রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে শিক্ষিকাকে দল বেঁধে ধর্ষণ

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ০১:০৫ এএম

কক্সবাজার সদর উপজেলায় রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে এক স্কুলশিক্ষিকাকে (২৫) দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই শিক্ষিকা তার এক আত্মীয়ের বিয়ের মেহেদি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর রামুর বাড়িতে ফিরছিলেন। গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনে দলবদ্ধ ধর্ষণের ওই ঘটনা ঘটে। তবে ধর্ষণের অভিযোগে শিক্ষিকার দেওয়া এজাহার থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে গত সোমবার রাত ১২টার দিকে। থানা পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে গড়িমসি করে বলে, অভিযোগ করেছেন ধর্ষণের শিকার ওই শিক্ষিকার এক স্বজন। এদিকে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলাটি করেন। জানা গেছে, কক্সবাজারে ধর্ষণের শিকার নারী জেলার রামু উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে কর্মরত। কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয়। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওই স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ধর্ষণের ঘটনাটি পরিবারের লোকজন জানলে তারা থানায় যোগাযোগ করেন। পরে পুলিশ মামলা নেওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ওই নারী শিক্ষিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়।

মামলার এজাহারের উদ্ধৃতি দিয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর মালিপাড়ায় এক ভাগ্নির মেহেদি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন ধর্ষণের শিকার স্কুলশিক্ষিকা। সেখানে তার পরিচয় হয় পিএমখালী ইউনিয়নের ছনখোলা ইউনূছঘোনা এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে বেদার মিয়ার (২৮) সঙ্গে। দুজন কিছুক্ষণ কথাও বলেন। এ সময় অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন-চারজনের সঙ্গে কথা হয় শিক্ষিকার। পরদিন শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ওই স্বজনের বাড়ি থেকে ইজিবাইকে চড়ে রামুতে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পথে ঝিলংজা ইউনিয়নের বাংলাবাজার ব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে বেদার ও তার সহযোগীরা ইজিবাইকটি গতিরোধ করে। তারা শিক্ষিকাকে টেনেহিঁচড়ে তাদের সঙ্গে থাকা আরেকটি ইজিবাইকে তুলে নেয়। এরপর অস্ত্র ঠেকিয়ে ওই ইউনিয়নেরই চান্দেরপাড়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে বেদারসহ তিনজন শিক্ষিকাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তখন শিক্ষিকা চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে তারা পালিয়ে যায়।

ধর্ষণের শিকার নারীর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্বজন গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনা জানার পর আমরা প্রথমে রামু থানায় যোগাযোগ করি। পরে যাই কক্সবাজার সদর মডেল থানায়। কিন্তু থানা মামলা নিতে চাচ্ছিল না। পরে সোমবার রাতে মামলা নিয়েছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সেলিম উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী নারীর এজাহার পাওয়ার পর মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম।’

আড়াইহাজারে পোশাককর্মী ধর্ষণ : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত সোমবার রাতে ওই নারী নিজে বাদী হয়ে আড়াইহাজার থানায় মামলাটি করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে টেটিয়া উলুকান্দা গ্রামের বাসিন্দা রহমত উল্লাহকে (২০)।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, রূপগঞ্জ উপজেলার একটি গার্মেন্টসে কাজ করার সুবাদে রহমত উল্লাহর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ধর্ষণের শিকার পোশাককর্মীর (১৭)। পরে তারা দুজন দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ফোনে কথা বলত। একপর্যায়ে প্রায় ১০ মাস আগে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়ির পাশে মোতালেবের টিনশেড ঘরে নিয়ে পোশাকর্মীকে ধর্ষণ করে রহমত উল্লাহ। এরপর বিয়ের কথা বলে একই জায়গায় নিয়ে আরও কয়েকবার ধর্ষণ করে। সর্বশেষ গত ১৪ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একই জায়গায় নিয়ে ধর্ষণের পর যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় রহমত উল্লাহ। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে থানায় মামলা করেন পোশাককর্মী।

আড়াইহাজার থানার ওসি আজিজুল হক হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মামলা নেওয়া হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত