শিল্পী সমিতিতে ‘মাহি-জেনিফার দ্বন্দ্ব’

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২২, ১০:৪০ পিএম

সরকারি অনুদানে নির্মিত ছবি ‘আশীর্বাদ’র মুক্তি সামনে রেখে এর নায়িকা মাহিয়া মাহি ও সহ-প্রযোজক জেনিফার ফেরদৌসের মধ্যে চলমান বিবাদ এখন সিনেমাপাড়ার অন্যতম আলোচিত বিষয়। প্রথম দিকে এই দ্বন্দ্ব আশীর্বাদ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে থাকলেও আস্তে আস্তে তা বৃহৎ আকার ধারণ করে। বিশেষ করে গত ২৪ আগস্ট এফডিসির সামনে জেনিফার ফেরদৌস নায়ক-নায়িকা ও পরিচালকদের নিয়ে ঢালাওভাবে যে ধরনের আপত্তিকর কথা বলেন তাতে নড়েনড়ে বসেছে পুরো ঢালিউড। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো, এখনো কোনো চলচ্চিত্র মুক্তি না পাওয়া এই সহ-প্রযোজকের পক্ষ নিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি। আর এতেই ঘটনা মোড় নিয়েছে অন্যদিকে। দেশের অনেক সিনিয়র শিল্পী, পরিচালক ও সাংবাদিকরা বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মত প্রকাশ করেছেন। অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস বলেন, ‘কে কত বড় তারকা, কত বড় পরিচালক, সিনেমায় কার গুরুত্ব কতখানি এসব না ভেবে আসুন এক হয়ে যাই।’ আরেক সিনিয়র অভিনেত্রী নূতন বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা খুবই অনাকাক্সিক্ষত। শিল্পীদের সম্মান এভাবে ধুলোয় লুটিয়ে গেলে আর কী বাকি থাকে। একটি দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা কিংবা শিল্পী, নির্মাতা বা প্রযোজকের জন্য কেন পুরো ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সম্মানহানি হবে? এ বিষয়ে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নেতাদের আরও আগে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল।’

মোস্তাফিজুর রহমান মানিকের পরিচালনায় ‘আশীর্বাদ’ সিনেমা মুক্তি উপলক্ষে কদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলন করেন জেনিফার ফেরদৌস। সেখানে তিনি শুধু মাহি নন, রোশানকে নিয়েও হেয় মন্তব্য করেন। পাল্টা সংবাদ সম্মেলন ডেকে মাহি অভিযোগ করেন, ‘সিনেমার জন্য ৬০ লাখ টাকা পেলেও জেনিফার এই টাকা পুরোপুরি খরচ করেননি। এমনকি শ্যুটিংয়ের বেশিরভাগ সদস্যের পারিশ্রমিক দেননি জেনিফার।’ মাহিয়া মাহি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ অভিনয় জীবনে অনেক প্রযোজক, পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। কারও সঙ্গে খুব ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে, কখনো তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। কিন্তু এই সিনেমার মতো এত তিক্ত অভিজ্ঞতা কখনোই হয়নি। আমি কখনো ভাবিনি, এরকম সাংবাদিক ডেকে সবাইকে এসব বিষয়ে কথা বলতে হবে। সরকারের কাছে অনুরোধ করব তারা কাদের সিনেমা প্রযোজনার অর্থ দিচ্ছে সেটা যেন যাচাই করা হয়। আমি তো প্রযোজককে দেখে অভিনয় করতে আসিনি। সিনেমায় ৬০ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিল সরকার। কিন্তু আমার ধারণা এই সিনেমা বানাতে ২৫ লাখ টাকাও খরচ করেননি প্রযোজক।’ তার পরিপ্রেক্ষিতে আবারও একটি সংবাদ সম্মেলন ডেকে মাহি, রোশান ও নির্মাতার বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ আনেন জেনিফার। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেন- শিল্পী ও নির্মাতার অপপ্রচারের কারণে তার সিনেমাটি এখন হল পাচ্ছে না।

সম্প্রতি এ নিয়ে শিল্পী সমিতির কাছে প্রযোজক জেনিফারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ ও প্রতিবাদলিপিও জমা দিয়েছিলেন নায়িকা মাহিয়া মাহি। মঙ্গলবার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এ অভিযোগ করেন মাহি। অভিযোগপত্রে মাহি লিখেছেন, “সম্প্রতি ‘আশীর্বাদ’ সিনেমার প্রযোজক জনাব তাহেরা ফেরদৌস জেনিফার আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ এনে বাজে মন্তব্য করে যাচ্ছেন। যে সব মন্তব্য ইতিমধ্যেই ইউটিউবসহ সোশ্যাল মিডিয়া ও গণমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সেই সঙ্গে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করারও হুমকি দিচ্ছে তারা।” প্রযোজক জেনিফারের এই সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ও জিঘাংসামূলক জানিয়ে মাহি অভিযোগপত্রে লেখেন, ‘প্রযোজক জেনিফারের এই সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ও জিঘাংসামূলক কর্মকা-ে আমি বিব্রত। এতে আমার মানহানি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, তার এই সব বক্তব্যে জনমনে শিল্পীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এটা সব চলচ্চিত্র শিল্পীদের ইমেজকেই ক্ষুণœ করছে। আমাকে হেয় করাসহ জেনিফার ফেরদৌসের এই সব বিতর্কিত কর্মকা-ের প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’ সবশেষ এই নায়িকা বলেন, ‘এমতাবস্থায় জনাবের কাছে আকুল আবেদন প্রযোজক জেনিফার ফেরদৌসের বিতর্কিত কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। সেই সঙ্গে আমাকে মানহানি করার বিচার করে শিল্পীদের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখার অনুরোধ জানাচ্ছি।’

তার ক’দিন পরই বাংলাদেশ শিল্পী সমিতি এই বিবাদ নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে এক বার্তায় জানিয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল সন্ধ্যায় শিল্পী সমিতিতে সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, আজ ২৬ আগস্ট মুক্তি পাচ্ছে ‘আশীর্বাদ’। সিনেমাটি ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৬০ লাখ টাকা সরকারি অনুদান পায়। সিনেমাটির সংলাপ লিখেছেন আব্দুল্লাহ জহির বাবু। এতে রোশান ও মাহি ছাড়া আরও অভিনয় করেছেন কাজী হায়াৎ, রেহানা জোলি, রেবেকা, শাহনূর, সায়েম সামাদ, সীমান্ত প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত