ধর্ম অবমাননার মামলা

অব্যাহতি পেলেন শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২২, ১২:২৯ এএম

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল ধর্ম অবমাননার মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। গতকাল বুধবার মুন্সীগঞ্জ আমলি আদালত-১-এর বিচারক জশিতা ইসলাম এই রায় দেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিচারক জশিতা ইসলাম অব্যাহতির রায় লিখেন।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে হৃদয় মণ্ডল বলেন, তার ওপর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় তিনি এখন মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াতে পারবেন, সবাইকে বলতে পারবেন তিনি কোনো অপরাধ করেননি।

আদালত সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিচারক জশিতা ইসলাম এই মামলা থেকে হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে অব্যাহতি দেন। পরে তিনি রায় লিখলেও সময় স্বল্পতার কারণে রায়ে স্বাক্ষর করতে পারেননি। বুধবার বেলা ১১টার দিকে অব্যাহতির রায়ে স্বাক্ষর করেন তিনি।

গতকাল বিকেলে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের আইনজীবী শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ জানান, গত ৮ আগস্ট পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে হৃদয় চন্দ্র মন্ডলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর বুধবার হৃদয় চন্দ্র মন্ডল বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষক মানুষ। একটি মিথ্যা অভিযোগে আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। ১৯ দিন জেল খাটতে হয়েছে। মানুষের চোখে ছোট হতে হয়েছে। ভেতরে খুব চাপা কষ্ট ছিল। সব সময় অশান্তিতে ভুগতাম। অপরাধ না করেও অপরাধী ছিলাম। আজকে আমার ওপর আনা সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সব দোষ থেকে মুক্ত হয়েছি। এখন মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়াতে পারব। আমি সবাইকে বলতে পারব, আমি অপরাধী নই। আমি অপরাধ করিনি।’

গত ২০ মার্চ দশম শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছিলেন হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। সেখানে বিজ্ঞান ও ধর্ম বিষয়ে তার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের পক্ষে-বিপক্ষে কথোপকথন হয়। এক শিক্ষার্থী ওই কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে। পরে প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দীনকে বিষয়টি জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক সেদিনই হৃদয় চন্দ্র মন্ডলকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেন এবং শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বলেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কয়েকজন ও সাবেক শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানায়। পরদিন সকালে তারা বিদ্যালয়ে এসে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তারের দাবিতে সেøাগান দিতে থাকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে হৃদয় চন্দ্র মণ্ডলের বিরুদ্ধে ২২ মার্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. আসাদ বাদী হয়ে মামলা করেন। ওই দিনই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯ দিন জেলে থাকার পর ১০ এপ্রিল জামিনে মুক্তি পান হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল। অন্যদিকে এ ঘটনায় ১১ এপ্রিল মাউশি সরকারি হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হাই তালুকদারকে প্রধান করে এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গঠিত তদন্ত কমিটি ২০ এপ্রিল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে হৃদয় মণ্ডলের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের প্রমাণ পায়নি কমিটি। এর মধ্যে গত ২০ এপ্রিল, ২৪ মে ও ৮ আগস্ট এ মামলায় আদালতে হাজিরা দেন হৃদয় মন্ডল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত