পদ্মা সেতুতে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা ১২টার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর নিচে রেল অংশে এ কাজের উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।
আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষের আশা প্রকাশ করে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘এতদিন সমন্বয়ের কারণে সেতুর ওপরে কাজ করা যাচ্ছিল না। তবে মূল সেতুতে বহুল প্রত্যাশিত রেলট্র্যাক বসানোর কাজ শুরু হলো। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ কাজ শেষ হবে।’
তিনি বলেন, ঢাকা-যশোর পর্যন্ত রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ এগুচ্ছে তিন ভাগে। যার মধ্যে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত অগ্রগতি ৬৬ শতাংশ, মাওয়া- ভাঙ্গা অংশের অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ আর ভাঙ্গা-যশোর অংশের অগ্রগতি ৫২ শতাংশ।
আগামী বছরের জুনের মধ্যে ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এই রেলপথের জন্য ১০০ রেলকোচের ব্যবস্থা হচ্ছে, চলবে ছয়টি ট্রেন। প্রকল্প সম্পন্ন করতে সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও নির্ধারিত সময়েই কাজ শেষ হবে।’
সংশ্লিষ্টরা জানান, কাজ শুরুর প্রথম দিন সেতুর জাজিরা প্রান্তে ৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে পাথরবিহীন রেললাইন বসানো হয়। মূল সেতুতে রেললাইন বসবে ৬ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। দুই পাশের ভায়াডাক্ট মিলিয়ে ১৩ দশমিক ২৭ কিলোমিটারে বসবে পাথরবিহীন রেলট্র্যাক।
পদ্মা সেতু ও এর দুই প্রান্তে রেললাইন নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। তবে সড়কপথের জন্য মূল সেতুতে সø্যাব বাসানোর পর বন্ধ রাখা হয়েছিল রেলপথের কাজ। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৬১ শতাংশ। এ পথে রেল চালু হলে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব কমবে ২০০ কিলোমিটারের বেশি। ২০২৪ সালে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পরে রেলমন্ত্রী পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পাশে নির্মিত জংশন স্টেশনের রেললাইন স্থাপন কাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ২০২৩ সালের জুন মাস থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে রেল চলাচল করবে।
তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙ্গা স্টেশনকে আধুনিক জংশন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। এ জংশনে মাগুরা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর রেল সংযোগের স্টেশন পয়েন্ট হবে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্পের চিফ কো-অর্ডিনেটর মেজর জেনারেল জাহিদ হাসান, এডিসি (রেভিনিউ) তাসলিমা আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজিম উদ্দিন, ভাঙ্গা থানার ওসি জিয়ারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
