প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট দলের চাওয়াকে গুরুত্ব দিয়ে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কীভাবে ভোট করলে সুষ্ঠু হবে সেটাই মুখ্য বিবেচনা ছিল। আগামী নির্বাচনে সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ১৫০ আসনে ইভিএমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ছাড়াও আমাদের নিজের একটি পর্যবেক্ষণ ছিল। ইভিএমে যাওয়ার একটা বড় সিদ্ধান্ত আমাদের নিজেদের।’
গতকাল বুধবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, ‘যারা ভোট দিতে আসবেন, সেটা আমাদের মুখ্য বিবেচনায় এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলো কে কী বলেছে, সেটা আমাদের মুখ্য বিবেচনায় আসেনি। কিন্তু বক্তব্যগুলো বিবেচনায় নিয়েছি। একই সঙ্গে যেসব ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগে কেন্দ্রে আসেন, তারা যেন আরও ভালোভাবে ভোট দিতে পারেন, তা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভোটটাকে হ্যান্ডল করবে রাজনৈতিক দল নয়, ভোটকে হ্যান্ডল করবে ইসি।’
ইভিএমে ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তে নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকট আরও ঘনীভূত হবে কি না এ প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘ভবিষ্যৎটা আমরা বলতে পারব না। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের আগের নির্বাচনগুলো নিয়েও আপনারা সংকটের কথা বলেছেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে সংকট হবে কি না, তা প্রেডিক্ট করার সাধ্য নেই। আপনারা ওয়েট করেন, আমরাও ওয়েট করি, দেখি সংকট কী হয়।’
এ সময় সিইসি নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমাদের পাঁচ মাসের বেশি সময় হয়ে গেল। আমরা ইভিএম নিয়ে চটজলদি কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। প্রথম থেকেই বলেছিলাম, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, কতটা নির্ভরযোগ্য, পরখ করে দেখার চেষ্টা করেছি। বিভিন্ন দল, টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের ডেকেছি, অনেকের মতামত নিয়েছি। এর ওপর নির্ভর করে, কমিশন সব দলের মতামত বিবেচনা করে শেষ পর্যন্ত ১৫০-১৫০ এভাবে ভাগ করে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ভোটে না আসার ঘোষণা দেওয়া বিএনপির বিষয়েও আগাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি নন সিইসি। তিনি বলেন, ‘তখন বিবেচনা করা হবে। উনারা যদি আসেন, তখন বসে সিদ্ধান্ত নেব।’
