বেশি লাভের আশা দিয়ে কোটি টাকার প্রতারণা

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২২, ০২:৪৮ এএম

অনলাইনে বিনিয়োগ করে বেশি টাকা মুনাফার লোভ দেখিয়ে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘সিলেজ সাইট’ নামে একটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম দিকে ছোট অঙ্কের বিনিয়োগে কিছু মুনাফা দিয়ে গ্রাহক টানত। পরে গ্রাহকরা বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করলে কথিত প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ডিজেবল (নিষ্ক্রিয়) করে অফিসে তালা দিয়ে পালাত প্রতারক চক্রটির সদস্যরা। গত বুধবার বরিশাল থেকে এই নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার। গ্রেপ্তাররা হলেন রনি খান (৩২), আরজু আক্তার (২৭) ও তাসনিম রহমান (২৫)। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, বিকাশ ও নগদের তিনটি এজেন্ট সিম, বিভিন্ন ব্যাংকের কয়েকটি চেক বই ও এক লাখ ২৮ হাজার ৬৩০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

এই প্রতারক চক্রের কার্যক্রমের বিষয়ে জানাতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার এস এম আশরাফুল আলম বলেন, ‘গ্রেপ্তাররা সিলেজ সাইট নামে একটি অনলাইন ইনভেস্টমেন্ট ব্যবসা চালু করে। সেখানে সাধারণ মানুষদের বেশি আয়ের লোভ দেখিয়ে প্রলুব্ধ করত। প্রথম দিকে ছোট অঙ্কের ইনভেস্টমেন্টের কিছু মুনাফা দিয়ে তারা মানুষকে আকৃষ্ট করত। এতে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানুষ বেশি টাকা সিলেজ সাইটে বিনিয়োগ করে। গ্রাহকের টাকা ডিপোজিট হওয়ার পর সিলেজ সাইট নামে ওয়েবসাইটটি ডিজেবল করে দিত চক্রটি। এ ছাড়া তাদের কথিত অফিসে তালা লাগিয়ে গ্রাহকের লাখ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যেত।’

চক্রটি তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছিল জানিয়ে সিআইডি কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘এজেন্টদের কাছ থেকে সাধারণ মানুষের টাকা তারা নগদ/বিকাশ/ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সংগ্রহ করত। চক্রটির এসব কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশের কাছে তিনটি অভিযোগ আসে। এছাড়া গত ২৭ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সিলেজ সাইটের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা মানববন্ধন করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে চক্রটির ওপর নজরদারি শুরু করে সিআইডির সাইবার পুলিশ।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সংগ্রহ করা টাকা ক্যাশ করে (নগদায়ন) গ্রেপ্তাররা দুবাই প্রবাসী সানজিদা ও তার স্বামী আশিকের নির্দেশে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করে দিত। তাদের কাছ থেকে জব্দ হওয়া মোবাইলে বিভিন্ন ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। মূলত চক্রটিকে দুবাই থেকে সানজিদা-আশিক দম্পতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। তাদের বর্ণনামতে গত ৩-৪ মাসে তারা প্রায় চার কোটিরও বেশি টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে জমা করেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত