রাতে সন্তানকে জঙ্গলে ফেলে আসেন বাবা। আবার ওই শিশুর সৎমা মাঝেমধ্যেই দেন দেশলাইয়ের জ¦লন্ত কাঠি কিংবা উত্তপ্ত খুন্তির ছ্যাঁকা। কখনো ‘টাকা চুরির’ অপবাদে করা হয় বেদম মারধর। ঘটনাটি গাজীপুরের কালিয়াকৈরের পশ্চিম চান্দরা এলাকার। শিশুটিকে নির্যাতনের অভিযোগে গতকাল রবিবার সৎমাকে আটক করে পুলিশে দিয়েছেন এলাকাবাসী। নির্যাতনের শিকার নয় বছর বয়সী মেয়েশিশুটি কালিয়াকৈরের পশ্চিম চান্দরা এলাকার একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা মনিম জমাদ্দার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে এসে বাসা ভাড়া করে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে এখানে বসবাস করছিলেন।
এলাকাবাসী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির মা দুই সন্তানকে রেখে অন্যত্র চলে গেলে তাদের বাবা ফরিদপুরের মধুখালী থানার এক সন্তানের জননী বুবলি বেগমকে বিয়ে করেন। এত দিন নির্যাতনের শিকার শিশুটি দাদা-দাদির কাছে ছিল। মাস কয়েক আগে ভাইসহ ওই শিশুটিকে দিয়ে যাওয়া হয় তার বাবার নতুন সংসারে। বিভিন্ন সময় মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মেয়েটিকে মারধর করতেন তার সৎমা বুবলি। গত শুক্রবার রাতে স্ত্রীর কথামতো মনিরাকে পাশের একটি জঙ্গলে ফেলে আসেন বাবা মনিম জমাদ্দার। এরপর ওই রাতেই আবার তাকে বাসায় নিয়েও আসা হয়। কিন্তু পরদিন সকালে ওই শিশুকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা দেন বুবলি। এতে তার পিঠে বড় ফোসকা পড়ে। শিশুটি গতকাল রবিবার সকালে মাদ্রাসায় গেলে পিঠের ফোসকা দেখতে পেয়ে সবাইকে অবগত করেন মাদ্রাসাটির প্রিন্সিপাল। পরে সৎমা বুবলিকে আটক করে পুলিশে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার পুলিশ ওই শিশুকে উদ্ধার এবং বুবলিকে আটক করে। শিশুটির মুখম-লসহ শরীরের বিভন্ন স্থানে দেখা যায় নির্যাতনের চিহ্ন।
শিশুটির বাবা মনিম জমাদ্দার স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে রাতের বেলায় মেয়েকে পাশের জঙ্গলে ফেলে এসেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। বুবলি বলেন, সে ১০০ টাকা চুরি করেছিল। তাই রাগ সামলাতে না পেরে তাকে খুন্তির ছ্যাঁকা দিয়েছি। এর আগেও শাসন ও ভয় দেখাতে রাগের মাথায় ম্যাচের কাটিতে আগুন জ¦ালিয়ে তাকে দিতাম। রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারি নাই বলেই আমার এমন ভুল হয়েছে।’
কালিয়াকৈর থানার এসআই সাইফুর রহমান জানান, ওই শিশুকে উদ্ধারের পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
