পারমাণবিক যুদ্ধ বাধলে ৫০০ কোটি মানুষ মরবে

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ০১:৪২ এএম

এই সময়ে কোনো পারমাণবিক যুদ্ধ বাধলে বোমার বিস্ফোরণ এবং এর প্রভাবে সৃষ্ট বৈশ্বিক দুর্ভিক্ষে বিশ্বের অন্তত ৫০০ কোটি মানুষ মারা যাবে। পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের কারণে তৈরি হওয়া তেজস্ক্রিয় ধুলাবালি-ছাইয়ে বায়ুমণ্ডলে আটকে যাবে সূর্যের আলো, এতে সরাসরি বিস্ফোরণের চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় পৃথিবী ধ্বংসের এমন মানবসৃষ্ট পরিণতির চিত্র উঠে এসেছে। নেচার ফুড নামের সাময়িকীতে এই গবেষণা ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় পারমাণবিক যুদ্ধের ছয়টি সম্ভাব্য দৃশ্যকল্প উঠে আসে। গবেষণা অনুযায়ী, সবচেয়ে বাজে পরিণতি হবে রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে। এই যুদ্ধে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। দুই শক্তিধর রাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন ৯০ শতাংশ কমে যাবে।

যুদ্ধে পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরিত হলে বায়ুমণ্ডলে ঢুকে যাওয়া ধুলাবালি, ছাইয়ের সম্ভাব্য মাত্রা হিসাব করে এই আনুমানিক তথ্য পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গবেষণা কাজে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক রিসার্চের আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রযুক্তির ব্যবহার করেন তারা। এর মাধ্যমে বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে শস্য উৎপাদনের সম্পৃক্ততা যাচাই করে বিশ্বের শস্য উৎপাদনের একটি আনুমানিক চিত্র দাঁড় করান বিজ্ঞানীরা।

তারা জানান, অপেক্ষাকৃত ছোট মাত্রার কোনো পারমাণবিক যুদ্ধও বৈশ্বিক খাদ্য উৎপাদনে ধ্বংসাত্মক পরিণতির জন্য যথেষ্ট। কেবল ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের খাদ্য উৎপাদন ৭ শতাংশ নেমে যাবে।

এ বছর ফেব্রুয়ারিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের নির্দেশে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া উপস্থিতি এবং তাদের নেতৃত্বে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এই পরিস্থিতিতে গত এপ্রিলে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ পারমাণবিক যুদ্ধ শুরুর ‘মারাত্মক’ ঝুঁকির ব্যাপারে হুঁশিয়ার করেন। এরপরই এই গবেষণা শুরু করেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।

গবেষণাপত্রের সহ-লেখক অধ্যাপক অ্যালান রোবোক বলেন, ‘প্রাপ্ত তথ্যগুলো থেকে একটি বিষয়ে বলা যায়। আর তা হলো, কোনো পারমাণবিক যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই আমাদের তা ঠেকাতে হবে।’

ইউক্রেনে চলমান অভিযানে দেশটির জাপোরিঝিয়া পরমাণু শক্তিকেন্দ্র এখন রাশিয়ার দখলে। তবে আপাতত স্বস্তির বিষয় হচ্ছে এই যুদ্ধে পারমাণবিক অথবা রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে রাশিয়া। গতকাল মঙ্গলবার রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধে জিততে এরকম কোনো অস্ত্র ব্যবহারের দরকার নেই রাশিয়ার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত