রাজধানীতে উদ্ধার নতুন মাদক কুশ হেম্প, মলি

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২, ০৩:১৭ এএম

রাজধানীতে নতুন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে র‌্যাব। বিদেশে প্রচলিত এসব মাদক দেশে আনা ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশান থেকে ওনাইসি সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদ (৩৮) নামে এ যুবককে আটক করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাঈদের গুলশানের ফ্ল্যাট থেকে এক্সট্যাসি, কুশ, হেম্প, মলি, এডারল, ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি প্রায় ৩ কোটি টাকা সমমূল্যের দেশি-বিদেশি মুদ্রা জব্দ করা হয়। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে দেশে অপ্রচলিত মাদক এক্সট্যাসির একটি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে জানতে পারে র‌্যাব। সেই সূত্র ধরে সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, কুশ ও হেম্প দুটোই গাঁজার দুটো ধরন। আবার এক্সট্যাসি ও মলি মেথামফিটামিন মাদকের দুটি ধরন। সাঈদকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যে মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে তাপনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ‘গ্রো-টেন্ট’র মাধ্যমে কুশ চাষ করা হতো। এ মাদকের বীজ কানাডা থেকে এক বন্ধুর মাধ্যমে দেশে আনেন সাঈদ। বিদেশে উচ্চ শিক্ষাগ্রহণকারী এবং উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান সাঈদ একাধিক নতুন মাদকের কারবারসহ কুশ নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন।

কমান্ডার আল মঈন জানান, সাঈদ দেশে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ও কলেজ থেকে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিবিএ ও এমবিএ করেন। পড়াশোনা শেষে ২০১৪ সালে দেশে ফিরে তিনি বাবার টেক্সটাইল ব্যবসা দেখভাল শুরু করেন। গত চার বছর ধরে কানাডায় অবস্থানরত ফয়সাল নামে এক বাংলাদেশির মাধ্যমে সাঈদ মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশে নতুন মাদক এক্সট্যাসির কারবারের অন্যতম হোতা ওনাইসি সাঈদ। দেশে বেশ কয়েকজন তার সহযোগী হিসেবে কাজ করে। নতুন মাদক সাঈদ পার্সেলের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে সংগ্রহ করেন। মাঝেমধ্যে নিজেও বিদেশে গিয়ে লাগেজে করে মাদক নিয়ে আসতেন। সাঈদ পার্সেলে মাদক আনার ক্ষেত্রে নিকট আত্মীয়, বন্ধুবান্ধবের নামে নিয়ে আসতেন। হুন্ডির মাধ্যমে মাদকের অর্থ পরিশোধ করতেন বলে তিনি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।

এসব মাদকের ক্রেতা কারা এমন প্রশ্নের উত্তরে র‌্যাব কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ ধনাঢ্য পরিবারের সদস্য। এছাড়া অভিজাত এলাকায় বিভিন্ন পার্টিতে চাহিদার ভিত্তিতে সরবরাহ করতেন সাঈদ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাঈদ জানিয়েছেন, নতুন বিভিন্ন মাদকের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির ফলে তিনি এ নিয়ে অধ্যয়ন এবং গবেষণা শুরু করেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নত দেশে সরবরাহ করার জন্য তিনি কুশ চাষ শুরু করেন। পরীক্ষামূলকভাবে তিনি সাত মাস ধরে ঢাকার মোহাম্মদপুরে এক ফ্ল্যাটের ভেতর তাপ নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিতে কুশ চাষ করছিলেন। ইতিমধ্যে একবার কুশ তুলে ও ব্যবহার উপযোগী করে দেশে বিক্রিও করেন।

এসব মাদক তৈরি এবং নতুন মাদক আনার বিষয়ে সাঈদের পেছনে আর কারও হাত রয়েছে কি না প্রশ্ন করা হলে আল মঈন বলেন, সাঈদ অধ্যয়ন করে মাদক বিশেষজ্ঞ হতে চেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে মাদক, বিশেষ ক্ষমতা আইনে ও মানি লন্ডারিং মামলা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল মোমেন, র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম বিভাগের সহকারী উপপরিচালক মেজর রইসুল আজম মনি, সহকারী পরিচালক এএসপি আ ন ম ইমরান খান ইমন ও র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী পরিচালক মেজর শাকিল আহমেদ প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত