সুইডেনভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল নেত্র নিউজের তথ্যচিত্র ‘আয়নাঘর’ নিয়ে জাতিসংঘের অধীনে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার দাবি, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সময়ে বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে অপহরণ ও গুম করেছে এবং সেটা ওই তথ্যচিত্রে উঠে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও গণআন্দোলনে নিহত নেতাকর্মীদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেত্রনিউজে প্রকাশিত তথ্যচিত্রের বিষয়টি তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালিত আয়নাঘর সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সেই আয়নাঘরে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটক রাখা হয়েছে। তাদের সেখানে অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রচারের পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গত সোমবার একটি বিবৃতি দিয়েছে। ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের এই চিত্র অবশ্যই জঘন্যতম একটা ঘটনা। তারা বাংলাদেশে বর্তমানে অবস্থানরত জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের হাই কমিশনারকে বলেছেন যে, আপনি এটার নিন্দা করেন এবং এ সম্পর্কে নিরপেক্ষ সুষ্ঠু তদন্ত করেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ইতিহাস হলো গণতন্ত্রের ইতিহাস। তিনি নিজেই একজন প্রতিষ্ঠান। সারাটা জীবন গণতন্ত্র রক্ষা, পুনরুদ্ধার ও চর্চায় ব্যয় করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ের কারণে ভয়াবহ ফ্যাসিস্ট সরকার মিথ্যা মামলায় তাকে কারান্তরীণ করে রেখেছে। আমাদের নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। ৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন গ্রেপ্তার, মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীন অবৈধ সরকারের সঙ্গে পাক হানাদার বাহিনীর তুলনা করতে হবে। নির্যাতন হত্যা খুন করে অনির্বাচিত সরকার দেশের মানুষের আশা আকাক্ষা ধ্বংস করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহারের মাধ্যমে ত্রাস সৃষ্টি ও জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই, জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। সকলকে নিয়ে সরকার হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজপথে আন্দোলনের বিকল্প নেই।’
খালেদা জিয়ার মুক্তিই তাদের প্রথম দাবি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার পদত্যাগ করে সংসদ বিলুপ্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করবে। তাদের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনে যারা জনগণের প্রতিনিধি হবে, তাদের দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে।’
মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেন ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, উত্তরের আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান, বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, মীর সরফত আলী সপুসহ বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
