অমিত হাবিব নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অন্যের মাঝে

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২২, ১০:৪৭ পিএম

দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রয়াত অমিত হাবিব স্মরণে আলোচনা সভায় আলোচকরা তার সততা ও নিষ্ঠাময় দীর্ঘ কর্ম জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার বিকেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ইসফেন্দিয়ার জাহেদ হাসান মিলনায়তনে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশনস আয়োজিত 'অনির্ণীত অমিতদা' শিরোনামে অমিত হাবিব স্মরণসন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

ইতিহাসবিদ সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, অমিত হাবিব একজন স্বাধীনচেতা মানুষ ছিলেন। তার সঙ্গে যখন আমার পরিচয় হয়েছে, তার আগে তার সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিল না। আমি যখন ক্লাসে স্টুডেন্টদের পড়াই, তখন চারটি ক্যাটাগরিতে একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করি। সেই চার ক্যাটাগরির মধ্যে চারটিই অমিত হাবিবের মধ্যে আমি পেয়েছি। ডেইলি সান পত্রিকার যখন সম্পাদক ছিলাম, তখন তার সঙ্গে আমার তিন-চারটি মিটিং হয়েছে। তখনই আমি তার সম্পর্কে বুঝতে পারি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, অমিতের সঙ্গে আমার ভোরের কাগজে পরিচয় হয়। আজকে অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার পর থেকে আপনাদের কাছ থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় আমি আরো জানলাম ওনার সম্পর্কে। আজকের এই মুহূর্তে শবনম ফেরদৌসী থাকলে আরো ভালো হতো। অমিত সম্পর্কে তার লেখাটা আমি পড়েছি।

তিনি আরো বলেন, অমিত হাবিবের সহকর্মীদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে তিনি অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন অন্যের মাঝে। পৃথিবীতে অনেক মানুষ আছে যারা নিজের জন্য কিছু না আর কেউ অন্যের মাঝে সবকিছু বিলিয়ে দেন। তিনি ওই প্রকৃতির মানুষ ছিলেন।

কালের কণ্ঠের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী বলেন, অমিতদার গড়া পত্রিকায় (কালের কণ্ঠ) আমি এখন কাজ করছি। দাদা এই পত্রিকা তৈরি করে তিনি কী চাইছিলেন, সেটা কী করেছেন বা কী পারলেন না- সেটা বুঝেই আমি কাজ করতে চাই।

দেশ রূপান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোস্তফা মামুন বলেন, ১৯৯৫ সাল থেকে ভোরের কাগজে কাজ করতে গিয়ে অমিত হাবিবের সঙ্গে আমার পরিচয়। সেই সময় আমরা তাকে যেরকম দেখেছি শেষ সময়ে এসে আর অন্যরকম দেখেছি। ভোরের কাগজে নিজের রুমে সবাই মনোযোগ দিয়ে ওনার কথা শুনতেন। দেশ রূপান্তরের শেষ সময়টুকুতে আমি দেখেছি সবার কথা কীভাবে মনোযোগ দিয়ে শুনতে হয়।

তিনি বলেন, সংবাদের জন্য তিনি নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি একটি বিষয় যুক্তি দিয়ে পক্ষে ও বিপক্ষে সমানতালে বোঝাতে পারতেন।

ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবিদ-এ-আজাদ জানান, অমিত হাবিবকে নিয়ে প্রকাশিত হবে 'অনির্ণীত অমিতদা' শিরোনামের বই। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে লেখা আহ্বান করেন তিনি।

তিনি বলেন, আমরা বইটি প্রকাশ করব ৪ অক্টোবর ২০২২ তারিখে। অমিত হাবিবের জন্মদিনে।

তিনি বলেন, যে যাই লিখতে চাইবে তাই আমরা তাই এই সংকলনে রাখতে চাই। আমরা চাই কোনো অংশ যেন বাদ না যায়।

প্রয়াত অমিত হাবিবের ভাই ফয়জুল হাবিব রাঙা বলেন, আমার ভাই অসম্ভব মেধাবী ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার তিনিই আমার বাবার মতো হয়ে হয়ে ছিলেন। তার ঋণ কখনো শোধ করা যাবে না।

তিনি বলেন, অমিত হাবিবের স্মৃতিতে আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ট্রাস্ট, ফাউন্ডেশনের মতো কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে আমার ভাই অমিত হাবিবকে স্মরণ রাখতে পারে।

অনুষ্ঠান শেষে অমিত হাবিবের জন্মদিনে করা একটি ডকুমেন্টারি পরিবেশন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অমিত হাবিবের সবচেয়ে কাছের দুই সহকর্মী সাংবাদিক উৎপল শুভ্র ও মুন্নি সাহা।

এ ছাড়া স্মরণ সভায় স্মৃতিচারণ করেন আলোকচিত্রী আক্কাস মাহমুদ, সাংবাদিক সুমনা শারমিন, দেশ রূপান্তরের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক জুয়েল মুস্তাফিজ, প্রধান আলোকচিত্রী শাহাদত পারভেজ, সাংবাদিক ও লেখক মাহবুব মোর্শেদ, এহসান মাহমুদ, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক মশিউল আলম প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত