‘অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ ভালো আছে, সুখে আছে, বেহেশতে আছে’ নিজের এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘আমার বক্তব্য টুইস্ট করা হয়েছে। বেহেশতের কথা আমি বলেছি, কম্পারেটিভ টু আদার কান্ট্রি (অন্য দেশের তুলনায়)। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিকরা) সব জায়গায় লিখেছেন “বেহেশত” বলেছেন, মানে বক্তব্য টুইস্ট করা হয়েছে। আপনারা বলেন নাই যে আমাদের মূল্যস্ফীতি অন্য দেশের তুলনায় কম। ইংল্যান্ডে মূল্যস্ফীতি ১২, টার্কিতে ৬৭, পাকিস্তানে ৩৭, শ্রীলঙ্কায় ১৫০ আর আমাদের ৭ ভাগ। সেই দিক দিয়ে আমরা ভালো আছি। তাই আমি বলেছিলাম, অন্য দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি, বেহেশতে আছি। কিন্তু আপনারা (সাংবাদিকরা) একেবারে উল্টা।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল শনিবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে শিক্ষাবৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন।
গত শুক্রবার সিলেটে একটি মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ সুখে আছে, বেহেশতে আছে।’ তার এই বক্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারত সরকারের আমন্ত্রণে আগামী মাসের ৪-৫ তারিখ প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাবেন। সেই সফরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। সেখানে বর্তমান বৈশি^ক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয় উজানের পাহাড়ি ঢলে। তাই সেখানকার (ভারতের) বন্যার পূর্বাভাস বাংলাদেশকে আগাম জানানো ও বাঁধগুলো উন্মুক্ত করার আগে বাংলাদেশকে অবহিত করার কথাও ভারতকে প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব বিষয়ে ভারত নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে।’
বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ নদীগুলো খননের ব্যাপারে ড. মোমেন বলেন, ‘১০-১২ বছর বিরতির পর এ মাসের শেষের দিকে যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই বৈঠকে ৬টি নদীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দেশের সব কটি নৌপথ আগের মতো সচল করতে চায় সরকার, সে বিষয়টি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আলোচ্যসূচি এখন চূড়ান্ত না হলেও, দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি প্রাধান্য পাবে।’
এদিকে শিক্ষা বৃত্তি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষা শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়। শিক্ষা আমাদের হৃদয়ে ক্রিয়েটিভ মোটিভেশন তৈরি করে। পারিপাশির্^ক অবস্থা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, হাত-পা-মাথা যারা কাজে লাগায়, তারা জীবনে সফল। আকাক্সক্ষা উচ্চ না হলে বড় অর্জন সম্ভব হয় না। এ জন্য আকাক্সক্ষা বড় হতে হবে, তবেই অর্জন বড় হবে। ইচ্ছা থাকলে স্রষ্টাও আপনাকে সহযোগিতা করবেন। সোনার মানুষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে।’
জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সিলেটের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. জাকারিয়া, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. রমা বিজয় সরকার, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ কুমার সিংহ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তব্য দেন দ্বীপিতা সিনহা ও ইশতিয়াক রহমান।
