মেরিনা তাবাশ্যুমের আরেকটি সম্মাননা

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ০৬:০১ এএম

বাংলাদেশি স্থপতি মেরিনা তাবাশ্যুম আরও একটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছেন। আসন্ন লিসবন আর্কিটেকচার ট্রায়েনেলে তাকে ‘মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জুরি কমিটি বলেছে, কাজের মধ্য দিয়ে স্থপতিরা কীভাবে জলবায়ু সংকটকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন এবং মর্যাদাপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক উপায়ে সমাজে পরিবর্তন আনতে পারেন মেরিনা কাজের মধ্য দিয়ে তার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। 

স্থাপত্যবিষয়ক সাময়িকী আর্কিটেক্টের এক প্রতিবেদনে জুরি বোর্ডের বিবৃতির বরাতে বলা হয়েছে, মেরিনা তার কাজের মধ্য দিয়ে স্থাপত্যশিল্পের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ভূমিকা পালনের অঙ্গীকারের প্রতি নিবিষ্ট থেকেছেন। প্রতিটি নতুন প্রকল্পে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছেন। তার প্রকল্পগুলোতে দৃঢ় ও স্বচ্ছ নৈতিক অবস্থান প্রকাশ পায়। এগুলোর নকশা সূক্ষ্ম ও পরিশীলিত। বাজেটে সীমাবদ্ধতা থাকার পরও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হয় না। প্রকল্পগুলোতে সব সময় সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক প্রেক্ষাপট থাকে।

মেরিনার আগে যারা মিলেনিয়াম লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড জিতেছেন তাদের মধ্যে আছেন কেনেথ ফ্রাম্পটন, ইভারো সিজা এবং ডেনিশ স্কট ব্রাউন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বিশেষ এক অনুষ্ঠানে তাবাশ্যুমের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।

পুরস্কারের বিষয়ে মেরিনা তাবাশ্যুম তার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘যেকোনো স্বীকৃতি ভালো লাগে। এটা অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। কিন্তু কাজ তো চালিয়ে যেতে হবে। কাজ করে যাচ্ছি আমি।’

২০২১ সালে মানবিক ঘর তৈরির জন্য যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ সন পদক পান মেরিনা। বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চল থেকে প্রথম স্থপতি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার জিতেন বাংলাদেশের এই স্থপতি। ২০২০ সালে ব্রিটিশ সাময়িকী ‘প্রসপেক্ট’র ৫০ চিন্তাবিদের মধ্যে শীর্ষ ১০ জনে স্থান করে নিয়েছিলেন মেরিনা।

ঢাকার দক্ষিণখানে বায়তুর রউফ নামের একটি শৈল্পিক নকশার মসজিদের জন্যও ২০১৮ সালে স্থপতি হিসেবে জামিল প্রাইজ পান মেরিনা তাবাশ্যুম। সুলতানি আমলের স্থাপত্যের আদলে নকশা করা ২০১২ সালে নির্মিত এ মসজিদের জন্য ২০১৬ সালে তিনি সম্মানজনক আগা খান পুরস্কার পান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত