বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পলাতক খুনিদের প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার কারণে তিন খুনির হদিস নেই। তারা কোথায় আছে কেউ জানে না। এ তিনজনকে ধরে এনে রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাদের খোঁজা হবে। ইঁদুরের গর্তে গিয়েও লুকিয়ে থাকতে পারবে না।
গতকাল সোমবার দুপুরে আখাউড়ায় জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। রেলস্টেশন চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল হয়। আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধুর পলাতক আরও দুই খুনির প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাদের ফিরিয়ে আনতে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে আনিসুল হক বলেন, ‘যদি ১৫ আগস্টে মিথ্যা জন্মদিন পালন না করে উনারা একটু সচেষ্ট হতেন খুনিদের ফিরিয়ে আনতে, তাহলে পথটা কিন্তু আমাদের জন্য সুগম হতো। সেটা না করে বিএনপি সরকার, এরশাদ সরকার, খালেদা জিয়ার বিএনপি সরকারÑ এসব সরকার কিন্তু এদের বিদেশে চাকরিও দিয়েছে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছে। তাদের পালিয়ে যেতে সুযোগটা দিয়ে আজকে আমাদের কাজটা কঠিন করে দিয়েছে।’
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘খুনি ডালিমের স্ত্রীর লাশ যখন বাংলাদেশে এসেছে তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুখ্য সচিব পর্যন্ত এয়ারপোর্টে গেছেন রিসিভ করতে, এটাও আমি জানি।’
তিনি বলেন, ‘সময় এখন কঠিন চলছে। সারা বিশ্বে সবকিছুর অভাব। বাংলাদেশের মানুষের কষ্ট শেখ হাসিনা বোঝেন, আমিও বুঝি। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি কষ্ট লাঘবের জন্য।’
আখাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আইন সচিব গোলাম সারোয়ার, আখাউড়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অংগ্যজাই মারমা, আখাউড়া-কসবা সার্কেল এএসপি কামরুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা পিয়ারা আক্তার প্রমুখ।
এর আগে সকালে আইনমন্ত্রী ট্রেনে করে আখাউড়া রেলস্টেশনে এসে নামেন এবং শোক র্যালিতে অংশ নেন। পরে উপজেলা চত্বরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।
