স্বাস্থ্যমন্ত্রী বললেন

এখনো শনাক্তের বাইরে ১৫ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ০২:১৫ এএম

যক্ষ্মা প্রতিরোধে সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও এখনো ১৫ শতাংশ রোগী শনাক্তের বাইরে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দৈনিক যত মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ যক্ষ্মায় (টিবি) আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। টিবিতে দেশে দৈনিক প্রায় ১০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায়। আর করোনায় বর্তমানে দৈনিক এক-দুজন মারা যায়। সে হিসেবে টিবিতে মৃতের হার অনেক বেশি, কিন্তু সেটি আমরা খেয়ালই করি না।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কমিউনিটি রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার অ্যাকশন প্ল্যান ফর টিবি (২০২১-২৩) শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, দেশে ৩ লাখ ৬০ হাজার যক্ষ্মা রোগী আছে। তাদের মধ্যে শনাক্ত রোগী আছে ৩ লাখ ৭ হাজার। সে হিসাবে শনাক্তের বাইরে আছে ১৫ শতাংশ রোগী। তারা সুস্থ মানুষের মধ্যে এ রোগ ছড়াচ্ছে। আমাদের শনাক্তের হার বাড়াতে হবে। রোগী শনাক্তের পর ওষুধ ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া অনেক রোগী মাঝপথে ওষুধ ছেড়ে দেওয়ার কারণে নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা শনাক্তের বাইরে রয়েছে, তারা চিকিৎসা নিচ্ছে না। চিকিৎসা না নেওয়ার কারণে বহু সময় এ রোগের জীবাণু তারা বহন করছে এবং একই সমাজের অন্যজনের সঙ্গে চলাচলের সময় তা ছড়াচ্ছে। আমাদের অবশ্যই রোগী শনাক্তের ওপর আরও গুরুত্ব দিতে হবে। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে। নয়তো দেশে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হবে।’

জাহিদ মালেক বলেন, পৃথিবীতে প্রায় এক কোটি লোক টিবিতে আক্রান্ত, প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ লোক মারা যায়। আর দেশে প্রতি বছর ৪০ হাজারের মতো মানুষ মারা যায়, ৩ লাখ আক্রান্ত হয়। ক্যানসারে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ মারা যায়। কিডনিতেও সমানসংখ্যক মানুষ মারা যায়। আমরা অনেক রোগ বাংলাদেশে নিয়ন্ত্রণ করেছি। আমরা দেশকে পোলিওমুক্ত করেছি। কলেরা, ডায়রিয়া দূর করতে পেরেছি। দেশ টিটেনাসমুক্ত হয়েছে। টিবি নিয়ন্ত্রণেও যথেষ্ট কাজ করছি। আমাদের এখন সংক্রামক রোগের পাশাপাশি অসংক্রামক রোগ নিয়েও কাজ করতে হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, টিবিতে পজিটিভ বিষয় হলো, এটিকে আমরা নির্ণয় করতে পারছি। এটি একটি বড় বিষয়। কারণ, আপনি যদি নির্ণয় করতে পারেন, তাহলে এর চিকিৎসাও আছে। টিবিতে মৃত্যুর হার কমে আসছে। যক্ষ্মায় এখন ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশ লোক সুস্থ হয়ে যাচ্ছে। পৃথিবীতে যতগুলো দেশ আছে, এর মধ্যে যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণের তালিকায় বাংলাদেশ ৭ নম্বরে আছে। সেটি কিন্তু অনেক বেশি। আমরা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। চিকিৎসাব্যবস্থার উন্নয়ন করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে না, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কাজ করে। তাদের বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। এখন আর বলে কেউ বলে না যে যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই। যারা টিবি আক্রান্ত হয়ে মাঝপথে চিকিৎসা ছেড়ে দিচ্ছেন, তারা আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘টিবি রোগটা মূলত ঘিঞ্জি পরিবেশে বেশি হয়। যেসব এলাকায় লোকজন বেশি বাস করে, বিশেষ করে গার্মেন্টস এলাকায় টিবির হার বেশি। একজনের হলে সেটি অন্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়। কারণ, অসংখ্য লোক একসঙ্গে বসবাস করে।’

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে প্রতি বছর ৩ লাখের বেশি রোগী যুক্ত হচ্ছে। নতুন রোগী কমানো না গেলে টিবি নিয়ন্ত্রণে সরকারের যে লক্ষ্য, সেটি বাস্তবায়ন হবে না।

স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘টিবি রোগটি, বিশেষ করে বর্ডার এলাকায় বেশি। কক্সবাজারে মিয়ানমার থেকে আসাদের মাধ্যমে ওই এলাকায় বেশি ছড়াচ্ছে। সরকার এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কাজ করছে। এই রোগের চিকিৎসায় টাইমিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মমাফিক ওষুধ খেতে হয়। কমপ্লিট একটি শিডিউল মেনে চলতে হয়।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এ বি এম খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির, অধিদপ্তরের পরিচালক ও টিবি-ল্যাপ্রোসি অপারেশন প্ল্যানের লাইন ডিরেক্টর ডা. খুরশিদ আলমসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ সার্ভিস ডিভিশনের অতিরিক্ত সচিব নিলোফার নাজনীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত