দেশে গত সাড়ে পাঁচ বছরে গণপরিবহনে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৫৭ জন নারী। এ সময়ে ২৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের ৭ আগস্ট পর্যন্ত সড়ক-মহাসড়কে মাসে ৫ জন ধর্ষণের শিকার এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৬৮ জন নারী। নির্যাতনের শিকার নারীদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনে ৬৭ জন বোরকা বা হিজাব পরিহিত ও ৩২ জন অন্যান্য পোশাক পরিহিত। গতকাল সোমবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সেভ দ্য রোড’ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ বছর ৭ মাসে গণপরিবহন ও বাসস্ট্যান্ডে নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৩১৪টি, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১৭টি এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১৬ জন। ট্রেন স্টেশন, ট্রেন, লঞ্চঘাট ও লঞ্চে ২২৯ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৯টি এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৭ জন। এছাড়া প্রাইভেটকার-মাইক্রোবাস বা বাইকে ঘটেছে ৮৪১টি নির্যাতনের ঘটনা, ধর্ষিত হয়েছেন ৩৩৭ জন এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ৪ জন।
সেভ দ্য রোডের মহাসচিব শান্তা ফারজানা বলেন, ৩১টি জাতীয় দৈনিক, বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা ও টিভি চ্যানেল এবং বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় সক্রিয় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকদের তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এক শ্রেণির কুরুচিপূর্ণ মানুষ নারীদের পোশাক ও চলাফেরা নিয়ে যেমন কটূক্তি করেন, ঠিক তেমনি নির্যাতন-নিপীড়ন করতেও এসব লোক পিছপা হন না। পিছিয়ে নেই ট্রেন, লঞ্চঘাট বা বিমানবন্দরও। এসব ঘটনায় হিজাব পরিহিত নারীরাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রতি ১০০ জন নারীর মধ্যে নিপীড়নের শিকার হন ৯৯ জন। তাদের মধ্যে বোরকা বা হিজাব পরিহিত নারীর সংখ্যা ৬৭ এবং অন্যান্য পোশাক পরিহিত নারীর সংখ্যা ৩২। এর নেপথ্য কারণ পুরুষদের হীন মানসিকতা, লেবাসধারী হলেও ধর্মীয় অনুশাসন না মানা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি।
গণপরিবহন-বাসস্ট্যান্ড-ট্রেন স্টেশনসহ বিভিন্ন পথে নির্যাতন-নিপীড়ন-ধর্ষণ-খুন বন্ধের লক্ষ্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছে। এগুলো হলোÑরাষ্ট্রীয়ভাবে নারীর প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শনে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ‘নারীর প্রতি সম্মান’ শীর্ষক সচেতনতা তৈরি করা, সেখানে ধর্মীয় অনুশাসন, নীতি-আদর্শ-সভ্যতার আলোকে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরতে হবে এবং তা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার এবং প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতকোত্তর শ্রেণির পাঠ্যবইতে এসব বিষয় সংযুক্ত করতে হবে; মালিক-চালক-হেলপার-সুপারভাইজারসহ সংশ্লিষ্টদের অবশ্যই যাত্রীদের প্রতি আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ এবং অসদাচরণ করলে শাস্তির ঘোষণা দিতে হবে এবং সড়কে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর পুলিশ বুথ স্থাপন, সব সড়ক-মহাসড়ক-সেতুতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।
