ছাত্রদলের কর্মসূচি পালন ছাত্রলীগের নির্দেশনায়!

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ০২:৫১ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল কয়েক দফা সংঘর্ষের পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিন ও এর আশপাশ এলাকায় কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেখা যাচ্ছে না ছাত্রদল নেতাকর্মীদের। যদিও ওই সংঘর্ষের আগে নিয়মিত মধুর ক্যান্টিনেও বসেছে তারা। সংঘর্ষের আগে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও টিএসসি এলাকায় মিছিল সমাবেশ করলেও হামলা-পরবর্তীকালে ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখগুলোকে কর্মসূচির জন্য বেছে নিয়েছে ছাত্রদল। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের সামনে থেকে মিছিল শুরু করে শহীদ মিনার হয়ে বকশিবাজার মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ করেছে তাদের কর্মসূচি। আর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের প্রবেশমুখে এসব মিছিল-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মে মাসের সংঘর্ষের পর ছাত্রলীগের হামলার আতঙ্কে এক সপ্তাহ ক্যাম্পাসেই ঢোকেননি ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে আয়োজিত এক সমাবেশে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ছাত্রদলকে ক্যাম্পাসে আসতে হলে ক্ষমা চাইতে হবে। এরপর ছাত্রদলের শীর্ষ নেতারা ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাম্পাসে ঢোকার অনুমতি নেন। তবে ছাত্রদলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও শহীদ মিনারের আশপাশে তাদের কর্মসূচি সীমাবদ্ধ রাখার শর্ত দেয় ছাত্রলীগ। সেই শর্ত অনুযায়ী গত দুই মাস ধরে কর্মসূচি পালন করছে ছাত্রদল।

এ সময়কালে ছাত্রদলের পালন করা কর্মসূচি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীসংশ্লিষ্ট ও জাতীয় বিভিন্ন ইস্যুতে প্রতিবাদ-মিছিল-সমাবেশ করেছে ঢাবি ছাত্রদল। যে কর্মসূচিগুলোর অধিকাংশ শুরু করা হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) জরুরি বিভাগ অথবা বহির্বিভাগের সামনে থেকে। মিছিলগুলো শহীদ মিনার হয়ে বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখ বকশিবাজার মোড়ে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার একজন যুগ্ম আহ্বায়ক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত ক্যাম্পাসে আসার চেষ্টা করছি। তবে বিভিন্ন কারণে ক্যাম্পাসের ভেতরে সভা-সমাবেশ করতে পারছি না। আমাদের শীর্ষ নেতারা ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে একটা সমঝোতায়ই এসেছে, যার জন্য আমরা ক্যাম্পাসের প্রবেশপথে মিছিল সমাবেশ করছি।’

এদিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে, ঢাবি ছাত্রদলের তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি এরই মধ্যে তিন বছর পার করেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটির শীর্ষ নেতারা কোনো প্রকার ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকতে চান না। বরং তারা ছাত্রলীগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ক্যাম্পাসের আশপাশে কর্মসূচি পালন করতে চান।

তবে এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেছেন ঢাবি ছাত্রদলের সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্রলীগের সঙ্গে আমাদের সেই সম্পর্ক নেই যে আমরা সমঝোতায় যাব। তারা আমাদের ওপর যেকোনো সময় হামলা করতে পারে সেই আশঙ্কায় আমরা এ রুটটিতে (ঢামেক-শহীদ মিনার-বুয়েট- বকশিবাজার মোড়) মিছিল-সমাবেশ করছি। তবে আমরা শিগগিরই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে আমাদের অধিকার আদায় করব।’

অন্যদিকে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যাদের ছাত্রত্ব আছে তারা ক্যাম্পাসে আসবে, এখানে ছাত্রলীগের বাধা দেওয়ার কিছু নেই। ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসে সবার সহাবস্থানে বিশ্বাস করে। ছাত্রলীগ কোনো সংগঠনের কর্মসূচিতে বাধা প্রদান করে না। যারা নিয়মিত ছাত্র তারা ক্যাম্পাসে আসবে। কিন্তু অছাত্র ও বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হলে ছাত্রলীগ তার জবাব দেবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত