বাঁহাতি স্পিনার অভাব বোধ করেছেন তামিম, দিলেন পরিবর্তনের ইঙ্গিত

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২২, ০২:০৬ পিএম

বাংলাদেশকে ভাবা হয় বাঁহাতি স্পিনারের স্বর্গরাজ্য। বাহাতি স্পিন ও টাইগারদের জয় যেন ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে। দেশের ওয়ানডে ইতিহাসের একটি জয়ের ম্যাচেই ছিলেন না কোনো বাঁহাতি স্পিনার, সেটা ২০১৯ সালে ক্যারিবিয়নদের বিপক্ষে। শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও সে স্মৃতি রোমন্থনের সুযোগ হত, যদি তামিম-রিয়াদরা জিততে পারতেন। অফস্পিনে ভরা একাদশে গতকাল ছিলেন না কোনো বাঁহাতি স্পিনার। ম্যাচ শেষে অধিনায়কের কণ্ঠেও ফুটে উঠেছে বাঁহাতি স্পিনারের অভাব। ইঙ্গিত দিয়েছেন পরের ম্যাচে আসতে পারে এর পরিবর্তন।

হারারেতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডের একাদশ ঘোষণার পর খুব একটা শোরগোল ছিল না, তবে ছন্নছাড়া বোলিং শেষে প্রশ্নটা উঠেছে জোরেশোরেই। প্রথম ম্যাচে শুক্রবার চার বিশেষজ্ঞ বোলার নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তিন পেসারের সঙ্গে একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পঞ্চম বোলার মোসাদ্দেকও মিরাজের মতোই অফ স্পিনার। মাহমুদউল্লাহ এবং আফিফ হোসেনও অফ স্পিনার। স্পিন বিভাগে তাই বৈচিত্রের অভাব ছিল স্পষ্ট। একাদশে এতজন অফস্পিনার, কেন একজন বাঁহাতি স্পিনার নেই?

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক তামিম ইকবালও অভাব বোধ করেছেন একজন বাঁহাতি স্পিনারের, ‘এখন চিন্তা করলে, অবশ্যই মনে হচ্ছে একজন বাঁহাতি স্পিনার থাকলে ভালো হতো। তবে আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এটাকে ভুল বলব না। আজকে আগে বোলিং করলে হয়তো ভিন্ন চিত্র হতো। তবে অবশ্যই এটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে যে পরের ম্যাচের কম্বিনেশন কী হতে পারে।’

জিম্বাবুয়ে বরাবরই বাঁহাতি স্পিনে নড়বড়ে। তাদের ব্যাটিংয়ের বড় দুই ভরসা, দুই বাঁহাতি ক্রেইগ আরভিন ও শন উইলিয়ামস এই সিরিজে নেই। প্রথম ম্যাচে তাদের ব্যাটিং অর্ডারের শুরুর ৬ জনের সবাই ছিলেন ডানহাতি। ‘ম্যাচ আপ’-এর জন্য হলেও তাই একজন বাঁহাতি স্পিনার অনায়াসেই থাকতে পারতেন একাদশে।

বাংলাদেশের স্কোয়াডে বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার আছেন দুইজন-তাইজুল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ। গত মাসেই বাংলাদেশের সবশেষ ওয়ানডেতে সিরিজে অভিষেকে দারুণ বোলিং করেছেন নাসুম। সেই সিরিজের শেষ ম্যাচে তাইজুল নিয়েছেন ৫ উইকেট। এমন কীর্তির পরের ম্যাচেই একাদশের বাইরে থাকার ঘটনা বাংলাদেশে তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল।

জিম্বাবুয়ের কাছে ৩০৩ রানের পুঁজি নিয়ে ৫ উইকেটে হারার পর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক তামিম স্বীকার করে নিলেন, ‘একজন বাঁহাতি স্পিনার প্রয়োজন ছিল এ দিন। তবে বাঁহাতি স্পিনার থাকলেই বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবে ম্যাচ জিতে যেত, সেটাও মানতে নারাজ অধিনায়ক। সিকান্দার রাজা সহজ ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান। ইনোসেন্ট কাইয়াও জীবন পান। ক্যাচ পড়েছে এ দিন আরও দুটি। দিনশেষে যতই বলি না কেন যে ওটা করতে পারতাম, সেটা করতে পারতাম, কিন্তু আমাদের তো সুযোগ এসেছিল। সুযোগগুলো নিতে পারলে… হারার পর নানা যদি, কিন্তু আসবেই। কিন্তু আমরাই সুযোগ হাতছাড়া করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত