বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ভাসকুলার সার্জারি বিভাগে রক্তনালি রোগীদের এখন অস্ত্রোপচার ছাড়াই চিকিৎসার মাধ্যমে অঙ্গহানি থেকে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। রক্তনালি ব্লকের কারণে কেটে ফেলতে হচ্ছে না হাত, পা বা আঙুল।
গতকাল সোমবার রক্তনালি রোগের যুগান্তকারী চিকিৎসাবিষয়ক সর্বশেষ তথ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত ‘আপডেট অব ভাসকুলার সার্জারি’বিষয়ক এক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারে বিএসএমএমইউর ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের চিকিৎসা সম্পর্কে বলা হয়, রক্তনালির রোগের কারণে মানুষের অঙ্গহানি, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। যে রোগীদের অপারেশন সম্ভব নয়, বর্তমানে চিকিৎসার মাধ্যমে অপারেশন ছাড়াই তাদের অঙ্গ রক্ষা করা সম্ভব।
সেমিনারে চিকিৎসকরা জানান, রক্তনালির ব্লকের কারণে পায়ের গ্যাংরিন হয়। স্টেমসেল থেরাপি ও প্রোস্টাগ্লান্ডিন থেরাপির মাধ্যমে নতুন রক্তনালি তৈরি করে গ্যাংরিন রোগীদের বিনা অপারেশনে চিকিৎসা করে পঙ্গুত্ব বরণ করা থেকে মুক্ত রাখা সম্ভব হচ্ছে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, ভ্যারিকোস ভেইন বা আঁকাবাঁকা শিরার চিকিৎসায় লেজার থেকে শুরু করে সব ধরনের আধুনিক চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে এই বিশ^বিদ্যালয়ের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগে। তা ছাড়া আঁকাবাঁকা শিরা না কেটে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশনের (আরএফএ) মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা শিগগির চালু হবে। এ ছাড়া রক্তনালি ব্লক, এনিউরিজম, ডিভিটি, টিউমার, ম্যালফরমেশন ইত্যাদি চিকিৎসাসেবা চালু আছে। কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিসের জন্য ফিস্টুলা নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে। ভেনাসজনিত পায়ের আলসার ফোর লেয়ার ব্যান্ডেজের মাধ্যমে এই ক্ষত দূর করা সম্ভব হচ্ছে।
সেমিনারে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের আধুনিক ডুপ্লেক্স স্ক্যান ল্যাবে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০ জন রোগীর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে ৫০-৬০ জন রোগী নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। ছাত্রদের নিয়মিত শিক্ষাদান ছাড়াও দুই বছরে ছয়জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ভাসকুলার সার্জন তৈরি এ বিভাগটির সাফল্যের মধ্যে অন্যতম। দেশে একমাত্র বিএসএমএমইউতে চালু আছে ভাসকুলার সার্জারিতে বিশেষায়িত এমএস কোর্স। ভাসকুলার সার্জারি রোগীদের অপারেশন করার জন্য বিভাগটিতে আছে সুসজ্জিত ওটি। নানা সময়ে গাইনি ও সার্জারি বিভাগের বিভিন্ন অপারেশনেও ভাসকুলার সার্জনদের অংশ নিতে হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ভাসকুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞের সংখ্যা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হবে। চিকিৎসাসেবার সম্প্রসারণে স্থান বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের আমলে গবেষণাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গবেষণার জন্য সরকারের যে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে, সেখান থেকে চার ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ ২৫ শতাংশ বা ২৫ কোটি টাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পাবেন। এটা বিশ^বিদ্যালয়ের জন্য একটা বিরাট অর্জন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএসএমএমইউর ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. সাইফ উল্লাহ খান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রাকিবুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন ভাসকুলার সার্জারি বিভাগের রেসিডেন্ট শিক্ষার্থী ডা. সমরেশ চন্দ্র সাহা।
