টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ সবসময় দুর্বল। ১২৩টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে টাইগাররা। জয় পেয়েছে মাত্র ৪৩টিতে। জয়ের হার ৩৫.৫৩ শতাংশ। এই সংস্করণের সাম্প্রতিক ফলগুলোও এত ভালো নয়। সবশেষ ৬ ম্যাচের ৪টিতেই হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে। বিপরীতে জয় এসেছে মাত্র একটি, অন্যটিতে কোনো ফল আসেনি। দলের এমন নড়বড়ে অবস্থা ভাবিয়ে তুলেছে বিসিবিকেও। তাই দলে নিয়ে আসা হয়েছে একজন টি-টোয়েন্টি কনসালটেন্টকে।
তবে নতুন কনসালটেন্ট নিয়োগ দিয়ে রাতারাতি পরিবর্তনের আসা না করতে বলেছেন টাইগারদের নতুন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। বরং নতুন যাত্রা শুরুর জন্য ধৈর্য ধরতে বলেছেন। তিনি এও বলেছেন, যারা ভাবেন এক-দুই দিনের মধ্যে সব পরিবর্তন হয়ে যাবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।
এশিয়া কাপ দিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের জন্য নতুন কোচ নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বোর্ডের। ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে রাসেল ডোমিঙ্গো অধ্যায়ের অবসান হবে। যার অধীনে টাইগাররা ৪৬টি টি-টোয়েন্টি খেলে জিতেছে মাত্র ১৯টিতে। যেখানে এই সংস্করণের বিশ্বকাপের পর ১১ ম্যাচের মধ্যে মাত্র দুটি ম্যাচে জয় পেয়েছে। দলের দুরাবস্থা বোঝাতে এই পরিসংখ্যানই যথেষ্ঠ।
পরিসংখ্যানে বদল আনতে বিসিবি শ্রীধরন শ্রীরামকে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তার হাত ধরে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে তার অভিজ্ঞতায় নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের সঙ্গে ত্রিদেশীয় সিরিজেও দারুণ কিছুর আশা টাইগার টিম ম্যানেজমেন্টের।
তবে রাতারাতি পরিবর্তনের আশা করেন না সাকিব আল হাসান, ‘যদি আমরা মনে করি এক বা দুই দিনের মধ্যে সবকিছু পরিবর্তন করে ফেলব, তাহলে বুঝতে হবে আমরা বোকার স্বর্গে বসবাস করছি। বাস্তবসম্মত চিন্তা করলে, আমরা তিন মাসের মধ্যে একটা স্টেজে উন্নিত হব। যা আগামী বিশ্বকাপে ভালো ফল এনে দিতে সাহায্য করবে ‘
সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘দেখুন, আমরা প্রথম এই ধরনের সংস্করণ ২০০৬ সাল থেকে খেলেছিলাম। তারপর থেকে, এশিয়া কাপের ফাইনাল ছাড়া আমরা ভাল ফলাফল করতে পারিনি। আমরা সেই দিক থেকে এই সংস্করণে অনেক পিছিয়ে ছিলাম। তাই আমাদের একটা নতুন যাত্রা শুরু করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। একটি শিশু যেমন ধীরে ধীরে বড় হয়। প্রথমে হাটতে শেখে তারপর তার কাছে সব বিষয়গুলো সহজ হয়ে উঠে। টি-টোয়েন্টিতে আমরাও একটি শিশুর মতো। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাব।’
টি-টোয়েন্টির টেকনিক্যাল কনসালটেন্ট শ্রীধরন শ্রীরাম আসছেন আজ। তিনি রাতারাতি অলৌকিক কাজ করবেন না জানিয়ে সাকিব বলেন, আমি মনে করি না তিনি রাতারাতি অলৌকিক কিছু করে বসবেন। তবে তার কাছ থেকে অনেক কিছুই শেখার থাকবে। কারণ তিনি পাঁচ বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ায় মতো একটি দলের সঙ্গে ছিলেন। তার অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য অনেক সহায়ক হবে।’
সাকিব যোগ করে বলেন, এই এশিয়া কাপে কতটা পরিবর্তন আসবে তা বলা মুশকিল, কারণ আমাদের হাতে সময় খুব অল্প। তবে আমাদের কোচিং স্টাফ থেকে সাপোর্ট স্টাফ, বিসিবি, সমর্থক এমনকি গণমাধ্যমকর্মীদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তাহলে টি-টোয়েন্টিতে আমাদের নতুন যাত্রা শুরু হবে।’
