মধ্যে অনেক কিছুই হতে পারে। সময়ই বলে  দেবে কে সেরা।’

সুমাইয়া দেওয়ানকে নিয়ে অবশ্য বড় কোনো স্বপ্ন ছিল না। বাংলাদেশের দ্রুততম মানবী তিন নম্বর হিট শেষ করেছেন সবার শেষে। তবে ব্যক্তিগত টাইমিংয়ের উন্নতি হয়েছে তার। আগের সেরা টাইমিং ছিল ১২.৯১। কাল দৌড়েছেন ১২.৪২ সেকেন্ডে। ৪৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ৪২তম। নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক আসরে টাইমিংয়ে উন্নতিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন ১৭ বছরের সুমাইয়া, ‘জীবনের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিয়েছি। এর আগে জুনিয়র অ্যাথলেটিক্সে অংশ নিয়েছিলাম। সিনিয়রে প্রথম, তাই কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। এতসব বড় বড় তারকার সঙ্গে দৌড়াতে যে পরিমাণ অভিজ্ঞতা ও সাহস প্রয়োজন, সেটাতে আমার ঘাটতি আছে। অনেক কিছুতেই আমার উন্নতি করতে হবে। স্টার্টিংয়েই আমি পিছিয়ে পড়েছিলাম। এটা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

এসএ গেমসে অনেক দিন স্প্রিন্টে স্বর্ণপদক জেতেনি বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠা ইমরানুরকে ঘিরে উজ্জ্বল অতীত ফেরানোর একটা আশা ছিল। তবে উপুনের মতো বিশ্বমানের স্প্রিন্টার মেলায় সেই আশাও এখন দূর কল্পনা। আপাতত ইমরান রাখতে চান আগামী সপ্তাহে তুরস্কতে শুরু হতে যাওয়া ইসলামি সলিডারিটি গেমসে। সেখানে তিনি দৌড়াতে চান এই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত