আন্দোলন করুক কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয় : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২২, ০২:২৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেছেন, ‘আমাদের বিরোধীরা একটা সুযোগ পাচ্ছে। তারা আন্দোলন করছে। সেটা করুক। আমি নির্দেশ দিয়েছি, তারা আন্দোলন করছে, করতে দাও। খবরদার কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়।’

পাশাপাশি সরকারপ্রধান বিরোধী দলের আন্দোলনের সফলতা নিয়ে প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আন্দোলন করে তারা কতটুকু সফল হবে, সেটা জানি না। কিন্তু যেটা করছে, তাতে দেশের জন্য আরও ক্ষতি হবে। আমরা সেটা সামাল দিতে পারব, সেই বিশ্বাস আমার আছে।’

গতকাল রবিবার আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে এ বৈঠক হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে নিষেধাজ্ঞা ও পাল্টা নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেরাশিয়াকে শায়েস্তা করার জন্য। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, শায়েস্তা হচ্ছে সাধারণ মানুষ। শুধু আমরা নই, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ প্রতিটি মহাদেশের মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জিনিসের ওপর প্রভাব পড়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ভুক্তভোগী না, সারা বিশে^র মানুষই ভুক্তভোগী। মানুষের যে কষ্ট হচ্ছে, সেটা আমরা উপলব্ধি করতে পারছি। সেই কষ্ট লাঘবের জন্য আরও কী কী করা যায়, তার জন্য প্রতিনিয়ত আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা মানুষের কষ্টটা যে বুঝি না, তা না। আমাদের বিরোধীরা একটা সুযোগ পাচ্ছে। তারা আন্দোলন করছে। সেটা করুক, আমি তো চাচ্ছি। আমি নির্দেশ দিয়েছি, তারা আন্দোলন করছে, করতে দাও। খবরদার কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করবে, আমি আসতে দেব। আজকেও আমি নির্দেশ দিয়েছি, খবরদার তাদের কাউকে যেন গ্রেপ্তার করা না হয়, বিরক্ত করা না হয়। তারা আন্দোলন করতে চায়, করুক। অসুবিধা কী?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা যে আন্তরিকতার সঙ্গে মানুষের জন্য কাজ করতেছি, সেটা দেশের মানুষ জানে ও বোঝে। বিরোধী দল সুযোগ যখন পাচ্ছে, সেটা কাজে লাগাতে চেষ্টা করবে। কিন্তু তারা যদি বেশি করতে চায়, এর প্রভাবে তো দেশের মানুষের কষ্ট আরও বাড়বে। এটাও তাদের বোঝা উচিত।’

জিনিসপত্রের দাম বাড়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের তো কিছু লোক থাকেই, প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে খামোখা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দেয়। ওই ছুতো ধরে। সেটা হচ্ছে কিছু কিছু। হঠাৎ এত দাম তো বাড়ার কথা না প্রত্যেকটা জিনিসের।’ দেশের মানুষকে উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনী ইশতেহার পূরণ করা হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা যেটা যেটা ওয়াদা দিয়েছি, সেগুলো সম্পূর্ণ করছি। করোনাভাইরাস, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা না থাকলে দেশের কোনো সমস্যা হতো না। যে বিষয়গুলোতে আমরা আমদানিনির্ভর, সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে।’

নিজ নিজ জমিতে সবাইকে উৎপাদন করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের খাবারটা যেন আমরা নিজেরাই উৎপাদন করতে পারি, বাইরের দিকে তাকিয়ে থাকতে না হয়, সেই ব্যবস্থাটাই আমাদের নিতে হবে।’

নিষেধাজ্ঞায় আমেরিকা ও রাশিয়ার লাভ হয়েছে বলে জানান সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘রুবলের দামও বাড়ছে, ডলারের দামও বাড়ছে। বিশ^ব্যাপী রুবল ও ডলার স্টক হয়ে গেছে। মরতেছে সব দেশের সাধারণ মানুষ; বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের জন্য চরম দুর্ভোগ। সব দেশে একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, পাল্টা নিষেধাজ্ঞা ও যুদ্ধ মানুষের জীবনে সর্বনাশটা ডেকে এনেছে।’

জাতির পিতার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘১৫ আগস্টে কারবালার থেকেও জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটে। আমার শুধু একটা প্রশ্নই জাগে মনে, আমার বাবা-মা-ভাইয়েরা কী অপরাধটা করেছিল? কেন এভাবে হত্যা করা হলো? শূন্য হাতে একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ এবং একটা প্রদেশতাকে রাষ্ট্রে উন্নীত করা এবং এই বিধ্বস্ত বাংলাদেশকে গড়ে তোলা। হাতে সময় পেলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর। কোনো সম্পদ ছিল না।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটা শ্রেণি সব সময় রয়ে গেছে এই দেশে, যারা এই দেশের মানুষের কল্যাণ হোক এটা চায় না; অর্থাৎ স্বাধীনতাটা অর্থবহ হোক, স্বাধীনতার সুফল বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছাক, এখানে একটা বাধা দেওয়ার প্রচেষ্টা সব সময় আমরা দেখি। আমাদের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক যা-ই আসুক, আওয়ামী লীগের বা আমাদের সহযোগী সংগঠন সব সময় তারা কিন্তু সজাগ থাকে এবং মানুষের পাশে সবার আগে দাঁড়ায়। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সেই সংগঠনকে সুসংহত করা, এটাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত