নাটকীয়তার পর অষ্টমবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ০২:০০ এএম

ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জোট ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করে ফের নীতিশ কুমারই হলেন ভারতের বিহার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো মুখ্যমন্ত্রী হলেন তিনি। গতকাল বুধবার বিকেলে পাটনার রাজভবনে রাজ্যপাল ফাগু চৌহান তাকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথবাক্য পাঠ করান। তার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবও। দ্বিতীয়বারের মতো রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী হলেন তিনি। নীতিশ বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করে এবার যোগ দিয়েছেন আরজেডি ও কংগ্রেসের সঙ্গে।

রাজভবনে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদবের পরিবারের সদস্যরা। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী, তার ছেলে তেজ প্রতাপ যাদব, তেজস্বী যাদবের স্ত্রীসহ আরজেডির অনেক বড় নেতা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পৌঁছেছিলেন। গতকাল শপথগ্রহণ শেষে নীতিশ কুমার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী পদ নিয়ে আমার কোনো লাভ নেই। আমি সেই প্রত্যাশাও করি না। এরচেয়ে বিরোধী শক্তিকে আরও শক্তিশালী করার জন্যই কাজ করে যাব।’ বিহারে তৈরি হওয়া মন্ত্রিসভা আগের ফর্মুলাতেই হতে পারে। নীতিশের আগের জোটসঙ্গী বিজেপি যে মন্ত্রিসভার পদগুলো পেয়েছিল, সেগুলো চলে যাবে আরজেডির হাতে। আর জেডিইউর যে পদগুলো ছিল, সেগুলো থাকছে নীতিশের দলের বিধায়কদের কাছেই।

আনন্দবাজার বলছে, মন্ত্রিসভায় সর্বাধিক সংখ্যক দপ্তর পাবে লালুর দল আরজেডি। প্রায় ২০ জন বিধায়ক থাকবেন মন্ত্রিসভায়। জেডিইউর তরফে নীতিশ কুমারকে বাদ দিয়ে ১১-১৩ জন মন্ত্রী হতে পারেন। কংগ্রেস থেকে ৪ জন ও জিন্তরাম মাঝির দল হিন্দুস্তান আওয়াম থেকে ১ জন মন্ত্রী হতে পারেন। রাজ্যের একমাত্র নির্দল প্রার্থী সুমতি কুমার সিংহও মন্ত্রিসভায় আসতে চলেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

আরজেডির সঙ্গে নীতিশের জোট সহজ ছিল না। কংগ্রেস এবং আরজেডির সঙ্গে মহাজোট ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলেন নীতিশ কুমার। সে সময় দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। ২০১৭ সালের জুলাইয়ে জোট ভাঙার পর নীতিশ বলেছিলেন, ‘আমার দম বন্ধ হয়ে আসছিল, আমার বিবেক আমাকে নাড়া দিয়েছে। অন্য কোনো উপায় ছিল না।’ এই নীতিশই গত মঙ্গলবার রাজভবন থেকে বের হয়ে বলেন, ‘মহাজোটের সব দল পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে।’ জেডিইউ, আরজেডি, কংগ্রেসসহ মহাজোটে মোট সাতটি দল রয়েছে।

এদিকে বিজেপি বলছে, মাঝপথে এসে মিত্র বদল করে নীতিশ কুমার ‘জনগণের রায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ করলেন। জেডিইউ নেতার পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভেরও ডাক দিয়েছে তারা।

নীতিশ কুমার প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন ২০০০ সালের ৩ মার্চ। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে মাত্র ৭ দিনের মধ্যেই পদত্যাগ করতে হয় তাকে। এরপর ২০০৫ এবং ২০০৭ পরপর দুবার এনডিএ জোট থেকে তিনি দুবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে এনডিএ জোট থেকে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপির বিরুদ্ধে খারাপ ফলাফলের জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন। ২০১৫ সালে আবারও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করেন। ২০১৫ সালেই মহাজোট গড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন নীতিশ কুমার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত