গাজীপুরের শ্রীপুরে মধ্যরাতে একটি খাবার হোটেলে নেতাকর্মী নিয়ে খেতে আসেন যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান জন। খাওয়া শেষে আরও কয়েক প্যাকেট খাবার পার্সেল দিতে বলেন তিনি। খাবারের বিল ও বকেয়া টাকা চাইলে হোটেলকর্মীদের মারধর করে ভাঙচুর চালান নেতাকর্মীরা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে মাওনা চৌরাস্তায় ‘বরমী হোটেল অ্যান্ড মিষ্টি ঘর’ নামে ওই হোটেলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ২টার দিকে যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান জন তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে খেতে আসেন। শেষে বিল চাওয়া নিয়ে হোটেলের লোকজনের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জন ও তার সহযোগীরা হোটেল ভাঙচুর করেন। হোটেলের কর্মীরা বাধা দিলে তাদের মারধর করেন।
হোটেলের কর্মকর্তা সোহাগ আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, ‘শ্রীপুর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি প্রার্থী আজিজুর রহমান জন ও তার কয়েক সঙ্গী হোটেলে ব্যাপক ভাঙচুর করেছেন। এ সময় হোটেলের ওয়েটার মফিজ মিয়া ও কারিগর মো. শফিকুল ইসলামকে মারধর করা হয়েছে। তাদের দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মাঝেমধ্যেই দলবল নিয়ে বাকিতে খেয়ে চলে যান আজিজুর রহমান জন। টাকা চাইলে খারাপ আচরণ করেন। অনেক সময় ভয়ে আমরা চুপ থাকি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান জন বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে আমার নেতাকর্মীদের নিয়ে এসেছি। কাউকে আমি মারধর করিনি। ওই হোটেলে আমরা খাওয়া-দাওয়া করলেও প্রায়ই বকেয়া টাকা বড় অঙ্কে পরিশোধ করা হয়। বিষয়টি হোটেল ব্যবস্থাপক জানেন। প্রতিবার খাওয়ার পর আগেই বাকি সম্পর্কে অবহিত হয়ে তা পরিশোধ করি। সেখানে আমার ছেলেপেলেদের সঙ্গে তাদের ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। মারধরের অভিযোগটি সঠিক নয়। সিসিটিভি দেখলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।
শ্রীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে কাউকে পাইনি। শুনেছি খাওয়া-দাওয়া নিয়ে কিছু লোকজনের সঙ্গে হাতাহাতি হয়েছে।’
শ্রীপুর থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলেই এর ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
