স্টার্টআপ কোম্পানির মুনাফায় আসতে দীর্ঘসময় প্রয়োজন হয়। আবার স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর সফলতার হারও খুব কম। তবে দেশের যোগ্য স্টার্টআপ কোম্পানিকে অর্থায়নে সহযোগিতা করা হবে বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের জন্য আলাদা প্ল্যাটফর্ম গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর নিকুঞ্জের ডিএসই ভবনে ‘ক্যাপিটাল মার্কেট অব বাংলাদেশ প্রসপেক্ট অ্যান্ড অপরচুনিটিস ফর টেক স্টার্টআপ অ্যান্ড গ্রোথ স্টেজ কোম্পানিজ’ শীর্ষক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন এসইসি চেয়ারম্যান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।
এসইসি চেয়ারম্যান বলেন, স্টার্টআপ কোম্পানির মুনাফা করতে সময় লাগে। তবে লোকসানে থাকলেও ছাড় বা সুযোগ দিয়ে (ওয়েভার) পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ আছে। তবে এজন্য আইন পরিবর্তন করে সব লোকসানি স্টার্টআপ কোম্পানিকে বাজারে আনা যাবে না। তাহলে যেসব কোম্পানি ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারে ফন্দিফিকির করে, তারা সুযোগ নেবে।
তিনি বলেন, ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত নিয়ে ঋণ দেয়। অন্যদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে ব্যাংকগুলোকে অনেক সাবধান হতে হয়, জামানত নিতে হয়। কিন্তু স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো নতুন জেনারেশন গঠন করে। অনেকের স্টার্টআপ কোম্পানি চালানোর জ্ঞান থাকলেও সেভাবে সম্পদ থাকে না। এ জাতীয় কোম্পানিকে কমিশন সহযোগিতা করবে। তবে কোম্পানিগুলো পুঁজিবাজারে আসতে চাইলে অবশ্যই কমপক্ষে ১০ শতাংশ শেয়ার ইস্যু করতে হবে। অন্যথায় আমরা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ পাব না।
স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন বোর্ড গঠন করার কথা বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিবলী রুবাইয়াত। কারণ স্টার্টআপ কোম্পানিগুলো মূল বা এসএমই মার্কেটে এসে খাপ খাওয়াতে পারবে না। তবে উন্নতি করার পরে এসএমইতে দেওয়া হবে। আরও উন্নতির পরে এসএমই থেকে মূল মার্কেটে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, পুঁজিবাজারের সক্ষমতা বাড়াতে আইসিবি বিভাগ ৭ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে এসইসিকে সহযোগিতা করবে। এসইসিকে বিশ্ব পুঁজিবাজারে নেতৃত্বে আনতে আইসিটি বিভাগ প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোতে বিনিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী ৫০০ কোটি টাকা দিয়েছেন, যা ২০২৫ সালের মধ্যেই বিনিয়োগ করা হবে।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সিলিকন ভ্যালি থেকে শুরু করে ভারতের স্টার্টআপ নিয়ে করা স্টাডিতে আমরা দেখেছি বিশ্বে মাত্র ১০ শতাংশ স্টার্টআপ সফল হয়। বাকি ৯০ শতাংশ ব্যর্থ হয়। কিন্তু ১০ শতাংশ সফল স্টার্টআপের রিটার্ন ৯০ শতাংশ ব্যর্থ স্টার্টআপকে ছাড়িয়ে যায়। আমাদের সামনে পাঠাও, বিকাশ, চালডাল, শপআপ-এর উদাহরণ। গত পাঁচ বছরে এসব কোম্পানির সাফল্য অর্থনীতিতে ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রেখেছে।
তিনি বলেন, আমাদের (বাংলাদেশের) আড়াই হাজার স্টার্টআপ সফল হয়েছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্টে সাড়ে সাত হাজার স্টার্টআপ আবেদন করেছে, সবাই সফল হয়নি। কিন্তু এই পাঁচ-দশটা স্টার্টআপ যে পরিমাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে, অর্থনীতিতে যে পরিমাণ অবদান রেখেছে সেটা অনেক অনেক গুণ বেশি।
জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, কয়েক বছর আগে যেসব স্টার্টআপকে আমরা মাত্র ১০ লাখ টাকা দিয়েছি, তাদের অনেকে এখন কয়েকশ’ মিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। দেশের আড়াই হাজার স্টার্টআপ প্রায় ১৫ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে এসইসির কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের দুয়ার সবসময় স্টার্টআপ কোম্পানির জন্য খোলা। আপনারা কমিশনে আসেন। আপনাদের কথা গুরুত্ব সহকারে শুনতে চাই। সমস্যা থাকলে, তা সমাধান করা হবে। আমাদের দেশে তহবিলের সমস্যা নেই, আছে স্পৃহার অভাব।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এনএম জিয়াউল আলম। ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে বিভিন্ন স্টার্টআপ কোম্পানির উদ্যোক্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
