হোয়াইট কালার ব্যাংকাররা গ্রামে যেতে চান না

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২২, ১২:৪৩ এএম

দেশের ব্যবসায়ী শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন বলেছেন, হোয়াইট কালার ব্যাংকাররা গ্রামে যেতে চান না। তারা বড় বড় কাস্টমরাকে ঋণ দেবেন। কারণ একজন কাস্টমারকে ১০০ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারলে ওই অফিসারকে আর কোথাও যেতে হয় না।

গত সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই ভবনে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর এসএমই উন্নয়ন ভাবনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, ৩০-৩২ হাজার কোটি টাকা মূলধনের একটি ব্যাংক ৫০ জন গ্রহীতাকে মোট ঋণের ৫০-৬০ ভাগ টাকা দিয়ে রেখেছে। আর ২-৩ লাখ গ্রাহককে বাকি টাকা সামান্য কিছু করে দিয়েছে। সেই ব্যাংকটির অবস্থা এখন দুর্বল। ১৯-২০ শতাংশ খেলাপি ঋণ ব্যাংকিং খাতে।

বিশ্লেষণ করে দেখেন এই ১৯-২০ শতাংশ ঋণখেলাপি কারা। বড়রা নাকি এসএমই ঋণ গ্রহীতারা। আমি একশ ভাগ নিশ্চিত ঋণখেলাপিদের সবাই বড়রা। ব্যাংকগুলো ছোটদের কাছে যাচ্ছে না। কারণ বড় বড় কাস্টমারকে ঋণ দিয়ে লাইফটাকে ইজি মনে করেন ব্যাংকাররা।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, এসএমই ঋণ বিতরণের বড় বাধা ব্যাংকারদের ফিক্সড স্যালারি ৩৯ হাজার টাকা। যে গতকাল ব্যাংকে জয়েন্ট করবে তাকে ৩৯ হাজার টাকা বেতন দিতে হবে। ব্যাংকগুলো সবাইকে তো সমান স্যালারি দিতে পারবে না। এনজিওগুলো গ্রামে ১০-১২ হাজার টাকা বেতনে লোক পাচ্ছে। তাদের ঋণের সুদ ২০ শতাংশ। আর ব্যাংক ঋণের সুদ ফিক্সড ৯ শতাংশ। ব্যাংক আর এনজিওর খরচের অনেক পার্থক্য আছে। তারপরও ব্যাংকের ঋণ গ্রামের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পাচ্ছেন না। এজন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেছিলাম। এসএমই নিয়ে যেসব ব্যাংক কাজ করে তাদের কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হয়। ঋণের কমপক্ষে ২৫ শতাংশ এসএমই খাতে দিতে ব্যাংকগুলোকে বাধ্য করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করেছিলাম এফবিসিসিআইর পক্ষ থেকে। প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ কর্মবাজারে প্রবেশ করছে। সরকার তো সবাইকে চাকরি দিতে পারবে না। এসএমই খাতকে তুলে আনতে না পারলে সবার কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে না।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমানে জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে, কৃষকরা যদি ফসল না ফলাত তাহলে তো আমরা শেষ হয়ে যেতাম। সারা বিশে^র মানুষ টাকা দিয়েও পণ্য পাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে কৃষকরাই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছেন। ছোট শিল্পগুলো গ্যাস বিদ্যুতের কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। তাদের পাশে তো আমাদের দাঁড়াতে হবে। না পারলে বঙ্গবন্ধু যেভাবে সোনার বাংলা চেয়েছিলেন সেটা হচ্ছে না। আমরা গুটিকয়েক মানুষকে বড় করার চেষ্টা করছি, ব্যাংকগুলোও সেটাই করছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত