জ্বালানির দাম কমাতে আমরণ অনশনে শিক্ষার্থী

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২২, ০১:১৭ এএম

দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন আল-আমিন আটিয়া নামে এক শিক্ষার্থী। তার দাবিজ্বালানি তেলের লিটারপ্রতি দাম ৮০ টাকার নিচে নামাতে হবে। এই দাবিতে গত এক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তিনি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা তার।

অনশনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে তাকে গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আল-আমিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মৃত্যু পর্যন্ত এই আন্দোলন থেকে পিছু হটব না।’ 

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৫ আগস্ট রাত থেকে দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম ৪২-৫২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে সরকার। লিটারপ্রতি পেট্রোলের দাম ৮৬ টাকা থেকে ১৩০ টাকা করা হয়। অকটেনের দাম ৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করায় এর প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়। বেড়ে যায় পরিবহন ব্যয়। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে কয়েকগুণ। দেশের জনগণের দুর্ভোগ কমাতেই নাগরিক হিসেবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান আল-আমিন।    

তিনি রাজধানীর সরকারি বাংলা কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী। গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলায়। রাজধানীতে লেখাপড়ার পাশাপাশি তিনি অনলাইনে পণ্য ডেলিভারির কাজ করেন। দেশে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর দাবিতে গত ১৬ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনশন শুরু করেন। অনশনের ১৭০ ঘণ্টার মাথায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি আছেন।  

সেখানেই গতকাল সন্ধ্যা ৬টায় দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিকে আল-আমিন বলেন, ‘রাজনৈতিক সংগঠনের হয়ে নয়, একজন ব্যক্তি হিসেবে এটা আমার অহিংস আন্দোলন। জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে সরকারকে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তেলের দাম সমন্বয় করে লিটারপ্রতি ৮০ টাকার নিচে নামিয়ে আনতে হবে। প্রয়োজনে জনগণের করের টাকা থেকে ভর্তুকি দিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তেলের দাম না কমা পর্যন্ত আমি অনশন ভাঙব না। এতে আমার মৃত্যু হলে দায় সরকারকেই নিতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য নিম্নমুখী হলেও সরকার দেশের বাজারে দাম কমাচ্ছে না। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম জনসাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাবার কেনা দূরে থাক, শিক্ষার স্বাভাবিক খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এর একমাত্র সমাধান হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম কমানো।’   

আন্দোলনকে ‘ব্যক্তিগত’ বললেও আল-আমিন ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তার এ আন্দোলনের বিষয়ে কথা হয় গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূরের সঙ্গে। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি প্রথমে তাকে এই আন্দোলনে নামতে নিরুৎসাহিত করেছিলাম। কারণ এই সরকার মানুষের দুঃখকষ্ট বোঝে না। তাই তার অনশনের মর্ম সরকার বুঝবে না। তবে নাগরিক দায়িত্ব থেকে শুরু করা তার এই আন্দোলনকে নৈতিকভাবে সমর্থন করেছি।’   

বর্তমানে আল-আমিন অধ্যাপক ডা. শওকত আলী আরমানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। এই চিকিৎসক বলেন, ‘তিনি অনশনে থাকার ফলে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে গেছেন। এই পর্যন্ত আমরা তাকে চারটি স্যালাইন দিয়েছি। সন্ধ্যার পর তাকে অনেক বুঝিয়ে নাক দিয়ে খাবার দেওয়া হয়েছে।’   

এই চিকিৎসক আরও জানান, আল-আমিনের পরিবার অনশন থেকে ফিরে আসতে বললেও তিনি তা করছেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত