অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ০১:২৯ এএম

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষাব্যবস্থা না থাকায় ও নবায়ন না করায় ২০১৭ সালে রাজধানীর কেয়ার মেডিকেল কলেজ কর্র্তৃপক্ষকে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তির নিষেধাজ্ঞা দেয় মন্ত্রণালয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ওই কলেজের নিবন্ধন বাতিল করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)। অধিদপ্তর ও বিএমডিসি শর্ত দেয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক ও ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য হাসপাতালে প্রয়োজনীয় রোগীর ব্যবস্থা না করে কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কেয়ার মেডিকেল কলেজ তাদের রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করেনি। এমনকি কলেজ চালানোর জন্য হাসপাতালে যে অবকাঠামো দরকার, সেটিও নেই। ফলে বিএমডিসি ওই কলেজের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন বন্ধ করে রেখেছে।

অবশ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে ও তথ্য গোপন রেখে গত চার শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে (২০২১-২২ সেশন) ভর্তি কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। সম্প্রতি কলেজের অনুমোদন না থাকার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। শিক্ষার্থীরা অন্য বেসরকারি কলেজে স্থানান্তরের দাবিতে গত ৫ আগস্ট থেকে আন্দোলনে নামেন। গতকাল পর্যন্ত আন্দোলন চলছিল।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মেহেরুন্নেসা গত ১৪ আগস্ট স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে কলেজের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অন্যত্র ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার জন্য আবেদন জানান এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন। কিন্তু কলেজের নিবন্ধন নবায়ন না হওয়ায় এবং বিএমডিসির অনুমোদন না থাকায় এ ব্যাপারে অপারগতা প্রকাশ করে অধিদপ্তর।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এএমএইচ এনায়েত হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাকে ফোন করলে তার সহকারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্যার ওটিতে। ওটি শেষ হবে রাত ১১টায়। তখন ফোন দিয়েন।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. বেলাল হোসেন দেশ রূপান্তরকে জানান, কেয়ার মেডিকেল কলেজে আন্দোলনের বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

গতকাল আসাদগেটে কেয়ার মেডিকেল কলেজের সামনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা দেশ রূপান্তরকে জানান, কলেজে শিক্ষার অনুপযোগী পরিবেশ, অ্যাকাডেমিক ও ক্লিনিক্যালের বিষয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকা, অধিকাংশ সময় সব ওয়ার্ড রোগীশূন্য থাকায় প্রফেশনাল পরীক্ষার জন্য রোগী ভাড়া করে নিয়ে আসার অভিযোগে কলেজের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা মাইগ্রেশনের জন্য আন্দোলন করছেন। তারা বলেন, ১৮-২০ লাখ টাকা দিয়ে ভর্তি হয়ে যদি চিকিৎসকের সনদ না পান তাহলে এখানে থেকে কী লাভ। এখানে থেকে নিজেদের সঙ্গে আমাদের পরিবারটাও ধ্বংস করে ফেলেছি। ভর্তির পর থেকে বিভিন্ন ধরনের নাজুক ও চিকিৎসা শিক্ষার অনুপযোগী পরিবেশের মধ্যে দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। বিএমডিসি নিয়ম অনুসারে কলেজে অ্যাকাডেমিক ও ক্লিনিক্যালের প্রতি বিষয়ে পর্যাপ্তসংখ্যক অধ্যাপক, প্রভাষক ও রেজিস্ট্রার চিকিৎসক নেই। নীতিমালা অনুযায়ী ৫০০ শয্যার হাসপাতাল থাকার কথা। কিন্তু হাসপাতালে রোগী নেই বললেই চলে। পর্যাপ্ত পরিমাণে শয্যা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত