পরীক্ষামূলক উৎপাদনে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২২, ১১:০৫ পিএম

বেআইনিভাবে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করা উদ্যোক্তাদের পরিত্যক্ত কোম্পানি সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল লিমিটেড আবার চালুর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করে একটি ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে আলিফ গ্রুপ। গতকাল চট্টগ্রামের কালুরঘাট বিসিক শিল্প এলাকায় সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ডাইং ইউনিটের পরীক্ষামূলক উৎপাদনের উদ্বোধন করেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এর মধ্য দিয়ে ২০১৭ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোম্পানিটি ফের উৎপাদনে ফিরতে যাচ্ছে।

পরীক্ষামূলক উৎপাদন শেষে শিগগিরই পূর্ণ উৎপাদন শুরু হবে বলে আলিফ গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ধারাবাহিকভাবে কোম্পানিটির সব ইউনিট চালু করা হবে বলেও জানিয়েছেন তারা। এর মাধ্যমে রপ্তানিতেও ফিরতে পারবে কোম্পানিটি।

বস্ত্র খাতের কোম্পানি সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে শেয়ার ছেড়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে ৪৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তবে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তিন বছর পার না হতেই ২০১৭ সালে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপভিত্তিক তৈরি পোশাক ক্রেতাদের সংগঠন অ্যাকর্ড ও অ্যালায়েন্সের চাহিদা অনুযায়ী কোম্পানির কারখানা সংস্কার করার কথা বলে ২০১৭ সালের ১ মে উৎপাদন বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয় কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই কোম্পানিটির উদ্যোক্তারা নিজেদের হাতে থাকা বেশিরভাগ শেয়ার গোপনে বিক্রি করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।

উৎপাদন বন্ধ ও লোকসানি বিভিন্ন কোম্পানি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরই অংশ হিসেবে পাঁচ বছর উৎপাদন বন্ধ থাকা সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয় এসইসি। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে আলিফ গ্রুপের পক্ষ থেকে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। আলিফ গ্রুপের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে অক্টোবরে এসইসি কিছু শর্ত দিয়ে সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল অধিগ্রহণে সম্মতি দেয়। এর আগেও আরও দুটি তালিকাভুক্ত কোম্পানি অধিগ্রহণ করে সফল হয়েছে গ্রুপটি।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল নতুন পরিচালনা পর্ষদের অধীনে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে লগ্নি করা অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা পেয়েছে ব্যাংকও। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ২০০ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে কোম্পানিটিতে। দীর্ঘদিন ঋণ পরিশোধ না করায় সুদ ও আসল মিলিয়ে এমন অঙ্ক দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির আগ্রাবাদ শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখাপ্রধান মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ। 

পরীক্ষামূলক উৎপাদনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ব্যাংকের ২০০ কোটি টাকা ঋণসহ হঠাৎ করে একটি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাংক বিপদে পড়ে এবং আমাদের সাধারণ বিনিয়োগকারীরাও বিপদে পড়েন। আর দুই-তিন হাজার লোক বেকার হয়ে যায়। এখন আলিফ গ্রুপ দায়িত্ব নিয়েছে, আশা করা যায় আবার নতুন করে কাজের উদ্যমে কর্মসংস্থান হবে, রপ্তানি হবে।

যারা পুঁজিবাজার থেকে টাকা তুলে নিল এবং ব্যাংকের লোন নিয়ে  সটকে পড়ল, সেই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির মধ্যে ফেলল তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনাÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে এসইসির চেয়ারম্যান বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর একটা কোম্পানিও বন্ধ হয়নি। তাছাড়া আগে এসইসিতে কোনো তদন্ত বিভাগ ছিল না। আমরা তদন্ত বিভাগ করেছি। এখন ফৌজদারি মামলা দায়ের করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগে এটা ছিল না। তিনি আরও বলেন, এর জন্য নতুন করে জমি কেনা, জায়গা কেনা, ফ্যাক্টরি করা এগুলোর কিছু করতে হবে না। শুধু তারা যে কাজগুলো করছে সেগুলো নতুন করে সার্ভিসিং করে ঠিকঠাক করা, কোথাও কোথাও হয়তো নতুন মেশিন স্থাপন করছে।

সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল পুনরুজ্জীবিত করতে কী পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে এবং কবে নাগাদ পরিপূর্ণ উৎপাদন শুরু হবে? এমন প্রশ্নের উত্তরে আলিফ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আজিমুল ইসলাম বলেন, আমরা ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছিলাম। এখন মনে হচ্ছে আরও বেশি লাগবে। আর আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব পূর্ণ উৎপাদন শুরু করার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত