নৈশকোচে ডাকাতি

আদালতে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ০২:১৪ এএম

কুষ্টিয়া থেকে ছেড়ে আসা ঈগল পরিবহনের চলন্ত বাসে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে একজন ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দলের একাধিক সদস্য বাস চালিয়েছেন।

সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালের বিচারক সামছুল আলম ও রুমি খাতুন পৃথকভাবে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। গতকাল শনিবার রাত পৌনে ৯টায় তাদের জবানবন্দি শেষ হয়। আদালত পুলিশের পরিদর্শক তানভীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, চাঞ্চল্যকর মামলাটি করার পর থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে আসামিদের চিহ্নিত করে। পরে বৃহস্পতিবার রাজা মিয়া নামের ডাকাতদলের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাজা ডাকাতির সময় চালককে সরিয়ে বাসটি চালাচ্ছিলেন।

রাজা মিয়াকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ৭ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। রিমান্ডের দুদিনের মাথায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। একই ঘটনায় শুক্রবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর থেকে আবদুল আওয়াল ও নুরুন্নবীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারাও গতকাল একই ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত বুধবার মধুপুর থানায় ডাকাতি ও দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে বাসটির যাত্রী হেকমত আলী বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তখন মধুপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুরাদ হোসেনকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিনকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর থেকে ঈগল পরিবহনের বাসটি নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি খাবার হোটেলে যাত্রাবিরতি নেয়। সেখান থেকে যাত্রা শুরুর পর তিন দফায় যাত্রীবেশী ১০-১২ জন ডাকাত বাসে ওঠে। বাসটি টাঙ্গাইল অতিক্রম করার সময় ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে চালককে জিম্মি করে বাসটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। এরপর তারা যাত্রীদের হাত, পা, চোখ বেঁধে তাদের কাছে থাকা টাকা, মুঠোফোন ও অলংকার লুট করে নেয়। এ সময় বাসে থাকা এক নারী যাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত