মাওলানা তাজউদ্দিন ও রাতুল বাবু সহোদর। তাদের বড় ভাই জোট সরকারের সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু। তিনি কারাগারে রয়েছেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পরই তাজউদ্দিন ও রাতুল দক্ষিণ আফ্র্রিকায় পালিয়ে যান। সূত্রমতে, তারা সেদেশের রাজধানী কেপটাউনে ব্যবসা করছেন। একই ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি হানিফ পরিবহনের মালিক মোহাম্মদ হানিফ থাকেন মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে। সূত্র জানায়, তিনি ব্যবসা করেন।
তারা সবাই গ্রেনেড হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। তাদের নামে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড নোটিস জারি করেছিল। রেড নোটিসকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ তিন জনের মতো অন্যরাও ব্যবসা করছেন বিভিন্ন দেশে। ১৮ জন দেশের বাইরে আছেন। ১০ জনের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি রয়েছে। পাশের দেশ ভারতের তিহার জেলে আটক রয়েছেন ২ জন। এ আসামিদের দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে রেড নোটিসের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ কর্মকর্তারা ইন্টারপোলের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেছেন। জানা গেছে, ইন্টারপোল এখনো সাড়া দেয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় হয়েছে। দন্ডিতদের কেউ কেউ দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের পাশাপাশি পুলিশ সদর দপ্তর কাজ করছে। আশা করছি, দ্রুত তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।’
পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখার প্রধান ও অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মহিউল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রেড নোটিস কাজে আসছে না তা বলা যাবে না। নোটিসের কারণে অপরাধীদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক থাকে। আসামিরা কোন কোন দেশে পালিয়ে আছেন সে তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনের অবস্থান সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে বলা যায়। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’
প্রসঙ্গত, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা হয়। এতে প্রাণ হারান মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী। ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর বিচারিক আদালতের রায়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে ১৯ জনকে মৃত্যুদন্ড ও ১৯ জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। দন্ডিত ৪৪ আসামি হাইকোর্টে আপিল করেন। যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে চেষ্টা করেও ইন্টারপোলের রেড নোটিসের আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ। গত পাঁচ বছরে চারবার আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করতে ইন্টারপোলে আবেদন করে পুলিশ। ইন্টারপোল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি।
পুলিশ সূত্র জানায়, গ্রেনেড হামলার মামলায় আসামি ছিল ৫২ জন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক শিক্ষা উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুসহ ৩০ জন কারাগারে আছেন। অন্য মামলায় ৩ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর হয়েছে। বাকিরা দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন। তারেক রহমান এক যুগের বেশি লন্ডনে অবস্থান করছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তিনি মারা গেছেন বলে তার পরিবারের দাবি। সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে রয়েছেন। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এটিএম আমিন আমেরিকা, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম কানাডা, ইকবাল হোসেন, মাওলানা আবু বকর, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর, মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার ও মুফতি শফিকুর রহমান সৌদি আরবে রয়েছেন। হুজির সদস্য আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন ভারতের তিহার জেলে আটক আছেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, ‘তারেক রহমান ও কায়কোবাদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারি ছিল। কিন্তু তারা নোটিসের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল সদর দপ্তরে আবেদন করে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। পরে নোটিস প্রত্যাহার করে নেয় ইন্টারপোল। আমরা চেষ্টা করছি ইন্টারপোলকে বোঝাতে, কী কারণে তাদের রেড নোটিস দিতে হবে। আশা করি, ইন্টারপোল আবারও নোটিস জারি করবে।’
