এই বেশ ভালো আছি

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২২, ১২:৫১ এএম

প্রিয়দর্শিনী চিত্রনায়িকা মৌসুমী সম্প্রতি নতুন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। দুই যুগের বেশি লম্বা অভিনয় ক্যারিয়ারে শুধু সফলতাই পেয়েছেন। তাকে খুব একটা নেতিবাচক পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি কখনো। কিন্তু এবার ব্যক্তিজীবন, সংসার জীবন নিয়ে তাকে বেশ ভালোই মানসিক চাপ সামলাতে হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন কেমন আছেন তিনি। সময় কীভাবে কাটছে? জানতে চাইলে এই লাস্যময়ী তারকা বলেন, ‘ভালো আছি। অভিনয়, সামাজিক কাজ আর সংসার নিয়ে সময়টা ভালোই কেটে যাচ্ছে।’

প্রিয় তারকার মুখে এমন কথা শুনে নিশ্চয়ই ভক্তরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। মৌসুমী এখন বেশ কটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এর মধ্যে শিগগিরই মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে জাহিদ হোসেন পরিচালিত ‘সোনার চর’ চলচ্চিত্রটি। অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে কতটা পূর্ণ মনে করেন? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সত্যিকারের একজন শিল্পী অভিনয়ের পথচলায় নিজেকে কখনোই পরিপূর্ণ মনে করেন না। শিল্পীমনে নতুন নতুন চরিত্রে কাজ করার আকাক্সক্ষা থেকেই যায়। আমারও সেই অতৃপ্তি আছে, চ্যালেঞ্জিং আরও নতুন চরিত্রে কাজ করার ক্ষুধা আছে। হ্যাঁ, এটা সত্যি, একটি চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করে সাময়িক সময়ের জন্য ক্ষুধা নিবারণ হয়, কিন্তু পরে আবার সেই ক্ষুধা সৃষ্টি হয়। শিল্পীমন এমনই। তবে আমার কর্মজীবনের পূর্ণতা পাবে তখনই যখন দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, সমাজের অসহায় মানুষের জন্য কিছু করতে পারব।’ তিনি জানালেন নিজের স্বপ্নের চলচ্চিত্র ও চরিত্রের কথাও, ‘স্বপ্নের চলচ্চিত্র বা স্বপ্নের চরিত্রে এখনো কাজ করা হয়ে ওঠেনি। তবে এখনই স্বপ্নের চরিত্রটি নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না। স্বপ্নের কথা বলে দিলে তো অন্য কেউ সেটি নিয়ে নেবে। তাই সেটি আমার কাছেই থাক। স্বপ্নের চরিত্রে যদি কাজ না করতে পারি, তাহলে আমি নিজের হাতে সেই স্বপ্নের চরিত্রটি সৃষ্টি করব, আমি নিজেই সে চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করব।’

মৌসুমী ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত। তা ছাড়া করোনাকাল ও সাম্প্রতিক বন্যার সময় অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সামাজিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এই অভিনেত্রী জানালেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই আমাদের সবাইকে অবশ্যই শিশু ও নারীর প্রতি সহানুভূতিশীল ও শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। যদি আমরা এটা করতে পারি, তবেই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। অভিনয়ের পাশাপাশি নারী ও শিশুর জীবনমান উন্নয়নে মৌসুমী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও শিশুদের জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। ২০১৩ সালে ইউনিসেফ বাংলাদেশের ন্যাশনাল অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত হই। এরপর থেকে শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং শিশু ও মায়ের স্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি, জন্মনিবন্ধন, শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা ও শিশুর টিকাদান বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে ইউনিসেফের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন আপদে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। আসলে অভিনয় দিয়ে মানুষকে বিনোদন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আজীবন কাজ করে যেতে চাই।’

দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের মন জয় করে চলেছেন মৌসুমী। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির খাতা খুলতে বলা হলে তিনি স্বীকার করেন, ‘দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, দর্শকদের ভালোবাসা। শিল্পীজীবনে এত এত মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি, এর কোনো হিসাব মেলাতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি কি আসলেই এত বেশি ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য? যে মানুষটিকে আমি চিনি না, জানি না, সে মানুষটিই আমার অজান্তে আমাকে এত ভালোবাসতে পারে? ভাবতেই অবাক লাগে। আবার ভাবী, এ রকম ভালোবাসা একজন শিল্পীর প্রতি আছে। হতে পারে। এ রকম হয় বোধহয়।’ দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে জাতীয় রাজনীতিতে আসার ইচ্ছা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী ওমর সানী যদি চান এবং যদি কখনো মনে হয় যে, জাতীয় রাজনীতিতে আসা যেতে পারে, তখন এটা নিয়ে ভাবতে পারি। তবে তারও আগে এর ওপর আমার অনেক পড়াশোনাও করতে হতে পারে। যা-ই করি না কেন, একটু ভেবেচিন্তেই করতে হবে। সত্যি বলতে কী, এ বিষয়টি নিয়ে এখনো তেমন কিছু ভাবিনি। তবে চলচ্চিত্রেও রাজনীতি আছে। এই রাজনীতি কিন্তু আমি ভালোই বুঝি। কিন্তু এর সঙ্গে নিজেকে জড়াইনি কখনো। আমাকে নিয়ে চলচ্চিত্রে যেসব রাজনীতি হতো কিংবা যেসব প্রশ্ন উঠত, আমার কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর জানা ছিল। চাইলেই উত্তর দিতে পারতাম। কিন্তু দিতাম না। কারণ আমি শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকতাম। এসব রাজনীতি নিয়ে ভাবার সময় ছিল না। চলচ্চিত্রের রাজনীতিকে কখনোই আমলেও নিইনি। নিজের কাজেই মগ্ন ছিলাম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত