মাউন্ট এভারেস্ট থেকে ২০০ মিটার ছোট কে-টু পর্বতশৃঙ্গ। ১৯৫৪ সাল থেকে মাত্র ৪২৫ জন এর চূড়ায় আরোহণ করেন। এর মধ্যে ২০ জন নারী। বাংলাদেশের ওয়াসফিয়া নাজরীনসহ ৯ নারী পর্বতারোহী ২২ জুলাই এক দিনে ‘মৃত্যু অঞ্চল’ খ্যাত এই শৃঙ্গের সর্বোচ্চ চূড়া জয় করে ইতিহাস গড়েছেন। লিখেছেন নাসরিন শওকত
কে-টুর চূড়ায় পা রাখার নেশায় বিশে্বর বিভিন্ন দেশের পর্বতারোহীরা প্রতি বছর পাকিস্তানের কারাকোরাম রেঞ্জে আসেন। এ অভিযানে পাকিস্তানের পর্বতারোহীদের দল ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, লেবানন, নেপাল, ফিলিপাইন, এস্তোনিয়া, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড অস্ট্রেলিয়া, হংকং, আর্জেটিনা ও যুক্তরাজ্য থেকেও আসেন। এ বছর প্রায় ১৪শ’ বিদেশি পর্বতারোহী পাকিস্তানের গিলগিট বালতিস্তানের বিভিন্ন পর্বতে আরোহণের জন্য আসেন। কে-টুর ২০২২ সালের গ্রীষ্মকালের একদিনের অভিযানে ২২ জুলাই নতুন করে অনেক রেকর্ডের ইতিহাস হয়েছে। ৪০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম কে-টুতে ১০০টি অভিযান পূর্ণ হয়েছে। এবারের গ্রীষ্মকালীন কে-টু অভিযানে ৯ নারী পর্বতারোহী একই দিনে সর্বোচ্চ চূড়া জয় করে ইতিহাস গড়েছেন। তাদের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া থেকে ওয়াসফিয়া নাজরীনসহ পাঁচজন সামিনা বেগ, নায়লা কিয়ানি, গ্রেস সেং ও হাই জিং, ইউরোপ থেকে দুজন স্টেফি ট্রোগেট ও ক্রিস্টিন হরিলা এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দুজন আফসানেহ হেসামি ফ্রাদ ও নেলি আত্তার রয়েছেন।
কে-টু পর্বতশৃঙ্গ
কে-টু বিশে^র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ শৃঙ্গের উচ্চতা প্রায় ৮ হাজার ৬১১ মিটার (২৮ হাজার ২৫১ ফুট)। হিমালয়ের কারাকোরাম পর্বত রেঞ্জের অন্তর্গত এই পর্বতশৃঙ্গটি কারাকোরাম পর্বতশ্রেণির দ্বিতীয় চূড়া হওয়ায় এর নাম কে-টু। এই পর্বতশৃঙ্গকে এভারেস্টের চেয়েও ভয়ংকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারাকোরাম পর্বতমালার দুই শৃঙ্গ কে-টু ও ব্রড পিক। কে-টু পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের গিলগিট বালতিস্তান ও চীনের জিনজিয়ানের তাক্সফোরগান সীমান্তে অবস্থিত। ১৮৫৬ সালে কর্নেল মন্টকুমেরি ভারতের ব্রিটিশ একটি সমীক্ষার অংশ হিসেবে কে-টু আবিষ্কার করেন। ১৯৮০ সালের শীতকালে প্রথম বারের মতো এভারেস্ট আরোহণ সফল হয়। সর্বোচ্চ পর্বত এভারেস্টে মৃত্যু যেখানে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ সেখানে কে-টুতে মৃত্যুর হার ২৫ শতাংশ। হিমালয় পর্বতমালার সবচেয়ে উত্তরে অবস্থিত কে-টু পর্বতশৃঙ্গ। উঁচু পর্বত হওয়ায় উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা প্রবল সাইবেরিয়ান তুষার ঝড় জোরালোভাবে এই পর্বতে আঘাত হানে। তাই শীতকালে এই পর্বত ভয়ংকর থেকে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সে সময় বাতাসের গতিবেগ থাকে ২শ’ কিলোমিটার এবং তাপমাত্রা ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যায়।
কে-টু অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় এটি ‘জংলি পর্বত’ নামেও পরিচিত। এই পর্বতশৃঙ্গের আবহাওয়া দ্রুত বদলায়। তাছাড়া উচ্চতার কারণেও সেখানে অক্সিজেনের অভাবও পর্বতারোহীদের পরীক্ষাকে আরও কঠিন করে তোলে। এর ওপর টানা কয়েক দিনের তীব্র তুষার ঝড় প্রায়ই অনেকের মৃত্যু কারণ হয়ে থাকে। কে-টুর এলাকাকে তাই ‘মৃত্যু অঞ্চল’ও (ডেথ জোন) বলা হয়। সবশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সাল পর্যন্ত ৩৭৭ জন কে-টু জয় করেছেন। আর মারা গেছেন ৯১ জন। বিশ্বের ১৪টি ৮ হাজার উচ্চতার শৃঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে কে-টুর অবস্থান মাউন্ট এভারেস্টের (৮৮৪৮ মিটার) পরই। উচ্চতায় ব্রড পিক (৮০৫১ মিটার) বিশ্বে দ্বাদশ। বিশে^র ৮ হাজার মিটারের বেশি উঁচু ১৪টি পর্বত রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটিরই অবস্থান পাকিস্তানে।
ওয়াসফিয়া নাজরীন
দক্ষিণ এশিয়ার থেকে প্রথম বাংলাদেশি নারী পর্বতারোহী ও প্রথম বাঙালি হিসেবে ওয়াসফিয়া নাজরীন বিশে^র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ পাকিস্তানের কারাকোরাম বা কে-টু জয় করেছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই পবর্তারোহী ২২ জুলাই সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে কে-টুর চূড়ায় পা রাখেন। ওয়াসফিয়ার ১২ পর্বতারোহীর দলে তিনিই ছিলেন একমাত্র বাংলাদেশি।
বিশে^র সবচেয়ে শক্তিশালী ও বিখ্যাত তিন পর্বতারোহী মিংমা তেনজি শেরপা, মিংমা ডেভিড শেরপা ও নির্মল পূরজার নেতৃত্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু জয়ের অভিযান শুরু করেন ওয়াসফিয়া। তবে খারাপ আবহাওয়ার জন্য ওয়াসফিয়ার সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছানোর অভিযান কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে যায়। পরে ১৭ জুলাই রাতে কে-টুর চূড়ায় ওঠার যাত্রা শুরু করে চার দিন পর ২২ জুলাই সকালে কে-টুর চূড়ায় পা রাখেন ওয়াসফিয়া নাজরীন।
এর আগে ওয়াসফিয়া ২০১১ সালের ২ অক্টোবর আফ্রিকার সর্বোচ্চ পর্বত কিলিমানজারো ও একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর দক্ষিণ আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত অ্যাকোনকাগুয়া জয় করেন। বাংলাদেশের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে তিনি সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও (সেভেন সামিট) জয় করেছেন। এর আগে ২০১২ সালে ২৬ মে সকাল ৭টায় দ্বিতীয় ও সর্বকনিষ্ঠ বাংলাদেশি নারী পর্বতারোহী হিসেবে বিশে^র সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ এভারেস্ট জয় করেন।
ওয়াসফিয়া নাজরীন ১৯৮২ সালের ২৭ অক্টোবর ঢাকায় জন্ম নেন। পাঁচ বছর বয়সে তিনি পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম চলে যান। ঢাকার স্কলাসটিকা স্কুল থেকে ওয়াসফিয়া ইংলিশ মিডিয়ামে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পাস করেন। এরপর ১৮ বছর বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টার এগনেস স্কট বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে যান। পরে এগনেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্টাডি ট্রান্সফার করে স্কটল্যান্ডে যান। সেখানে দুই বছরে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন। এরপর একজন উন্নয়নকর্মী হিসেবে তিনি ভারতের হিমাচল প্রদেশের ধর্মশালায় ৭ বছর কাজ করেন। এ-সময়ের মধ্যে তিনি নেপাল, ভুটান ও ভারতের হিমালয়ের পাদদেশের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে কাজ করেছেন। ২০১৬ সাল থেকে ওয়াসফিয়া তার নিজের ফাউন্ডেশন ‘উসেল’-এর জন্য কাজ করছেন।
সামিনা বেগ
পাকিস্তানের প্রখ্যাত পর্বতারোহী সামিনা খায়াল বেগ। তিনি প্রথম পাকিস্তানি নারী পর্বতারোহী হিসেবে বিশে^র দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পবর্তশৃঙ্গ কে-টু জয় করেছেন। ১৭ জুলাই স্থানীয় সময় সকালে ৩১ বছর বয়সী এই পর্বতারোহী কে-টুর সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছান। ওই দিন সকাল ৭টা ৪২ মিনিটে সামিনা ও তার দল কারাকোরাম রেঞ্জের ৮,৬১১ মিটার উচ্চতার বন্য এই পর্বতশৃঙ্গের সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছান। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার প্রতিকূল আবহাওয়ার জন্য তিনি ও তার দল সর্বোচ্চ চূড়ায় ওঠার অভিযান স্থগিত করেছিলেন।
সামিনা বেগ ১৯৯০ সালে পাকিস্তানের গিলগিট বালতিস্তানের হুজনা জেলার গোজাল তেহশিলের শিমশাল গ্রামে জন্ম নেন। ১৫ বছর বয়সে ভাই মির্জা আলির হাতে সামিনার পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণের হাতেখড়ি। সামিনার চার বছর বয়স থেকেই পর্বতে চড়া শুরু করেন। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি পর্বত আরোহণে গাইড ও অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্বও দিতেন। ২০০৯ সাল থেকে সামিনা একজন পেশাদার পর্বতারোহীর জীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে সামিনা প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের ৬ হাজার মিটার উঁচু পর্বত কাশকিন সরের চূড়ায় আরোহণ করেন। ২০১৩ সালে ১৯ মে ২১ বছর বয়সে সামিনা পাকিস্তানের প্রথম নারী পর্বতারোহী হিসেবে বিশে্বর সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের গৌরব অর্জন করেন। পাকিস্তানের একমাত্র নারী পর্বতারোহী হিসেবে সাত মহাদেশের সাতটি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গও জয় করেন।
নায়লা কিয়ানি
কে-টুর চূড়ায় সামিনা বেগের পা রাখার মাত্র তিন ঘণ্টা পর আরেক পাকিস্তানি পর্বতারোহী দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এই পর্বতশৃঙ্গ জয় করেন। তিনি দুবাইয়ে বসবাসরত নায়লা কিয়ানি। পাকিস্তানের দ্বিতীয় নারী পর্বতারোহী হিসেবে নায়লা ২২ জুলাই সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ৮ হাজার মিটার উঁচু কে-টু এর চূড়ায় পা রেখে ইতিহাস গড়েন। তিনিই প্রথম পাকিস্তানি নারী যিনি প্রথম প্রচেষ্টায় এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
নায়লা পেশায় একজন ব্যাংকার। এছাড়াও তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন বক্সার, পর্বতারোহী। ২০২১ সালে তিনি প্রথম পাকিস্তানি নারী হিসেবে ৮ হাজার মিটার উঁচু পর্বতারোহণ করে রেকর্ড গড়েন। এ-সময়ের দিকেই তিনি বিশ্বের তেরতম উঁচু (৮ হাজার ৩৫ মিটার) পর্বত গাসেরব্রুম-২ আরোহণও করেছিলেন। এর পরই তিনি বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু জয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিলকুইস ও আব্দুল রাজাক দাউদ (ইঅজউ) ফাউন্ডেশননের পৃষ্ঠপোষকতায় নায়লা কে-টু অভিযানে নামেন। তিনি দুই সন্তানের মা।
গ্রেস সেং
দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ তাইওয়ানের প্রথম পর্বতারোহী হিসেবে গ্রেস সেংও একই দিন কে-টু জয় করেছেন। ২৯ বছর বয়সী সেং ২২ জুলাই সম্পূরক অক্সিজেন ছাড়াই তাইওয়ানের প্রথম ও সবচেয়ে কম বয়সী পর্বতারোহী হিসেবে কে-টুর সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রেখে রেকর্ড গড়েছেন। ওই দিন কে-টু জয়ের কয়েক ঘণ্টা পরই নিজের ফেইসবুক পেজে তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ৬১১ মিটার উঁচুতে পা রাখার ঘোষণা দেন।সেং দ্বিতীয়বারের প্রচেষ্টায় সফলতার সঙ্গে এবার কে-টুর সর্বোচ্চ চূড়া জয় করেছেন। সেং এর এবারের কে-টু অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন নেপালের পর্বতারোহী নিমা গালজেন শেরপা ও নিংমা দরজে তামাং। সেং ফেইসবুকে জানিয়েছেন, গতবারের ব্যর্থ প্রচেষ্টা তার এবারের কঠিন অভিযানে নতুন করে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যোগ করেছিল। তিনি জানিয়েছেন, এবার তিনি অনেক বেশি সতর্ক ছিলেন এবং আবহাওয়া পরিস্থিতিও বেশ অনুকূলে ছিল। তারপরও সর্বোচ্চ চূড়া ছোঁয়ার আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে তীব্র বাতাস তাদের ৮০ সদস্যদের দলকে চূড়ায় উঠতে বাধা দেয়।
চলতি বছরের শীতকালেও গ্রেস সেং পাকিস্তান ও চীনের মধ্যবর্তী সীমান্ত থেকে প্রথমবারের মতো কে-টু অভিযানে যান। কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে মাত্র কয়েকশ’ মিটার বাকি থাকতেই অভিযান বাতিল করে ফিরে আসতে হয় তাকে। সেং তার ৩০তম জন্মদিনের আগে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে কমপক্ষে ৮ হাজার মিটার উচ্চতার বিশ্বের ১৪টি চূড়ায় আরোহণের ইচ্ছা করেন।ইতিমধ্যেই এর ৯টি চূড়ায় তিনি আরোহণ করেছেন। আর পাঁচটি চূড়া আরোহণ করা বাকি আছে। আর এই পাঁচ চূড়া জয় করতে তার হাতে আছে আরও চার মাস সময় । এর আগে ২০২১ সালে ১২ মে তিনি বিশে^র সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টর চূড়ায়ও পা রাখেন। সেং এর আগে ২০১৯ সালে তাইওয়ানের পর্বতারোহী চ্যাং ইউয়ান-চিহ ও লু ঝং হান শীতকালে কে-টু শৃঙ্গে আরোহণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৮ হাজার ২শ’ মিটার ওঠার পর মাত্র আর ৪শ’ মিটার বাকি থাকতেই অভিযান সমাপ্ত করতে বাধ্য হন।
হাই জিং
এদিকে ২২ জুলাই চীনের নারী পর্বতারোহী হাই জিং অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই কে-টুর চূড়ায় পা রাখেন। এর আগেও তিনি অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই মাউন্ট এভারেস্টে আরোহণ করেছিলেন।
স্টেফি ট্রোগেট
অ্যান্ডোরা ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যবর্তী দেশ। ইউরোপের ছোট্ট এই দেশের পর্বতারোহী স্টেফি ট্রোগেট ২২ জুলাই অতিরিক্ত অক্সিজেন ছাড়াই বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টু জয় করেছেন। তিনি তার এই অভিযানকে ২০২১ সালে শীতকালে কে-টু অভিযানে গিয়ে পর্বত থেকে পড়ে মারা যাওয়া প্রয়াত তিন পর্বতারোহীর নামে উৎসর্গ করেন। প্রয়াত তিন পবর্তারোহী হলেন- সার্গেই মিনগোতে, আলি সাদপারা ও অ্যান্তোনিও আতানাস। এ বছরের ২১ জুন তিনি ব্রড পিক ও কে-টু জয়ের লক্ষ্যে স্কারদুতে পৌঁছান। আলি সাদপারার ছেলে সাজিদ সাদপারা স্টেফির কে-টু অভিযানে নেতৃত্ব দেন। ওই দিনই স্কারদু থেকে তারা কে-টুর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন।
আফসানেহ হেসামি ফ্রাদ
ইরানের প্রথম নারী পর্বতারোহী হিসেবে একইদিন (২২ জুলাই) আফসানেহ হেসামি ফ্রাদ কে-টুর সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণ করে ইতিহাস গড়েছেন। এদিন তিনি একদল পাকিস্তানি নারী পর্বতারোহীদের সঙ্গে অভিযানে গিয়ে সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রাখেন। এ বছরের মে মাসে হেসামি ফ্রাদ তৃতীয় নারী পর্বতারোহী হিসেবে বিশে^র সর্বোচ্চ পবর্ত মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় পৌঁছান। ২০১৯ সালে ইরানের পর্বতারোহী হোসেইন বাহমানিয়ারও কে-টু আরোহণ করেছিলেন।
নেলি আত্তার
নেলি আত্তার একজন লেবানিজ পর্বতারোহী। সৌদি আরবে তার জন্ম নেওয়া ও বেড়ে ওঠা। প্রথম আরব নারী হিসেবে তিনি ২২ জুলাই কারাকোরাম রেঞ্জে অবস্থিত পর্বত কে-টুর চূড়ায় পৌঁছানার গৌরব অর্জন করেন। ২০ জুন তিনি কে-টু জয়ের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেন। এর আগে তিন বছর ধরে তিনি এই অভিযানে নামার পরিকল্পনা করছিলেন। আত্তার একজন পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে ২০১৭ সালে কাজ শুরু করেন। পরে সৌদির খেলাধুলা ও পর্বত অভিযানে মনোযোগ দিতেই তিনি ওই পেশা ছেড়ে দেন। তিনি সৌদির প্রথম নাচের স্টুডিওর প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ২০১৯ সালে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। কে-টুর সর্বোচ্চ চূড়ায় পা রাখার আগে তিনি বিশে^র আরও ১৫টি চূড়ায় আরোহণ করেছেন।
ক্রিস্টিন হরিলা
এবারের গ্রীষ্মকালীন কে-টু অভিযানে একই দিনে সর্বোচ্চ চূড়া জয়ের ইতিহাস গড়ায় আরো একজন হলেন নরওয়ের ক্রিস্টিন হরিলা । তিনি এবারের কে-টু অভিযানের মধ্য দিয়ে নেপালের দুঃসাহসিক পর্বতারোহী নির্মল পূরজার ২০১৯ সালের করা রেকর্ডটি ছোঁয়ার চেষ্টা করেছিলেন। নির্মল পূরজা ছয় মাস ছয় দিনে ১৪টি পর্বত আরোহণের রেকর্ড গড়েন। ৩৬ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা ২১ জুলাই তার ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, তার অভিযানের ৭৬তম দিনে দ্বাদশ সর্বোচ্চ চূড়া ছোঁয়ার রেকর্ডে কারাকোরামের ব্রড পিকে পা রাখেন। তবে পাকিস্তানের আলপাইন ক্লাবের কর্মকর্তারা তার অভিযানের সবশেষ সফলতার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে এর ছয়দিন পর তারা বলেন, ক্রিস্টিনা সর্বোচ্চ শৃঙ্গ কে-টুর চূড়ায় আরোহণ করেছেন। ইন্সটাগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, ‘তিনি এখন বেস ক্যাম্পে নামছেন। এবং তার পরবর্তী দুই পর্বত আরোহণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। এই দুই অভিযান প্রকল্প হলো গাসেরব্রাম
১ ও ২।’
তবে দুর্ভাগ্যবশত এবারের অভিযানে আফগান পর্বতারোহী আলি আহমেদ সখি মারা গেছেন। তিনি প্রথম সামিট ওয়েভের মাউন্ট কে-২ এর ক্যাম্প ৪-এ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
