রোহিঙ্গা শিবিরে মিশেল

প্রত্যাবাসনের আশ্বাস জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২২, ০২:০৯ এএম

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট। এ সময় তার কাছে রোহিঙ্গারা নিজেদের অধিকার নিশ্চিত করে রাখাইনে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তবে রাখাইনের বর্তমান পরিস্থিতি ভালো না হওয়ায় রোহিঙ্গাদের এখনই সেখানে পাঠানো শুরু করাটা ঠিক হবে না বলে জানান মিশেল। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। গতকাল মঙ্গলবার রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদা আলাদা তিনটি মতবিনিময় সভা করেন মিশেল ব্যাচেলেট। উখিয়ার ৪ নম্বর শিবিরে হওয়া এসব বৈঠক শেষে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক রোহিঙ্গা মিশেলের সঙ্গে হওয়া তাদের আলোচনার সারবস্তু দেশ রূপান্তরের কাছে তুলে ধরেন।

গতকাল সকালে শুরুতে রোহিঙ্গা নারীদের সঙ্গে কথা বলেন মিশেল ব্যাচেলেট। পরে রোহিঙ্গাদের ধর্মীয় নেতা ও রোহিঙ্গা তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

চার দিনের বাংলাদেশ সফরের দ্বিতীয় দিন গত সোমবার বিকেলে মিশেল ব্যাচেলেট কক্সবাজার পৌঁছান। গতকাল সফরের তৃতীয় দিনে ইউএনএইচসিআরের নিবন্ধন কেন্দ্র পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে তার রোহিঙ্গা শিবিরের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) ই-ভাউচার কেন্দ্র পরিদর্শনের পর রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে মতবিনিময় করেন।

জানা গেছে, মিশেল ব্যাচেলেট রোহিঙ্গাদের কাছে ক্যাম্পের শরণার্থী জীবন কেমন কাটছে, সেখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তাদের শিক্ষা গ্রহণ সম্পর্কে জানতে চান। এছাড়া জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক এ হাইকমিশনার মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে রোহিঙ্গাদের কাছে তাদের মনোভাব জানতে চান।

গতকাল মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেওয়াদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা নারী গোলবাহার ও আমেনা খাতুন। তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে আলাপের সময় তারা ৮-১০ জন নারী একসঙ্গে ছিলেন। এ সময় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাদের স্বদেশে প্রত্যাবাসন করা হবে বলে তিনি তাদের আশ্বাস দেন।

একই ধরনের তথ্য দেন মিশেল ব্যাচেলেটের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা ধর্মীয় নেতা মসজিদের ইমাম মৌলানা নুর মোহাম্মদ, হাফেজ ইউনুচ ও মৌলানা আজিম উল্লাহ। তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, মিশেল ব্যাচেলেট বলেছেন, ‘মিয়ানমারে এখনো প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। পরিবেশ সৃষ্টি হলে, নাগরিক অধিকার হারানো রোহিঙ্গাদের ভিটেমাটি ফিরিয়ে দিলে এবং গণহত্যার বিচার করা হলে অবশ্যই রোহিঙ্গারা তাদের দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাবে। রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবাসন হলে অবশ্যই জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হবে। রাখাইনে প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘ মিয়ানমারসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

মতবিনিময় শেষে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বৃক্ষরোপণ এবং ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কথা বলেন মিশেল ব্যাচেলেট। পরে দুপুরে কক্সবাজার শহরে ফিরে তিনি শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শাহ রেজওয়ান হায়াতসহ বাংলাদেশ সরকারের শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন। তবে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় মিশেল ব্যাচেলেট বিমানযোগে কক্সবাজার এসে পৌঁছান। বাংলাদেশে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রথম কোনো প্রধান হিসেবে সফররত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির সাবেক এ প্রেসিডেন্ট।

চার দিনের সফরে গত রবিবার ঢাকায় এসে পৌঁছান ব্যাচেলেট। সেদিন রাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনসহ মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। কক্সবাজার সফর শেষে আজ বুধবার সকালে ঢাকায় পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ ত্যাগ করার কথা রয়েছে মিশেল ব্যাচেলেটের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত