জাবির উপাচার্য প্যানেল: লড়ছেন গবেষক সুফি মোস্তাফিজুর

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২২, ০৬:১৯ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনে আওয়ামী লীগপন্থী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের হয়ে লড়ছেন উপমহাদেশ খ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। 

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আমির হোসেনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্যানেল ঘোষণা করা হয়। প্যানেলের অন্য সদস্য হলেন- বাংলা বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও বর্তমান অধ্যাপক পৃথ্বিলা নাজনীন নীলিমা।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশের প্রত্নসম্পদ আবিষ্কারে গুরুত্ব ভূমিকা রেখেছেন। তার নেতৃত্বে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীরা নরসিংদীর বেলাবো ও শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত উয়ারী-বটেশ্বর নামের দুটি গ্রামব্যাপী একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান আবিষ্কার করে। ধারণা করা হয় এটি মাটির নিচে অবস্থিত একটি প্রাচীন দুর্গ-নগরী।

২০২০ সালে অধ্যাপক ড. সুফি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল কাউন্সিল অব মিউজিয়ামসের বাংলাদেশের জাতীয় কমিটির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালে ঢাকা পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন পরিচালনা করে ঢাকার প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য আবিষ্কার করেন তিনি।

তিনি উয়ারী-বটেশ্বর দুর্গ নগর জাদুঘরসহ গঙ্গাঋদ্ধি জাদুঘর, বৌদ্ধ মন্দির প্রত্নস্থান জাদুঘর, ভাই গিরিশচন্দ্র সেন জাদুঘর, বৌদ্ধ পদ্ম-মন্দির প্রত্নস্থান জাদুঘর, বিক্রমপুরী প্রত্নস্থান জাদুঘর এবং বিক্রমপুর জাদুঘরের প্রধান গবেষক।

নিজের কৃতিত্বের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান শিক্ষক সমিতির সদস্য, বিভাগীয় সভাপতি, উচ্চতর শিক্ষা কমিটির সভাপতি, আবাসিক হলের ওয়ার্ডেনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদের বর্তমান সভাপতি, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতির কার্যকরী সদস্য, জন ইতিহাস চর্চাকেন্দ্রের উপদেষ্টা, অগ্রসর বিক্রমপুর ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি, ইতিহাস একাডেমির ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলা একাডেমি ও বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির সদস্য, ইন্ডিয়ান সোসাইটি ফর প্রিহিস্টরিক অ্যান্ড কোয়ার্টানারি স্টাডিজের আজীবন সদস্য, এশিয়াটিক সোসাইটি হেরিটেজ জাদুঘর এবং বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

জানতে চাইলে অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণার যে অবনতি ঘটেছে, নিজের নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতা দিয়ে তার উন্নতি ঘটাবো। আমি বিশ্বাস করি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শিক্ষা-গবেষণাসহ সকল কিছুর গুণগত পরিবর্তন ঘটাতে পারবো। যাতে করে সবাই মাথা উঁচু করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় তুলে ধরতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল-পিএইচডি ডিগ্রির গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষকদের ক্লাস মনিটরিং-এর বিষয়গুলো নিশ্চিত করা হবে। ভালো খাবার না খেতে পারলে শিক্ষার্থীরা পড়তে পারবে না, নিজের মেধার বিকাশ ঘটাতে পারবে না। হলের খাবারের মানোন্নয়নসহ শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের উন্নতির জন্য কাজ করা হবে। আমার পদের লোভ নেই, কাজের লোভ। নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেলে দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি ঘটানো হবে। যাতে করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি কেউ প্রশ্ন তুলতে না পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত