মিডিয়াকে সহনশীল হওয়ার অনুরোধ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২২, ০২:০৯ এএম

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, এ দেশ স্বাধীন। এখানে সবার বাকস্বাধীনতা আছে। ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। কোনো কোনো লোক বলে আমরা নাকি মিডিয়াকে কন্ট্রোল করি। এটা মোটেও সঠিক না। যতদিন পাবলিক লাইফে আছি অবশ্যই মিডিয়া আমাকে নিয়ে গল্প বানাবে। তবে বেশি বেশি ডাহা মিথ্যা বললে খারাপ লাগে। তাই মিডিয়াকে একটু সহনশীল হওয়ার অনুরোধ করেন মন্ত্রী।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

দ্রব্যমূল্য নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জিনিসপত্রের দামে আমরা খুব কষ্টে আছি। যথেষ্ট কষ্টে আছি। সবকিছুর দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন। মানুষের যাতে কষ্ট না হয় সেটা আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

তিনি আরও বলেন, ডিমের দাম ৯০ টাকা ছিল সেটা হয়ে গেল ১৫০ টাকা। আমি এটা কোনোভাবে অঙ্কে মেলাতে পারি না। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে একটা কারসাজি আছে। অত বাড়ার কোনো কারণ নেই। কিছু একটা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য কিছু লোক এর পেছনে লেগেছে।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা আছেন বলেই আমাদের দেশের উন্নয়ন হচ্ছে, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে। অসাম্প্রদায়িক সমাজব্যবস্থা গড়ে তুললে সবার মঙ্গল হবে। আর এদেশে যত নাগরিক আছে সে যেকোনো ধর্মের হোক, সবার সমান অধিকার। শেখ হাসিনা যদি সরকারে থাকেন, তাহলে স্থিতিশীলতা থাকে। আর স্থিতিশীলতা থাকলেই আমাদের উন্নয়নের মশাল অব্যাহত থাকবে।’

ভারতে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি ভারত সরকারকে বলেছি, কিছু কিছু লোক সময় সময় অনেক উসকানিমূলক কথা বলে। আপনার দেশেও কিছু দুষ্ট লোক আছে, আমার দেশেও দুষ্ট লোক আছে। তারা তিলকে তাল করে। আপনার সরকারের একটা দায়িত্ব হবে এবং আমার সরকারেরও দায়িত্ব আছে তিলকে তাল করে দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি না করে দেওয়া। আমরা যদি এটা করি, তাহলে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি থাকবে। আমাদের মধ্যে কোনো অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে না। আমরা চাই শেখ হাসিনা স্থিতিশীল থাকুক। এ ব্যাপারে আপনারা (ভারত সরকার) সাহায্য করলে খুশি হব।’

এ প্রসঙ্গে ড. মোমেন আরও বলেন, ‘আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, আপনাদের আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন শেখ হাসিনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। উনি বলেছেন বাংলাদেশে দুষ্কৃতকারীদের কোনো জায়গা নেই। এরপর আসাম, মেঘালয়ে আর সন্ত্রাসী তৎপরতা নেই। সন্ত্রাসী তৎপরতা না থাকায় তাদের দেশের উন্নতি হচ্ছে। এতে এখানে বহু হাসপাতাল, বহু ইনভেস্টমেন্ট আসছে।’ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ভারত সরকারকে বলেছি আপনার মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন শেখ হাসিনা থাকায় স্থিতিশীলতা আছে। স্থিতিশীলতা থাকায় আপনাদের দেশের উন্নতি হচ্ছে, আমাদের দেশেও উন্নতি হচ্ছে। ব্যবসাবাণিজ্যে আমরা আপনাদের দেশে আসছি। ব্যবসাবাণিজ্য ভালো হচ্ছে। সুতরাং স্থিতিশীলতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুব দরকার। তাতে আপনার দেশেরও মঙ্গল হবে আমাদের দেশেরও মঙ্গল হবে। আমরা চাই অত্র এলাকায় স্থিতিশীলতা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা চাই না।’

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত