জনগণের ভোটে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিএনপি কুইক রেন্টাল ও বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ আইন বাতিল করবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সব দুর্নীতি-অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করবে বিএনপি। গতকাল শনিবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ ও জ¦ালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনসহ এ-সংক্রান্ত সব কালাকানুন বাতিল করা হবে। রেন্টাল-কুইক রেন্টাল কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি নবায়ন বন্ধ করা হবে। স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করা হবে। পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। উৎপাদন ও চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন অতিদ্রুত স্থাপন করা হবে। বাপেক্স ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার মাধ্যমে দেশীয় খনিজ ও গ্যাস উত্তোলনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে দেশীয় প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে উপযুক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সম্ভাবনাময় গ্যাস-পেট্রোলিয়াম ও অন্যান্য খনিজ পদার্থ উত্তোলনে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দেশের বিদ্যুৎ ও জ¦ালানি খাতকে টেকসই ও নিরাপদ করতে জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে ক্রমান্বয়ে মোট উৎপাদনের ৫০ শতাংশ নবায়নযোগ্য শক্তিনির্ভর জ্বালানিনীতি গ্রহণ করা হবে। বিশেষ জোর দেওয়া হবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে। খালেদা জিয়া প্রণীত বিএনপির ভিশন-২০৩০-তে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।’
বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারের রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে বিদ্যুৎ খাতে যে অরাজক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে, তার সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি আমদানি সংকট। সরকার দেশের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির ব্যাপারে কাতার বা ওমানের সঙ্গে পুরো জ্বালানি চাহিদা মেটানের মতো দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি করেনি; বরং সিঙ্গাপুরভিত্তিক স্পট জ্বালানি বাজার থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে সাত ডলারে যে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, তা এখন স্পট মার্কেট থেকে ৩৮ ডলারে পর্যন্ত কিনতে হচ্ছে। এতে চাপ বাড়ছে ডলারের রিজার্ভে।’
জনগণের সঙ্গে পরিহাস করার অধিকার নেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর : সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের অব্যবস্থাপনাসহ সরকারের ব্যর্থতায় দেশের জনগণের জীবন যখন দুর্বিষহ হয়ে উঠছে, তখন আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জনগণের সঙ্গে তামাশা করছেন। জনদুর্ভোগের সময়ে তার এমন বক্তব্য দেওয়ার কথা নয়।’
তিনি বলেন, ‘শুধু পররাষ্ট্রমন্ত্রী নন, সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রী এভাবে কথা বলেন। তার কারণটা হচ্ছে প্রচুর লুটপাট হচ্ছে। সেই লুটপাটের কারণে তারা জনগণের সঙ্গে পরিহাস, তামাশা শুরু করেছে; বিশেষ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর আগেও এমন এমন সব উক্তি করেছেন, যে উক্তিগুলোতে দেশের মানুষের জন্য কিছুটা হাস্যকর ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে তার এ রকম পরিহাস করার কোনো অধিকার নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জাবিউল্লাহ।
