মাছ-মাংসের চড়া বাজারের মধ্যেও এতদিন নিম্ন আয়ের মানুষের ভরসা ছিল ব্রয়লার মুরগি আর ডিম। তবে এই দফায় দামের উল্লম্ফনে এ দুটি পণ্যের দামও চলে গেছে নাগালের বাইরে। গতকাল শুক্রবার বন্দরনগরী চট্টগ্রামের বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০ টাকা কেজি দরে। আর ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১৪৫ টাকা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে অন্যান্য পণ্যের দামও। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে প্রতিটি জিনিসের দামই এখন বাড়তির দিকে।
নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সয়াবিন তেল, চিনি থেকে শুরু করে ডাল, ময়দা, আদা-রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি পণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজার করতে যাওয়া মানুষের চোখেমুখে দেখা যাচ্ছে অসহায়ত্বের ছাপ। গত ১৭ জুলাই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্ধারণ করা দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল এতদিন ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। এরপর নতুন করে দাম নির্ধারণ করা না হলেও ব্যবসায়ীরা বাড়তি দাম নিচ্ছেন ক্রেতাদের কাছ থেকে। শুক্রবার নগরীর আসকার দীঘির পাড় কাঁচাবাজারের বিভিন্ন দোকানে দুই লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হতে দেখা গেছে ৩৮০ টাকা দামে।
গতকাল সকালে বাজার করার জন্য নগরীর কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজারে যান একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী হামিদুল হক। সেখানে প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, তিন দিন আগে ১৫০ টাকা কেজিতে ব্রয়লার কিনেছিলাম। দুই দিনের মাথায় বিক্রেতা দাম চায় কেজি ২০০ টাকা। তিনি বলেন, যেভাবে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছে। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
নগরীর কাজীর দেউড়ি বাজারের গ্রোসারি শপ নাসির অ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী নাসির উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোম্পানিগুলো আমাদের চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল সরবরাহ করছে না। যে কারণে আমরাও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে পারছি না। আর এই সরবরাহ ঘাটতির কারণে তেলের দাম কিছুটা বাড়ছে।
সয়াবিন তেলের পাশাপাশি চিনি, ময়দা, আটা, রসুন, বিভিন্ন ধরনের সবজি, কাঁচা মরিচ সবকিছুর দাম লাগামহীন হয়ে পড়েছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। ময়দার প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে কেজি ৭৫ টাকা। বিভিন্ন কাঁচাবাজারে দেখা যায়, প্রতিটি সবজির দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে দাম বাড়ছে বলে জানান বিক্রেতারা।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন এ প্রতিবেদককে বলেন, যে হারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে তাতে সাধারণ মানুষের অবস্থা দিন দিন শোচনীয় হয়ে আসছে। একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ পেলেই পণ্যমূল্য বাড়িয়ে দিচ্ছে। গরিবের পকেট কেটে নিজেদের পকেট ভারী করছে।
