প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা আবারও ১৫ আগস্টের মতো আঘাত আসার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আঘাত আরও আসবে, জানি। যখন আমার আব্বা দেশটাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই তো ১৫ আগস্ট হয়েছে। আজকেও বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বাধীনতার চেতনায় জয় বাংলা ফিরে এসেছে। এগুলো যারা সহ্য করতে পারবে না, তারা বসে থাকবে না। তারা আঘাত করবে। বাংলাদেশকে আবারও জঙ্গিরাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করবে।’ সে বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১৮তম বার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল রবিবার সকালে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যায়ের সামনে এ সভা হয়, যেখানে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা হয়েছিল।
বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা বাংলাদেশেও পড়েছে এবং এ ধাক্কা সামলাতে সরকার নানান উদ্যোগ নিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা মাত্র ১৫ টাকা কেজি দরে ৩৫ লাখ মানুষকে চাল দেব। আর একটা রেশন কার্ডের ব্যবস্থা করে দেব। যার মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল ও চিনি দেওয়া হবেৃ। ১ কোটি পরিবার এই রেশন কার্ড পাবে। যার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে তারা পণ্য কিনতে পারবে। সেটার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি এবং অচিরেই এর ঘোষণা দিতে পারব।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘অর্থনৈতিক ধাক্কা সামাল দিতে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কারণ আমরা চাচ্ছি না আমাদের দেশের মানুষ কোনোরকম কষ্ট পাক। রাজনীতি করি তো জনগণের জন্য। জানি না আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছেন বারবার হয়তো এ দেশের কল্যাণের জন্য এবং এ দেশের মানুষের জন্যই।’
‘রাখে আল্লাহ মারে কে’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের এমন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে সামনাসামনি হয় গুলি না হয় বোমা, আর না হলে গাড়ি হামলার শিকার না হয়েছি। তারপরও বেঁচে এসেছি। দেশের কাজ করার চেষ্টা করছি।’
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বক্তৃতাগুলো অনুসরণ করবেন। কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখার আগে বলেছিল, আওয়ামী লীগ শত বছরেও ক্ষমতায় আসতে পারবে না। একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলার আগেশেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা, বিরোধী দলের নেতাও কোনো দিন হতে পারবে না। এগুলোর তো রেকর্ড আছে। এই বক্তৃতা সে আগাম দিল কীভাবে? যে বিরোধী দলের নেতা হতে পারব না। তার মানে আমাকে হত্যা করবে। এই পরিকল্পনাটা তারা নিয়ে ফেলেছে।’
বিএনপির সঙ্গে সমঝোতায় বিভিন্ন গোষ্ঠী সরকারকে চাপ দিচ্ছেএমন ইঙ্গিত করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এখন তাদের (বিএনপি) সঙ্গে বসতে হবে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের খাতির করতে হবে, তাদের ইলেকশনে আনতে হবেএত আহ্লাদ কেন আমি তো বুঝি না। বাংলাদেশে কি আর মানুষ নেই? অনেকে বিদেশিদের কাছে গিয়ে কান্নাকাটি...সেখানে থেকে এসে রিকোয়েস্ট করে, কোনোমতে তাদের একটু জায়গা দেওয়া যায় কি না? জায়গা দেবে কি দেবে না, সেটা ভাববে জনগণ, সেই সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশের জনগণ। তারা আবার সেই সন্ত্রাসের যুগে ফেরত যাবে, নাকি আজকে বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে, সেই উন্নয়নের যুগে থাকবেএই সিদ্ধান্ত তো জনগণকে নিতে হবে।’
আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যে দলের নেতাই নেই, সাজাপ্রাপ্ত অথবা পলাতক। তারা ইলেকশন করবে কী আর কীভাবে ভোট পাবে। ভোট কাকে দেখে দেবে, এটাই তো প্রশ্ন। তারপরও অনেক চক্রান্ত আছে। এখনো যেমন নানা রকমের চক্রান্ত। ইলেকশন সামনে এলেই তাদের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। কিন্তু এ দেশের মানুষের ওপর আমার আস্থা আছে, বিশ্বাস আছে।’
আওয়ামী লীগ প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বারবার আঘাতের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু আমরা সরকারে এসে তো রিভেঞ্জ নিতে যাইনি। আমরা তো ওদের ঘরবাড়ি দখল করতে যাইনি। হাতুড়ি দিয়েও পিটিয়ে মারিনি। কারাগারেও রাখিনি। কিছুই করিনি।’
একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বেঁচে ফেরাদের নতুন জন্ম হয়েছে উল্লেখ করে শেষ হাসিনা বলেন, ‘আজকে একুশে আগস্ট। হ্যাঁ, সেদিন আমাদের নতুন জন্ম হয়েছে; যারা সেদিন র্যালিতে ছিলাম। কিন্তু আমাদের দায়িত্ব জনগণের প্রতি। আর সেই দায়িত্ব যতক্ষণ পর্যন্ত নিঃশ্বাস আছে, পালন করে যাবসেটাই হচ্ছে আজকের প্রতিজ্ঞা।’
প্রধামন্ত্রী বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ধাক্কা মোকাবিলায় সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার যে ধাক্কা আমাদের ওপর এসেছে, তা থেকে দেশের মানুষকে কীভাবে রক্ষা করব, সেটাই আমাদের চিন্তা। এ জন্য সবার সহযোগিতাও দরকার। শুধু সমালোচনা আর কথা বললেই তো হবে না। সবাইকে কাজও করতে হবে।’
গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আয়োজিত সভায় বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, নুরুল ইসলাম নাহিদ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম প্রমুখ।
এ ছাড়া মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।
