আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বাধিক ১৫০ আসনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। বর্তমান ইসির ব্যাপারে তারা আগ্রহী নয় জানিয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেড়শ আসনে ইভিএম ব্যবহার করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি, তাতে প্রমাণ হয়েছে তারা সরকারের হয়ে কাজ করছে। নির্বাচনে আসন নিয়ে সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে। আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় রাখতে ইসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
গতকাল বুধবার বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের এক যৌথসভা শেষে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ যৌথসভা হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ইভিএমে নয়, ভোট হতে হবে সম্পূর্ণ ব্যালটে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গুমের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মানুষ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়।’ তিনি বলেন, ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। তার আগে সামগ্রিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নতুন কমিশনের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেশির ভাগ রাজনৈতিক দল এমনকি জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি (জাপা) পর্যন্ত ইসির সঙ্গে সংলাপে বলে এসেছে ইভিএম চায় না। কারণ ইভিএম দিয়ে জনগণের রায় সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে না। তারপরও বর্তমান যে ইসি করা হয়েছে, যাদের আমরা বলি অবৈধ। কারণ এই কমিশন গঠনও সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি।’
সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেলসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।
এর আগে গত মঙ্গলবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা, আলোচনা সভা, র্যালিসহ দুই দিনের কর্মসূচি পালন করবে দলটি। এ ছাড়া ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানববন্ধন পালিত হবে।
