বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সাধারণত জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। আগামী আসরও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরবর্তী আসরে বিদেশী টি-টোয়েন্টির তারকাদের পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। তারকা ক্রিকেটারদের টুর্নামেন্টে চুক্তিবদ্ধ করতে হলে দলগুলোকে ভালোই লড়াই করতে হবে। কারণ একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ান বিগ ব্যাশ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি ও দক্ষিণ আফ্রিকার এখনও নামহীন লিগ শুরু হবে।
বিসিবি আগেই জানিয়েছিল, বিপিএলের পরবর্তী আসর শুরু হবে ৬ জানুয়ারি থেকে। যা শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। টুর্নামেন্টের পরবর্তী দুটি আসরের জন্যও একই সময় নির্ধারণ করেছে। আগামী বছরের আসরে অংশ নিতে আগ্রহীদের জন্য এক্সপ্রেস অফ ইন্টারেস্টের (ইওআই) সময়সীমা ৩১ আগস্ট শেষ হচ্ছে।
বিপিএলের অন্যান্য আসরগুলোতে আন্দ্রে রাসেলের মতো ক্রিকেটাররা মাতিয়ে গেছেন। কিন্তু ৬ জানুয়ারি থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের লিগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার লিগেও তার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কথা জানা গেছে। নবাগদ দুই লিগের চাহিদার কাছে বিপিএলের গুরুত্ব খুব কমই বলে মনে হচ্ছে।
এই বিষয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, বিপিএলের সূচিতে পরিবর্তন করার জন্য এমিরেটস ক্রিকেট ইতোমধ্যে বোর্ডকে জোর দিয়েছিল। তবে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে সেটা অসম্ভব।
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের অনুরোধ করেছিলেন, বিপিএলের তারিখে পরিবর্তন আনার জন্য। তবে আমরা বলেছি যে আমাদের ঠাসা আন্তর্জাতিক সময়সূচির কারণে আমরা এটি অসম্ভব।’
বিপিএলে বড় তারকা পাওয়াকে তিনি চ্যালেঞ্জিং হবে বলেও মনে করছেন। এ বিষয়ে বলেন, ‘টি-টোয়েন্টির বড় তারকাদের বিপিএলে পাওয়া একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে আমাদের জন্য। তবে একই সঙ্গে আপনাকে বুঝতে হবে যে আমাদের কিছু ক্রিকেটার তাদের লিগে পাওয়া যাবে না। তাই এটি কেবল আমাদের জন্য নয়, অন্যদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং হবে।’
বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিরা আগের চেয়ে এখন ভালোভাবে পরিকল্পনা করতে পারবে বলে মনে করেন বিসিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা চাই ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ক্রিকেট নিয়ে সংগঠিত থাকতে। এবার ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তিন বছরের জন্য বিপিএল দলের মালিকানা পাচ্ছে। আশা করি এবার তারা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা করতে পারবে। খেলোয়াড়দেরও তারা দীর্ঘমেয়াদে চুক্তিবদ্ধের সুযোগ পাবে।
যদিও বিপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ক্রিকেটারদের শেষ পর্যন্ত যুক্ত করতে পারবে কি না সেটা বলে দেবে টাকার অংক। কারণ গ্রেড এ বিদেশী ক্রিকেটারদের জন্য বিপিএলে আশি হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে দেওয়া। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএল টি-টোয়েন্টি লিগে এ গ্রেডের ক্রিকেটাররা তার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বিগব্যাশে যা প্রায় তিন গুণ।
দক্ষিণ আফ্রিকার নতুন টি-টোয়েন্টি লিগের নাম এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে আগামী বছরেই অনুষ্ঠিতব্য সেই টুর্নামেন্টের বেশিরভাগ দলগুলো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানাধীন। আন্দ্রে রাসেল, সুনীল নারিন, মঈন আলী, আন্দ্রে ফ্লেচার, ডোয়াইন ব্রাভো, মুজিব উর রহমান, ফাফ ডু প্লেসিস, রিলে রসু এবং কলিন ইনগ্রামের মতো খেলোয়াড়রাও তাই আফ্রিকার এই লিগটিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। এই ক্রিকেটাররা বিপিএলের আগের আসরে খেলে গেছেন।
