শিশুরা স্থুল হচ্ছে কেন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২২, ১১:০৫ পিএম

বিশ্বে স্থুল শিশুর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিবেশী দেশ ভারতেও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে শিশুদের স্থূলতা। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্থুল শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক বৈষম্যকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া বিজ্ঞাপন, খাদ্যাভ্যাসসহ অন্যান্য কারণ তো রয়েছেই। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া

শিশুর বাড়তি ওজন

সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে বিভিন্ন বয়সী শিশুদের শারীরিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শারীরিকভাবে অবিকশিত শিশুর তালিকায় বিশ্বে ভারতের অবস্থান ওপরের দিকে। এ নিয়ে দেশটির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তার ওপর দেশে স্থূল শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধি তাদের আরও ভাবাচ্ছে। মূলত ছোটবেলা থেকে ভারতীয় শিশুরা স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে শিশুদের স্থূলতা মহামারী আকার ধারণ করতে পারে। পরিস্থিতি এরই মধ্যে এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, সন্তানের ওজন কমাতে ভারতীয় অভিভাবকরা দ্বারস্থ হচ্ছেন চিকিৎসকের, বাধ্য হচ্ছেন সার্জারি করাতে। ২০১৭ সালে মিহির জৈন নামে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর হুইলচেয়ারে করে মা-বাবার সঙ্গে রাজধানী নয়াদিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে আসে। হুইলচেয়ারে হাসপাতালে আসার কারণ মিহিরের অস্বাভাবিক ওজন। অপারেশন করে পরে তার ওজন কমানো হয়। মিহিরের চিকিৎসক ব্যারিয়াট্রিক সার্জন ডা. প্রদীপ চৌবে বলেন, ‘সার্জারির আগে মিহির অনেক মোটা ছিল। তার ওজন ছিল ২৩৭ কেজি এবং বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) ছিল ৯২। সে ভালোভাবে দাঁড়াতে পারত না। মুখ এত বেশি ফোলা ছিল যে চোখ খুলে রাখতে তার সমস্যা হতো।’ ওজন ও উচ্চতার ওপর ভিত্তি করে শরীরে চর্বির পরিমাপ হলো বডি মাস ইনডেক্স। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, যে ব্যক্তির বিএমআই ২৫ বা তার বেশি, তিনি স্থূল হিসেবে বিবেচিত হবেন। কয়েক সপ্তাহ দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২০১৮ সালের গ্রীষ্মে গ্যাস্ট্রিক বাইপাস সার্জারি করা হয় মিহিরের। সার্জারির পর তার ওজন ১৬৫ কেজিতে নেমে আসে। সার্জারির আগে মিহিরকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওজনের কিশোর’ বলা হতো। এই তকমা অতিরঞ্জিত হতে পারে। মিহির হয়তো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওজনের কিশোর ছিল না, তবে তার ওজন যে উদ্বেগজনক ছিল, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ভারতে এ মুহূর্তে স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের শিশুর সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ এবং এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে বলে জানান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

২০১৯-২১ সালে পরিচালিত ভারতের স্বাস্থ্যবিষয়ক এক জরিপে বলা হয়, দেশটির পাঁচ বছরের কম বয়সী ৩.৪ শতাংশ শিশুর ওজন বেশি। ২০১৫-১৬ সালে এই হার ছিল ২.১ শতাংশ। ভারতে নিযুক্ত ইউনিসেফের পুষ্টি বিভাগের প্রধান ডা. আরজান ডি ওয়াগত জানান, এই হারের সংখ্যা কম মনে হলেও ভারতের জনসংখ্যা বিবেচনা করলে দেশটিতে স্থূল শিশুর সংখ্যা নেহাতই কম নয়। চলতি বছরে ওয়ার্ল্ড ওবেসিটি এটলাসের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে স্থূল শিশুর সংখ্যা ২ কোটি ৭০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। শিশুদের স্থূলতার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের তালিকায় বিশ্বে ১৮৩টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ৯৯। ডা. আরজান ডি ওয়াগত বলেন, ‘ভারতীয় শিশুদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্থূলতা আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। এটি বেশ গুরুতর সমস্যা। শৈশবে যেসব শিশু স্থুলতায় ভোগে, বড় হয়েও তাদের মধ্যে এই রোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই থেকে যায়।’

পুষ্টি বিষয়ে অজ্ঞতা

আরজান ডি ওয়াগত বলেন, ‘ভারতীয় শিশুদের একটি অংশ অতিরিক্ত পুষ্টি পাচ্ছে, আরেক অংশ কোনো পুষ্টিই পাচ্ছে না। অতিরিক্ত পুষ্টির ফলাফল অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা। অবশ্য তার মানে এটা নয়, অতিরিক্ত ওজন বা স্থুলতায় ভোগা শিশুরা সব ধরনের দরকারি পুষ্টি পায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে, ভারতীয় অভিভাবকদের বড় অংশ পুষ্টির ব্যাপারে নিরক্ষর। শিশুদের যদি কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ভিটামিন, ফল-শাকসবজিসহ সুষম খাদ্য দেওয়া হয়, তাহলে তারা পুষ্টির ঘাটতি বা অতিরিক্ত পুষ্টিতে ভুগবে না। দুঃখের বিষয়, এই অভিভাবকরা জানেন না, সুষম খাদ্য কী। তারা তাদের শিশুদের পেট ভরে খাওয়ান, চিন্তাভাবনা না করে কার্বোহাইড্রেট বেশি খেতে দেন। খেতে সুবিধার এমন খাবার অভিভাবক ও সন্তান উভয়েরই বেশ পছন্দের।’ তিনি জানান, সব শ্রেণির শিশুর মধ্যে স্থূলতা দেখা গেলেও বড় শহরে বাস করা উচ্চবিত্ত শ্রেণির শিশুরা এই রোগে ভোগে বেশি। এই শিশুদের যেসব খাদ্য ও পানীয় খেতে দেওয়া হয়, তাতে ফ্যাট, চিনি ও লবণ বেশি থাকে। ২০১৯ সালে ম্যাক্স হেলথকেয়ার নামে এক হাসপাতাল নয়াদিল্লি ও এর আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরিপ চালায়। এতে দেখা যায়, কমপক্ষে ৪০ শতাংশ শিশু (৫ থেকে ৯ বছর বয়সী), কিশোর (১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী) ও ১৫ থেকে ১৭ বছরের একটু বেশি বয়সী কিশোর স্থূল বা অতিরিক্ত ওজনের অধিকারী।

সার্জন ডা. প্রদীপ চৌবে বলেন, ‘আজকালকার কিশোররা রাতে দেরিতে ঘুমায়। ঘুমানোর আগে প্রায়ই তারা অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স খায়। রাতে দেরি করে এসব খাবার খাওয়ার পর তারা ক্যালরি পোড়ায় না, ঘুমিয়ে পড়ে। দিনের বেলায় তাদের মধ্যে আলসে ভাব থাকে, তখনো তারা ক্যালরি পোড়ায় না। এ ছাড়া শিশুরা এখন বাইরে দৌড়াদৌড়ি ও খেলাধুলা না করে ঘরে বসে কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনে বেশি সময় ব্যয় করে। স্থুলতা যে শুধু স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে, তা নয়। শিশুদের ওপর এর মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক প্রভাবও ব্যাপক। স্থূল শিশুদের প্রায়ই কুসংস্কার ও সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে হয়।’

বিজ্ঞাপনের ভূমিকা

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর চেন্নাইয়ের সার্জন ও ওবেসিটি ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ডা. রবীন্দ্রন কুমারন বলেন, ‘আমরা যদি এখনই শিশুদের স্থূলতা নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিই, তাহলে আমরা দেশে স্থূলতা সমস্যার সমাধান করতে পারব না। বাড়িতে বসে শিশুরা যদি আধঘণ্টাও টিভি দেখে, তাহলে একটু পরপর তারা বিভিন্ন লোভনীয় জাঙ্ক ফুডের পাশাপাশি রংবেরঙের মুখে লালা ঝরানো পানীয়ের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখবেই। অস্বাস্থ্যকর জাঙ্ক ফুডের তথাকথিত উপকারিতা নিয়ে দর্শকদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে ভুল বার্তা দেওয়া হচ্ছে, তা বন্ধ করা উচিত। একমাত্র সরকারই পারে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিশুদের বাড়ির বাইরে বের করতে হবে। তাদের শরীরচর্চায় বিনিয়োগ তেমন হয় না বললেই চলে। আমাদের শহরগুলোতে ফুটপাত নেই। সাইকেল চলাচলের জন্য নিরাপদ পথ নেই। শিশুদের জন্য খেলার মাঠ কমতে কমতে প্রায় নাই-ই হয়ে গেছে বলতে গেলে।’

প্রাথমিক জ্ঞান জরুরি

শিশুদের বদ্ধ চার দেয়াল থেকে খেলাধুলার মাঠে কীভাবে আনা যায়, এ নিয়ে কাজ করছে স্পোর্টজ ভিলেজ নামে একটি ক্রীড়া সংগঠন। সংগঠনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৌমিল মজুমদার বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান পরিস্থিতি পরিবর্তনের চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে একমাত্র স্কুলই শিশুদের নিরাপদে খেলাধুলার ব্যবস্থা করে আসছে। শিশুদের স্থূলতা দূর করতে স্কুলগুলোকে আরও এগিয়ে আসতে হবে বলে আমরা মনে করি।’স্পোর্টজ ভিলেজ সম্প্রতি ২ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি শিশুর ওপর একটি জরিপ করে। এতে দেখা যায়, অনেক শিশু তাদের গ্রন্থি ভালোভাবে নড়াচড়া করতে পারেনি। শরীরে তাদের শক্তির ঘাটতি ছিল প্রকট। সৌমিল মজুমদার বলেন, ‘সব স্কুলেই শারীরিক শিক্ষার ওপর ক্লাস হয়। তবে যেসব শিশু খেলাধুলায় ভালো, তারাই সাধারণত শিক্ষকদের মনোযোগ পায় বেশি। আমরা মনে করি, যেসব শিশু খেলাধুলা উপভোগ করে না, তাদের নিয়েও ভাবা জরুরি। স্কুলে শিশুদের যেমন সব বিষয়ের ওপর প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া হয়, ঠিক তেমনিভাবে শারীরিক শিক্ষার ওপরও তাদের প্রাথমিক জ্ঞান দেওয়া দরকার।’ কয়েকটি স্কুলে এ বিষয়ে কয়েক বছরে উন্নতি ঘটেছে বলে জানান সৌমিল মজুমদার। তিনি বলেন, ‘যেসব স্কুলে আমাদের কাজ রয়েছে, সেখানে শিক্ষার্থীদের ফিটনেস লেভেল কয়েকটি ক্ষেত্রে ৫ থেকে বেড়ে ১৭ শতাংশ হয়েছে। আমরা মেয়েদের খেলাধুলায় অংশ নিতে উৎসাহ দিয়ে আসছি এবং সফলও হয়েছি। আমি মনে করি, শিশুদের স্থূলতা মোকাবিলায় খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম।’

স্থুল প্রাপ্তবয়স্করাও

স্থুলতা সমস্যা একসময় শুধু পশ্চিমের মাথাব্যথা ছিল। শিল্পোন্নত দেশগুলোর উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এ সমস্যায় ভুগে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। স্থূলতা এখন অবশ্য পশ্চিমের পাশাপাশি প্রাচ্যের বৃহৎ ও ক্ষমতাশালী দেশ ভারতকেও দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে তুলেছে। দেশটির শিশুদের পাশাপাশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষও অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছেন। ২০১৬ সালের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, ভারতের সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ স্থূল। দেশটির স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ সংখ্যা ভবিষ্যতে আরও বাড়বে এবং স্থূল জনগোষ্ঠীর সংখ্যা অচিরেই অপুষ্টিতে ভোগা জনগোষ্ঠীকে ছাড়িয়ে যাবে। ভারত সরকারের সাম্প্রতিক এক জরিপে বলা হয়, প্রায় ২৩ শতাংশ পুরুষ ও ২৪ শতাংশ নারীর বডি মাস ইনডেক্স ২৫ বা তারও বেশি, যা উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় চার শতাংশ বেশি। ওবেসিটি ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ডা. রবীন্দ্রন কুমারন বলেন, ‘শারীরিকভাবে নিষ্ক্রিয় থাকা বা দিনের বেশির ভাগ সময় ডেস্কে কাজ করা ও সহজলভ্য, চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে বিশেষ করে শহুরে মানুষের ওজন বেশি হয়ে যাচ্ছে।’   

ইতালিভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর দ্য সার্জারি অব ওবেসিটি অ্যান্ড মেটাবলিক ডিসঅর্ডারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সার্জন ডা. প্রদীপ চৌবে বলেন, ‘প্রতি ১০ কেজি অতিরিক্ত ওজন মানুষের আয়ু তিন বছর কমিয়ে দেয়। কারও ওজন যদি ৫০ কেজি বেশি হয়, তাহলে ১৫ বছর আগে মৃত্যু হতে পারে তার। এ ছাড়া সাম্প্রতিক করোনাভাইরাস মহামারীর সময় আমরা দেখেছি, স্থূল ও অতিরিক্ত ওজনের মানুষের মৃত্যুহার তিন গুণ বেশি ছিল।’ যেসব স্থূল ব্যক্তির বডি মাস ইনডেক্স ৪০ বা তার বেশি, সার্জারির মাধ্যমে তাদের দেহের ওজন কমানোর কাজ ২০ বছর ধরে করছেন ডা. চৌবে। তিনি বলেন, ‘স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া শুধু দৈহিক নয়, মানসিকও। তিন বছর আগে এক হাজার স্থূল ব্যক্তি নিয়ে আমরা একটি জরিপ করেছিলাম। এতে দেখা যায়, বেশি ওজন ওই ব্যক্তিদের যৌনজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। নিজের সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ায় তাদের বৈবাহিক জীবন সুখকর ছিল না।’

ভারতীয় অভিনেতা সিদ্ধার্থ মুখার্জিকে অনেকে চিনে থাকতে পারেন। একসময় তিনি অ্যাথলেট ছিলেন। তখন তার ওজন ছিল ৮০-৮৫ কেজির মতো। একবার এক দুর্ঘটনার শিকার হলে সিদ্ধার্থকে অ্যাথলেট ক্যারিয়ারের ইতি টানতে হয়। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর চিকিৎসকরা আমাকে খেলাধুলা বন্ধ করতে বলেন। যত দিন খেলোয়াড় ছিলাম, তত দিন আমার খাবারদাবার নিয়ন্ত্রিত ছিল। খেলাধুলা বাদ দেওয়ার পর আমি প্রচুর তেলযুক্ত ও মসলাদার খাবার খেতে শুরু করি। নানা ধরনের পানীয় পান করতে ভালো লাগত। ফলে যা হওয়ার তাই হলো। আমার ওজন বেড়ে ১৮৮ কেজিতে ঠেকল। দেখা দিল ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের সমস্যা। কোলেস্টেরলের মাত্রা অনেক বেড়ে গেল। একপর্যায়ে আমার শ্বাস নিতে কষ্ট হতে লাগল।’ অতিরিক্ত ওজনের কারণে শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেওয়ায় সার্জারি করে ওজন কমানোর সিদ্ধান্ত নেন সিদ্ধার্থ। তিনি বলেন, ‘এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। শুয়ে থাকলে নিঃশ্বাস নিতে সমস্যা হতো, বসে ঘুমাতে হতো। সার্জন ডা. চৌবে আমাকে নতুন জীবন দিয়েছেন। আমার ওজন এখন ৯৬ কেজি। আমি এখন বাইক চালাই। মঞ্চে অভিনয় করি। অথচ এমন একসময় ছিল যখন আমি সিঁড়ি পর্যন্ত ভাঙতে পারতাম না। এখন আমি দিনে ১৭ থেকে ১৮ কিলোমিটার হাঁটতে পারি। ইচ্ছেমতো ফ্যাশনেবল পোশাক পরি। মোটা হওয়া এক ধরনের অভিশাপ। পৃথিবী অনেক সুন্দর। পরিবারের কাছে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বার্থপর না হয়ে মানুষের উচিত স্বাস্থ্যের প্রতি যতœবান হওয়া।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত