‘চাকা’ ছায়াপথের চকচকে ছবি

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৫ এএম

মহাজগৎকে নতুন করে দেখাচ্ছে এক হাজার কোটি ডলার খরচ করে বানানো জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (জেডব্লিউএসটি)। মহাকাশের একের পর এক বিস্ময় জাগানো ছবি পাঠিয়ে যাচ্ছে টেলিস্কোপটি। এরই ধারাবাহিকতায় অনেকটা ঘোড়ার গাড়ির চাকার মতো দেখতে একটি ছায়াপথ বা গ্যালাক্সির চকচকে ছবি বিশ্ববাসীর সামনে নিয়ে এলো যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার এই টেলিস্কোপ। দেখতে চাকার মতো হওয়ায় ছায়াপথটির নাম ‘কার্টহুইল গ্যালাক্সি’। আগেও এই ছায়াপথের ছবি মহাকাশ গবেষকদের সামনে এলেও গ্যাস এবং ধুলার কারণে সেগুলো তেমন স্পষ্ট ছিল না। তবে এবার শক্তিশালী জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের ইনফ্রারেড প্রযুক্তির মাধ্যমে স্পষ্টভাবে ধরা দিলো পৃথিবী থেকে ৫০ কোটি আলোকবর্ষ দূরের কার্টহুইল গ্যালাক্সি। ছায়াপথটির কাছাকাছি থাকা অপেক্ষাকৃত ছোট দুটি ছায়াপথও ধরা পড়েছে টেলিস্কোপে। নাসা বলছে, এসব ছবির মাধ্যমে লক্ষ-কোটি বছর ধরে ছায়াপথগুলোতে চলমান বিবর্তনকে নতুন করে জানা-বোঝার সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে। 

জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের অন্যতম অংশীদার ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ) গত মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম টুইটারে কার্টহুইল গ্যালাক্সির ছবি প্রকাশ করে। এক টুইটার পোস্টে ইএসএ জানায়, ‘আগের কয়েকটি টেলিস্কোপেও কার্টহুইল গ্যালাক্সি দেখা গেছে, কিন্তু গ্যাস-ধূলিকণায় আমাদের দৃষ্টিসীমা আটকে গিয়েছিল। এবার জেমস ওয়েবের ইনিফ্রারেড প্রযুক্তির চিত্রধারণ সক্ষমতার মাধ্যমে ছায়াপথটির গতিপ্রকৃতিকে নতুনভাবে দেখার সুযোগ পাওয়া গেছে।’

মহাকাশ গবেষকদের মতে, মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে এসব ছায়াপথের সূত্রপাত হয়েছে। শক্তিশালী ধাক্কার প্রভাবে সৃষ্ট বলয় ছড়িয়ে গিয়ে এমন চাকা আকৃতি পেয়েছে। অনেকটা পুকুরে ঢিল ছুড়লে পানির মধ্যে যে গোলাকৃতির অবয়ব সৃষ্টি হয় তেমনটাই হয়েছে। জেমস ওয়েবের পাঠানো ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কার্টহুইলের ভেতরে একটি সাদাটে বলয় আছে এবং বাইরের দিকে আরেকটি প্রসারিত বলয়। মহাকাশবিজ্ঞানীরা বলছেন ভেতরের উজ্জ্বল রিংটিতে আছে বিপুল পরিমাণ গরম ধূলিকণা এবং বাইরের বলয়টিতে রূপ নিচ্ছে নতুন নতুন নক্ষত্র। বাইরের বলয়টি প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন বছর ধরে প্রসারিত হচ্ছে।    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত