ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক সামিয়া রহমানের পদাবনতির সিদ্ধান্ত অবৈধ। এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে বাতিল ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত।
গবেষণা নিবন্ধে ‘চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে’ সামিয়া রহমানকে দুই বছরের জন্য পদাবনতি দিয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা প্রশ্নে দেওয়া রুল যথাযথ উল্লেখ করে গতকাল বৃহস্পতিবার রায় দেয় বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো. আখতারুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়ের ফলে সামিয়া রহমান স্বপদে বহাল হয়ে প্রাপ্য সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
উপর্যুক্ত অভিযোগে গত বছর ২৮ জানুয়ারি সামিয়া রহমানকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে একধাপ নামিয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদাবনতির সিদ্ধান্ত দেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভা। এর আগে শাস্তি নির্ধারণে ২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর সিন্ডিকেট সভায় তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে সামিয়া রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মাহফুজুল হক মারজানের যৌথ নিবন্ধ ‘আ নিউ ডাইমেনশন অব কলোনিয়ালিজম অ্যান্ড পপ কালচার : আ কেস স্টাডি অব দ্য কালচারাল ইমপেরিয়ালিজম’ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ‘সোশ্যাল সায়েন্স রিভিউ’ জার্নালে প্রকাশিত হয়। অভিযোগ উঠে, এটি ১৯৮২ সালের শিকাগো ইউনিভার্সিটির জার্নাল ‘ক্রিটিক্যাল ইনকোয়ারি’তে প্রকাশিত ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর ‘দ্য সাবজেক্ট অ্যান্ড পাওয়ার’ নামের নিবন্ধ থেকে প্রায় পাঁচ পৃষ্ঠা হুবহু নকল করা হয়েছে। সামিয়ার সহকর্মী মাহফুজুল হক মারজানকে শাস্তি হিসেবে তার শিক্ষা ছুটি শেষে চাকরিতে যোগদানের পর দুই বছর একই পদে থাকতে হবে বলে জানায় সিন্ডিকেট সভা।
এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন সামিয়া রহমান। রিটের শুনানি শেষে গত বছর ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট সামিয়া রহমানের পদাবনতির সিদ্ধান্তের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয়। অভিযোগ নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের নথি দাখিলের নির্দেশও দেয় হাইকোর্ট। রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হলো।
আদালতে সামিয়া রহমানের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী হাসান এমএস আজিম। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাঈম আহমেদ।
ব্যারিস্টার হাসান এমএস আজিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যে ট্রাইব্যুনাল প্রতিবেদন দিয়েছিল তারাই হাইকোর্টকে বলেছে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। আমাদের বক্তব্য ছিল প্রমাণিত হয়নি যখন, তখন সাজা কেন? হাইকোর্টের এ রায়ের ফলে যেদিন বিশ^বিদ্যালয় সিন্ডিকেট এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেদিন থেকে তিনি (সামিয়া রহমান) ওই পদে ছিলেন বলে গণ্য হবে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষের আইনজীবী নাঈম আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তার (সামিয়া রহমান) বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তার সম্পর্কে নয়, রায় হয়েছে উনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিন্ডিকেট যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছে তার ত্রুটি নিয়ে। এ কারণে সিন্ডিকেটের ওই প্রক্রিয়া বাতিল হয়ে যায় এবং রায় তার পক্ষে গেছে। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পেলে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে তারা আপিল করবে কি না।’
