‘ফুটপাতে কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি’ শিরোনামে দৈনিক দেশ রূপান্তরে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিলো গত ২৮ জুলাই। সংবাদ প্রকাশের ছয়দিন পর বুধবার (৩ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ শহরের সেই ফুটপাতে অভিযান চালিয়ে ২ শতাধিক অবৈধ বিদুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)।
বুধবার (০৩ আগস্ট) বিকেলে থেকে রাত পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া, বঙ্গবন্ধু সড়ক, সিরাজদ্দৌল্লা সড়ক, কালীরবাজার, দিগুবাবুরবাজার, শায়েস্তা খাঁ সড়ক, ২নং রেলগেইট ও ১নং রেলগেইট অভিযান চালিয়ে দুশতাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
ডিপিডিসির এনওসিএস নারায়ণগঞ্জ (পূর্ব) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোরশেদ জানান, বিদ্যুৎ সাশ্রয় রোধে সরকার রাত ৮টার মধ্যে দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাত ৮টার মধ্যে সকল দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ করতে হবে। আর তা না হলে সেইসব মার্কেটের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহরের ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। আমরা শহরের বিভিন্ন সড়কে অভিযান চালিয়ে দু’শতাধিক অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছি। যারা অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়েছে আমরা তাদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করছি। এবং তাদেরকে সতর্ক করে দিয়েছি।এরপরও যদি তারা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ চালায় প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযাকালে নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোরশেদের নেতৃত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. জোনায়েদ হাসান নাজমুল, উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন, উপ- সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ রানা, উপ- সহকারী প্রকৌশলী কুদরত আলী, নির্বাহী প্রকৌশলী (অতি. দায়িত্ব) মো. মশিদুল হক, সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াদ হোসেন, সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার মো.ফাইনুর ইসলাম প্রমুখ।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দৈনিক দেশ রূপান্তরের শেষের পাতায় ‘ফুটপাতে কোটি টাকার বিদ্যুৎ চুরি শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে বলা হয়, বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজসে এবং সরকারদলীয় নামধারী নেতাদের স্বজনরা নারায়ণগঞ্জ শহরের ফুটপাতে কয়েকশ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে। বাতি প্রতি প্রতিদিন আদায় করছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। এতে করে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা এই চক্র লোপাট করছে।
