বিনিয়োগের শিল্পী ঝুনঝুনওয়ালা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১২:১১ এএম

রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা  ভারতের সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারী। ১৯ শতকের শেষ দিকে মাত্র পাঁচ হাজার রুপি বিনিয়োগ করে তিন দশকের মধ্যেই ১১ হাজার কোটি রুপির মালিক বনে যান। ভারতের ওয়ারেন বাফেট খ্যাত এই ব্যবসায়ীর জাদুর হাতেই ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জের বিনিয়োগ খাত যেন হয়ে উঠেছিল শিল্প।লিখেছেন নাসরিন শওকত

সফল শেয়ার ব্যবসায়ী

ভারতের ধনকুবের, সবচেয়ে সফল শেয়ার ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী এবং প্রযোজক রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। পেশায় তিনি ছিলেন একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। শেয়ারবাজারে তার সফল বিনিয়োগের জন্য রাকেশকে ‘ভারতের ওয়ারেন বাফেট’ নামে ডাকা হতো। ভারতে বিশাল এই অর্থলগ্নিকারী বাজারের এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিনিয়োগকারী ছিলেন তিনি। কেবল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেই ৫০০০ রুপি থেকে ৮০০০ হাজার কোটি রুপির মালিক হয়েছেন তিনি। এই কিংবদন্তি বিনিয়োগকারীকে দালাল স্ট্রিটের মোগলও বলা হতো। ১৪ আগস্ট ভারতের এই অন্যতম প্রতিভাধর ও সফল ব্যবসায়ীর জীবনাবসান হয়। তার মৃত্যুতে ভারতের বিনিয়োগ বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। রাকেশ ও তার স্ত্রী রেখা ঝুনঝুনওয়ালার সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি লাভজনক বিনিয়োগ ছিল টাইটান কোম্পানির গহনার ব্যবসায়। যার বর্তমান শেয়ার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি রুপি (৪০০ কোটি ডলার)। তার মৃত্যুর পর এই বিশাল পরিমাণের শেয়ার ও তার স্বপ্নের বিমান সংস্থা আকাসা এয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বলা হয়, ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে উঠে আসেন। কিন্তু রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার ক্ষেত্রে এই বাণী তেমন টেকেনি। ১৯৬০ সালে ভারতের রাজস্থানের এক মাড়োয়ারি মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেন রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা। তারা বাবা রাধেশ্যাম ঝুনঝুনওয়ালা ছিলেন আয়কর দপ্তরের কর্মকর্তা। আর মা ঊর্মিলা ঝুনঝুনওয়ালা ছিলেন গৃহিণী। দুই বোন ও এক ভাইয়ের সঙ্গে হায়দ্রাবাদে শৈশবকাল কাটে তার। পরে মুম্বাইয়েই তার বেড়ে ওঠা। সে সময় তার সরকারি কর্মকর্তা বাবা বদলি হয়ে মুম্বাই আসেন। ১৯৮৫ সালে তিনি মুম্বাইয়ের সিডেনহাম কলেজ অব কমার্স অ্যান্ড ইকোনমিক্স থেকে স্নাতক অর্জন করেন। এরপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিনি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অব ইন্ডিয়ায় ভর্তি হন। পরে রাকেশ শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারী রেখা ঝুনঝুনওয়ালার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার ‘ভারতের ওয়ারেন বাফেট’ হয়ে ওঠার গল্পটা রীতিমতো রোমাঞ্চকর। কলেজজীবনে প্রথম শেয়ার জগতে প্রবেশ করেন। তবে একজন পেশাদার বিনিয়োগকারী হিসেবে ২৫ বছর বয়সে যাত্রা শুরু তার। পরবর্তীকালে ধীরে ধীরে তিনি নিজের বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান রেয়ার এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠা করেন। তার এই প্রতিষ্ঠান শেয়ার কেনাবেচার প্রথম সারির বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। যার মাধ্যমে তিনি ভারতের টেলিযোগাযোগ, আতিথেয়তা ও আর্থিক পরিষেবা খাতের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনিয়োগ করেছিলেন। মাইডাস টাচে বিনিয়োগ করার মধ্য দিয়ে রাকেশের বিনিয়োগকারী জীবনের যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২১ সালে ভারতের ইকোনমিক টাইমসকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাকেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতি তার দৃঢ় আস্থার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘আপনি হয়তো আমাকে বোকা ভাবতে পারেন, আপনি আমাকে যা খুশি তাই বলতে পারেন, কিন্তু আমি আপনাকে একটি কথা বলতে পারিআগামী ২৫ বছরে ভারত চীনকে ছাড়িয়ে যাবে। তবে আমি হয়তো তা দেখার জন্য বেঁচে থাকতে নাও পারি।’

মৃত্যুর সময় রাকেশের সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে বেশি লাভজনক বিনিয়োগ ছিল টাইটান কোম্পানির ঘড়ি ও গহনা ব্যবসা এবং টাটার বিভিন্ন পণ্যে। আবার তিনি আবাসন প্রকল্পেও কয়েক দফায় বিনিয়োগ করেছিলেন। তিনি হাঙ্গামা মিডিয়া ও অ্যাপটেকের চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ভাইসরি হোটেলস, কনকর্ড বায়োটেক, প্রভোগ ইন্ডিয়া ও জিওজিৎ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের পরিচালনা পর্ষদের একজন পরিচালকও ছিলেন। আবার সফল বিনিয়োগকারী রাকেশ ভারতের চলচ্চিত্র শিল্প বলিউডে একাধিক চলচ্চিত্রে প্রযোজনাও করেছিলেন। ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তার বিনিয়োগে নির্মিত চলচ্চিত্রের তালিকায় ছিল‘ইংলিশ ভিংলিশ’, ‘কি অ্যান্ড কা’, ‘শমিতাভ’-এর মতো ছবি। জানা যায়, তিনি অভিনেতাদের বিনিয়োগসংক্রান্ত পরামর্শ দিতেও ভালোবাসতেন। বিশ^খ্যাত ম্যাগাজিন ফোর্বসের ২০২২ সালের শীর্ষ ধনীর তালিকায় তিনি ছিলেন ভারতের ৩৬তম ধনকুবের। ২০২২ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত রাকেশের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫৩০ কোটি ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪২ হাজার ৪০০ কোটি রুপি, যা তাকে বিশে^র শীর্ষ ধনীর তালিকায় ৪৩৮তম স্থান এনে দেয়।

ধনী হওয়া সত্ত্বেও রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। ২০২১ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। সে সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তোলা তার কোঁচকানো সাদা শার্ট পরা একটি ছবি ভাইরাল হয়। পরে ইন্ডিয়া টুডের একটি বিশেষ সভায় তিনি অংশ নেন। সেখানে তাকে ওই ভাঁজপড়া শার্ট নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে রাকেশ বলেছিলেন, ‘সাদা শার্ট কুঁচকে যাবে, তাতে আমি কী করতে পারি? আমি ৬শ’ রুপি দিয়ে শার্টটি ইস্ত্রি করিয়েছিলাম, তারপরও ওটায় ভাঁজ পড়েছিল। এমনকি আমি হাফ প্যান্ট পরে অফিসে যাই। যখন অফিসে কোনো গ্রাহক থাকে না তখন বিষয়টিকে আমি আলাদাভাবে দেখে থাকি।’

দালাল স্ট্রিটের মোগল

বাবার হাত ধরেই রাকেশের বিনিয়োগ খাতের হাতে খড়ি। সে সময় তার বয়স ছিল ১০-১২ বছর। বাবা আয়কর কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে পারিবারিক পরিবেশে সবসময় কর, শেয়ার, অর্থ, মুনাফাএসব অর্থসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুনেই বড় হয়ে উঠেছেন। মুম্বাইয়ে কলেজে বাণিজ্য বিষয় নিয়ে পড়ার সময়েই তিনি প্রথমবারের মতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করেন। কলেজের পড়া শেষ করার পর তিনি ভারতের চার্টার্ড অ্যাকাউন্টস অব ইন্ডিয়া থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এই পড়া শেষ করার পরই রাকেশের দালাল স্ট্রিটের মোগল হয়ে ওঠার যাত্রা শুরু হয়।

সে সময় রাকেশের বাবা তার বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ারবাজার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতেন। বাবার কাছ থেকে শেয়ার বিষয়ে শুনে শুনেই শেয়ারবাজার নিয়ে তার আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। পরে নিজের বিনিয়োগ জীবন সম্পর্কে রাকেশ বলেছিলেন, ‘ওই সময়ে তার বাবা সবসময় রাকেশকে নিয়মিত পত্রিকা পড়তে বলতেন। বিশেষ করে বিনিয়োগ বাজারের ওঠা-নামা নিয়ে পত্রিকার যে অংশ লেখা হতো। বাবার উৎসাহ ও উদ্দীপনাতেই সে সময় তিনি ভারতের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগে অংশ নেন।’ প্রাথমিক অবস্থায় তার বাবা তাকে অর্থ জোগান দিতে অস্বীকার করেন। পাশাপাশি কিশোর বিনিয়োগকারী রাকেশের প্রতি বাবার কঠোর নির্দেশ ছিল, বিনিয়োগের জন্য তিনি যেন কোনোভাবেই কোনো বন্ধুর কাছ থেকে অর্থ সহায়তা না চান। তবে বরাবর ঝুঁকি নেওয়ার ধাত ছিল রাকেশের। তাই বিনিয়োগ জীবনের শুরুতেও সেই ঝুঁকি নিয়েই পথচলা শুরু তার। সে সময় ভাইয়ের এক গ্রাহকের কাছ থেকে ব্যাংকের তুলনায় উচ্চ সুদের প্রতিশ্রুতি দিয়েই অর্থ ধার করেছিলেন তিনি। সেই রুপি দিয়েই শেয়ারবাজারে জীবনের প্রথম বিনিয়োগ করেছিলেন রাকেশ। ১৯৮৫ সালে কলেজে পড়ার সেই সময়ে মুম্বাই শেয়ারবাজারে মাত্র ৫ হাজার রুপি বিনিয়োগ করেন তিনি। সে সময় শেয়ারবাজারে শেয়ারের বিনিময় সূচক ছিল ১৫০। এর ৩ দশক পার হতেই তার বিনিয়োগের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছিল ১১ হাজার কোটি রুপি।

১৯৮৬ সালে রাকেশ বিনিয়োগকারী হিসেবে তার জীবনের প্রথম বড় মুনাফা অর্জন করেন। সে সময় তিনি ৪৩ রুপি দামে টাটার চায়ের ৫ হাজার শেয়ার কেনেন। যার দাম তিন মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৩ রুপিতে। এই শেয়ার বিক্রি করেই তিনি ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিন ধাপে মুনাফা অর্জন করেন। এর পরের তিন বছর তার সেই লাভ বেড়ে দাঁড়ায় ২০ থেকে ২৫ লাখ রুপিতে। এর পরের বছরগুলোতে রাকেশ টাইটান, সিরসিল, সেসা গোয়া, প্রাজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দো ফার্মা ও এনসিসিএই বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করে গেছেন। তারপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কখনোই। পরের দুই বছর ২০০২ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে টাইটান কোম্পানির ৮ কোটি শেয়ার কিনেছিলেন রাকেশ। যার গড়ে প্রতি শেয়ারের দাম ছিল ৩ রুপি। গত ২০ বছরে এই শেয়ারের দাম বেড়ে প্রায় ২৫০০ রুপি হয়। এদিকে ২০০৮ সালে বিশ^জুড়ে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেয়। সে সময়ের পর বিনিয়োগ খাতে রাকেশের মূল্যের পতন ঘটে ৩০ শতাংশ। তবে এর ৪ বছরের মাথায় সেই ঘাটতি পূরণ করে নিয়েছিলেন তুখোড় এই ব্যবসায়ী। করোনা মহামারীর সময়ও তার মুনাফার অঙ্ক সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। সে সময় তার উপার্জন ছিল ১৪০০ কোটি রুপি। ২০২১ সালে রাকেশ টাইটান কোম্পানিতে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ করেছিলেন। যার মূল্য ছিল ৭ হাজার ২৯৪ দশমিক ৮ কোটি রুপি।

যত বিনিয়োগ

তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতে বিশালাকারের অর্থলগ্নিকারী এই শিল্পে রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা যেন এক রূপকথার জাদুকর ছিলেন। যার জাদুর ছোঁয়ায় ৩৭ বছরের বিনিয়োগ জীবনে কখনই ব্যর্থতার স্বাদ পেতে হয়নি তাকে। শেয়ারবাজারে রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার প্রভাব ছিল আকাশছোঁয়া। বাবার পর ভারতীয় শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ রাধাকৃষ্ণ দামানির কাছ থেকেও বাজারের খুঁটিনাটি শিখেছিলেন তিনি। শেয়ারবাজার বা স্টার্ট আপ ব্যবসাভারতের যে বিনিয়োগ খাতই হোক না কেন, সব বাজিতেই রাকেশ বিনিয়োগ করে একটানা মুনাফা গড়েছিলেন। এ কারণেই তাকে ভারতের বিনিয়োগ বাজারের ‘বিগ বুল’ বলা হতো। নিজের প্রতিষ্ঠান রেয়ার এন্টারপ্রাইজ গড়ার পর থেকে তিনি ধারাবাহিকভাবে টাইটান, সিরসিল (ঈওজঝওখ), সেসা গোয়া, প্রাজ ইন্ডাস্ট্রিজ, অরবিন্দো ফার্মা ও এনসিসি, অ্যাপটেক লিমিটেড, আয়ন এক্সচেঞ্জ, এমসিএক্স, ফরটিজ হেলথকেয়ার, লুপিন, ভিআইপি ইন্ডাস্ট্রিজ, জিওজিৎ ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, রালিস ইন্ডাস্ট্রিজ, জুবিলিয়েন্ট লাইফ সায়েন্স প্রভৃতি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বিনিয়োগ করেন।

 ব্লুমবার্গের তথ্য মতে, রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালার মোট বিনিয়োগের এক-তৃতীয়াংশই রয়েছে টাইটান কোম্পানির গহনা ব্যবসায়। এ ছাড়াও স্টার হেলথ ইন্স্যুরেন্স, জুতো প্রস্তুতকারক সংস্থা মেট্রো, টাটা মোটরস, তথ্যপ্রযুক্তি ফার্ম অ্যাপটেক, ভিডিওগেম প্রস্তুতকারক সংস্থা নজারা টেকনোলজিতেও রয়েছে তার বিপুল শেয়ার। টাইটানে বিনিয়োগের অঙ্ক ৭ হাজার ২৯৫ কোটি রুপি। এ বছরেই একটি জুতা প্রতিষ্ঠানের যে শেয়ার কিনেছিলেন, সেটিও কয়েক দিনের মধ্যেই সর্বোচ্চ মূল্যে পৌঁছেছিল। মাত্র এক দিনে রাকেশ ওই শেয়ার বিক্রি করে ২২১ কোটি রুপি মুনাফা অর্জন করেন।

ধারণা করা হয়, রাকেশের জীবদ্দশায় তার সমকক্ষ কাউকেই দেখতে পাওয়া যায়নি। এই শিল্পের খুচরো বিনিয়োগকারীদের কাছে তিনি ছিলেন এক অপ্রতিরোধ্য গতির নাম। এক জীবনের বিপুল পরিমাণের এই অর্থ কীভাবে উপার্জন করেছেন সে সম্পর্কে তিনি পরে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘আমি আমার জীবনে সবচেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করেছি শেয়ার বিক্রি করে।’ তার সম্পর্কে ভারতের বাজারবিষয়ক প্রখ্যাত ভাষ্যকার অজয় বার্গা বিবিসিকে বলেছিলেন, ঝুনঝুনওয়ালার ‘ভারতের গল্পের রূপকার’ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা এক তরুণ, যিনি বিশাল ভাগ্য গড়ে তুলে পদমর্যাদার শীর্ষে পৌঁছেছিলেন।’

স্বপ্নের আকসা এয়ার

বিচক্ষণ এই ব্যবসায়ী শেয়ারবাজারের পর বিমান পরিষেবা ব্যবসায়ও বিনিয়োগ করেছিলেন। দেশের সর্বস্তরের মানুষ যাতে সাধ্যের মধ্যে বিমান পরিষেবা পেতে পারেন সেই ভাবনা লালন করতেন স্বপ্নচারী রাকেশ। আর এই আকাক্সক্ষা থেকেই মূলত চালু করেছিলেন তার বিমান সংস্থা আকসা এয়ার। সংস্থাটির অন্যতম দুই সহ-প্রতিষ্ঠাতা হলেন আদিত্য ঘোষ, বিনয় দুবে। আকসা এয়ারে রাকেশের শেয়ারের পরিমাণ ৪০ শতাংশ। রাকেশের মৃত্যুর পর অকসা এয়ারের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিনয় দুবে বলেন, ‘কাজের প্রতি, দেশের প্রতি, দেশবাসীর প্রতি অদম্য আবেগ ছিল তার। সংস্থার প্রত্যেক কর্মীর কথা ভাবতেন তিনি। ঝুনঝুনওয়ালার উত্তরাধিকার, মূল্যবোধ, বিশ্বাসকে সম্মান করবে অকাসা এয়ার। একদিন বিশ্ব মানের এক বিমান সংস্থা হবে।’ রাকেশের মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে ৭ অগস্ট সকালে প্রথমবারের মতো অকসা এয়ারের দুটি বিমান আকাশে ওড়ে। ২০২৩ সালের মধ্যে সংস্থাটির বিমান সংখ্যা বাড়িয়ে ১৮টি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিতর্ক ও সমাজসেবা

৬২ বছরের যশ-খ্যাতির পরও রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে নন। তার বিরুদ্ধে শেয়ারের কালোবাজারের (্ইনসাইড ট্রেডিং) সম্পৃক্ততার অভিয়োগ উঠেছিল। ২০২১ সালে ভারতের সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে নিজের ঝুনঝুনওয়ালা অ্যাসোসিয়েটসের পক্ষ থেকে ১৮ দশমিক ৫ কোটি রুপি ও তার স্ত্রী রেখার পক্ষ থেকে ৩ দশমিক ২ কোটি রুপি মিলিয়ে ৩৫ কোাটি রুপি পরিশোধ করে ওই বির্তকের সমাপ্তি ঘটান।

রাকেশ তার জীবদ্দশায় বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকা-ে সক্রিয় ছিলেন। এই সেবা খাতের মধ্যে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাত অন্যতম। রাকেশ ঝুনঝুনওয়ালা তার সম্পত্তির ২৫ শতাংশ দান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত